অরুণাভ দাস-এর ভ্রমণ

Spread This
অরুণাভ দাস

অরুণাভ দাস

দিল্লি থেকে সিমলা, একটি খাদ্যসফর

অন্তত দশবার একই ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতেও বিলক্ষণ ঘটবে। শিয়ালদা বা কলকাতা রাজধানী এক্সপ্রেস ঠিক সময়ে বা লেট করে নিউ দিল্লি স্টেশনে ঢুকলে, আমরা গাড়িতে বাকি পথের লম্বা যাত্রা ভুলে আজমেরি গেটের দিকে না গিয়ে পাহাড়গঞ্জের দিক দিয়ে বাইরে বেরবই। এ এক অদম্য টান, দিল্লির বিখ্যাত পরাঠাওয়ালা গলির প্রতি, পাহাড়গঞ্জের বিচিত্র সব রাস্তার খাবারের প্রতি। রাজধানীর ব্রেকফাস্টে পেট ভরে নাকি? উপরন্তু কাঁচা পাঁউরুটি সহ্য করতে পারি না বলে ছুঁয়েও দেখি না। তাই ট্রেন থেকে নামার সময় পেটে ছুঁচোর ডন-বৈঠক না হোক, নাচানাচি তো চলতেই থাকে। এটা-ওটা খেয়ে এবং দিল্লি স্টাইলের ফ্রায়েড চিকেনের জন্য বিস্তর হাহাকার করে (কারণ এটা বিকেলের দিকে পাওয়া যায়) যখন অবশেষে আজমেরি গেটের দিকে পার্ক করা গাড়ি ও দিল্লিওয়ালা বাঙালি বন্ধু তপনদাকে খুঁজে নেব, তখন বেলা বেড়ে গিয়েছে। আর বিলম্ব না করে ডিকিতে লাগেজ ঠেসে দিয়ে লাফাযাত্রা শুরু। সিমলায় যাত্রাবিরতির পরিকল্পনা থাকলে সন্ধে সন্ধে পৌঁছে যাব। কিন্তু নারকান্ডা গন্তব্য হলে পৌঁছতে প্রায় মাঝরাত। এখন অবশ্য কালকাকে বাইপাস করা যাচ্ছে। ২০০৭-০৮ পর্যন্ত ঘিঞ্জি কালকা শহরের ভিড়ভাট্টা জয় করে সিমলা ঢুকতে রাত নটা-দশটা বেজে যেত। তখন কিন্নরের পথে বার চারেক যাত্রাবিরতি করেছি নারকান্ডায় রাত দেড়টা-দুটোয়। ওরে বাবা, জুন মাসেও সে কী কনকনে ঠাণ্ডা।
     দিল্লি ছাড়িয়ে হরিয়ানা ঢোকার একটু পর পৌঁছে যাই মুরথাল। উত্তর ভারতের এই অংশের তামাম খাদ্যরসিকের পীঠস্থান। হাইওয়ের দুপাশে একের পর এক বিশাল বিশাল ধাবা, রেস্তোঁরা, খাদ্যবস্তুর মল। নামেই ধাবা। গাড়ি থামিয়ে ভেতরে ঢুকলে সাজ ও আয়োজন-আয়তন দেখলে চক্ষু চড়কগাছ হতে বাধ্য৷ নিরামিষ ভোজনরসিকদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় শিব ধাবা আর আমিষপ্রেমিদের প্রিয় ঠিকানা প্রাসাদোপম হাভেলি রেস্তোঁরা। দিল্লিতে নেমে এক পেট খাওয়ার ফলে মুরথালের আয়োজনে আমাদের আর রুচি আসে না। বড়োজোর শিব ধাবায় দাঁড়িয়ে ওদের হোম মেড আইসক্রিম খাই। দুপুর গড়িয়ে বিকেলের দিকে ঢললে কোনো ছোটো ফুড জয়েন্টে দাঁড়িয়ে পনির বাটার মশলা কী মালাই কোফতা সহযোগে রুটি-পরোটা সাঁটিয়ে পাহাড়মুখো ফাইনাল ল্যাপের দৌড়।
