হিয়া মুখোপাধ্যায়-এর কবিতা

Spread This
হিয়া মুখোপাধ্যায়

হিয়া মুখোপাধ্যায়

সিলভিয়া প্লাথের জন্য 
 
 
হে অনাগতা, অসতর্ক, অবিশ্বাস্য, অক্ষরবৃত্তের ডার্ক এঞ্জেল! এই পরিমিত-স্মিত সমবেত লাট-উল্লাট ছায়াঘন বৌদ্ধিক বাজারে হুইসেল ড্রাম ধ্বনির মত আমি তোমাকে কামনা করছি। এই ত্যাঁড়ছা ও ঘিনঘিনে পেচ্ছাপময় মাদুলীতে, এই তামসিক ব্রীড়া ও বীর্যময় জলাধারে, এই টেস্টোস্টেরনিক প্রতি-বীক্ষেপের প্রেক্ষাপটে আমি তোমাকে কামনা করছি। কামনা করছি ডেলিরিয়ম, মাথাহিম লোবোটোমি ও তাৎক্ষনিক এক একটি গসপেল। ওই যেথা জনান্তিকে, ওই যেথা চূড়ায় মিনার বেঁধে সম্মিলিত কবিকুল কুলুকুলু বয়। ওই যেথা সাম্মানিক প্রতিস্পর্ধা ও অনন্য ঝিনঝ্যাক প্যালা দিয়ে ওঠে। বিরুপাক্ষ খাবি খায়, চেতনায় নির্ভেজাল ধাতু-চচ্চড়ি খলবল করে। ওই যেথা হ্লাদিনী সকাশে অহো চটি, আহা চটি, মৃদু চটি, ট্যাঁড়া ও অযৌক্তিক, ও সর্বোপরি সার্বভৌমিক শত চটি বিকশিত হয়। হে অযাচিতা, অনিবার্য, অক্ষৌহিণী মুণ্ডমালিনী, আমি এসকল যৌথ বেশ্যাবৃত্তির উপপ্রান্তে হ্যান্ড গ্রেনেডের মত তোমাকে কামনা করছি। যেভাবে কামনা করি ধন্বন্তরি ভাইব্রেটর,  মাসিকের উপশমে প্যারাসিটামল,  অথবা নিতান্ত আলাপী ও আদুরে/ যত্নশীল ও মোক্ষম একটি অন্তর্বাস (বড়ই অভাব)। যেভাবে প্রতিটি লেডিজ লিভাইজে আমি কামনা করেছি একটি কার্যকারি পকেট ও তালুতে সুইস নাইফের হিসহিসে ট্রিপ। হে অবলিভিয়াস, হে অহমিকা, হে নিদারুণ অ্যাড্রিনালিন ঢেউ, এই মুহূর্তে  আমার সমূহ আঁকশি ও নখের ডগায় আমি তোমায় কামনা করছি। আমি য্যানো যথাযথ বেহায়া ও ছিনাল হয়ে ওপাড়ার পরিপাটি সেজ কবিটির তেলতেলে গালে একটি পরিপূর্ণ ও দুর্বিনীত মধ্যমা এঁকে দিতে পারি। হে আদিম ও অসীম, আমি য্যানো অবশেষে, অবশেষে, বৈকল্যের চোখে চোখ রেখে কন্ঠা উগড়ে চিৎকার করে উঠতে পারি…’আর এইটা…এইটা আমাদের সিলভিয়ার জন্য।’
 
 
‘দ্য আননোন সেন্ট’
 

গুপ্তধন লুকোতে তুমি এসেছো। এ প্রদেশ মূলত বালির, নুড়ির। এবং ভবিষ্যদ্রষ্টা এক সন্তের। জনশ্রুতি, তর্জনীর ইশারাতেই তিনি নদীর গতিপথ বদলে দিতেন। অবশ্য ইদানীং বেশ কিছু শতাব্দী যাবতই তিনি নির্বাক। আপাতত শুধু পার্ট টাইম গাইডের ক্ষয়াটে হাসি। শুধু কাচ আর পুঁতির মামুলি সুভিন্যির আর বয়স্ক কুকুরের শ্বাসনালীর ঘরঘর আওয়াজ। ঊর্ধের অনর্থক মেঘেদের মতই। অবান্তর। বৃষ্টিপাতহীন। ম্যুরালের উত্তাপের নীচে টিবি রোগীর ঘষা খাওয়া মুখ। গজের প্রলেপের নীচে থম মারা  যুদ্ধ বিগ্রহ। শাটার ঘুরিয়ে তুমি ‘বাঃ’ বলে উঠলে একাই। মদ আর শুয়োরের দরদামে বিকেল গড়ালো।  সান্ধ্য প্রেয়ারের কিছু আগেভাগেই। ‘রাস্তায় ধাবা পাবো?’, তোমার উৎসুক গগলস-এ কামীন যুবতীর চুল। অন্ধকার কোলমাইনের মত। নিস্পৃহ। নিরুত্তেজক। এ মুখোশে তুমিও তো, খুব সন্তপর্ণে, পা টিপে, গুপ্তধন লুকোতে  এসেছো। গুপ্তধন লুকিয়ে ফিরে যাবে। ‘আপনি কি অনেক বড় কবি, ম্যাম?’ ভিউ ফাইন্ডারে অনেকটা কষ্ট করে হাসির আওয়াজ। ‘নুড়িপাহাড়ের সন্ত, শালা কোন যুগে মরে হেজে ভূত হয়ে গ্যাছে।’ -গাড়ী স্টার্ট দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে তুমি ভাবো। এখানে কেউই, সত্যি সত্যি,  ডিকি খুলে দেখতে চাইবে না ঠিক কতগুলো লাশ তুমি লুকিয়ে রেখেছো।