সিমলা ঢুকতে সন্ধে পার মাঝে কিয়ারিঘাট বাংলোয় চা পানের বিরতি। রাস্তার ঢালে পাহাড়ের ঝুলবারান্দায় প্রশস্ত লনওয়ালা হিমাচল ট্যুরিজমের এই হেরিটেজ প্রপার্টি আপাদমস্তক ইতিহাসের গন্ধ নিয়ে দাঁড়িয়ে। ব্রিটিশ আমলে যখন সাহেবরা ঘোড়ায় চড়ে কালকা থেকে সিমলা যেত তখন এই কিয়ারিঘাট বাংলো ছিল মাঝপথে রাত যাপনের ও ঘোড়া বদলের জায়গা। একবার দিল্লি ফেরার পথে এক রাত এখানে ছিলাম। বাবুর্চির হাতে পাকানো মোগলাই ডিনারের স্বাদ অন্তত দশ বছর মুখে লেগে আছে। সিমলা পর্যন্ত এই রাস্তার ধারে প্রচুর জুস বার। নানারকম পাহাড়ি ফলের টাটকা রস মেলে সারা বছর। তবে হিমাচলে ফ্রুট জুস প্রেমিদের সেরা ঠিকানা সিমলার কাছেই ফলবাগিচার শহর মাসোবরা। আশপাশের গাছ থেকে পেড়ে আনা টাটকা ফলের রসের অগণিত বিপনী রাস্তার দুধারে। এখানেই পাহাড়ের ওপরে ভারতের অন্যতম দামি হোটেল ওয়াইল্ড ফ্লাওয়ার হল, একদা ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কিচেনারের আবাস ছিল।
     সিমলা শহর চোখের আরাম দেয়, এমন বলা যাবে না। কংক্রিটের অরণ্য ক্রমবর্ধমান। পালাই পালাই ডাক হিমালয়ের। জাখু পাহাড়ের মাথায় উঠলে বা সামার হিলের পথে হাঁটলে তবেই প্রকৃতির সান্নিধ্যে দু’দণ্ড শান্তি। আসলে হিমাচল প্রদেশের আরো গভীরে যাওয়ার আগে বা পরে রাজ্যের রাজধানীতে দু-এক রাত কাটাই রসনাতৃপ্তির জন্য। এবং সেটা একান্তই স্ট্রিট ফুডের প্রতি প্রেম। হিমালয়ের আরো গহনে যত ঢোকা যাবে, লোকসংখ্যার মতো রাস্তার খাবারের প্রাচুর্য ও বৈচিত্র‍্য ততই কমে আসবে। রাস্তায় খিদে পেলে রাজমা-চাউল বা কারি-চাউল ভরসা। কোথাও পরোটা আচার ও টকদই। কিন্তু জনবহুল সিমলা, মানালি, ম্যাকলেয়েডগঞ্জের ব্যাপারই আলাদা। এ সব হিলস্টেশনে বিচিত্র ধরনের রাস্তার খাবার চেখে দিনের পর দিন কাটিয়ে দেওয়া যায়। কোনোটা বিদেশ থেকে আমদানির হিমাচলি সংস্করণ, কোনোটার আবেদন সর্বভারতীয়, আবার কয়েকটা একান্তই হিমাচলি বা পাহাড়ি ডেলিকেসি। ঝাঁ-চকচকে হোটেল রেস্তোঁরার তুলনায় দামে পকেটসই, স্বাদে ও মানে অতুলনীয়।
শীতের শহর সিমলায় সমতলের অতিথিদের ঘুম ভাঙে একটু বেলা করে। উঠতেই খিদে খিদে পায়। চা-বিস্কিটের পর হোটেলের সেট ব্রেকফাস্টে মন ওঠে না। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়ি। বাইরে প্রাণপ্রাচুর্যে তখনই ঝলমল করছে হিমাচলের রাজধানী। যত বেলা বাড়বে, ততই বাড়বে ব্যস্ততা। শুধু তো পর্যটক নয়, কত কাজে শত ধান্দায় লোকজন পথে নামে। জমজমাট বাজারের ভেতর দিয়ে ওপরদিকে হাঁটা। শাকসবজি ও ফলের রকমফের দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। চড়াই, সে যতই হালকা হোক, খিদে বাড়িয়ে দেয়। বেশি হাঁটতে হল না। প্রথম পড়াও লক্কর বাজারে সীতারাম এন্ড সন। সিমলার অন্যতম প্রাচীন ধাবা স্টাইল স্ট্রিট ফুড স্টল। রিগ্যাল বিল্ডিংয়ের কাছে এন সি কমপ্লেক্স-এ। ব্রিটিশ আমল থেকে এখানকার চানা-বাটুরা, ভেজ টিক্কি ও বাঙালির প্রিয় পুরি-ভাজি বিখ্যাত। অনুপম খের ও প্রীতি জিন্টার মতো সেলিব্রেটিরা আজও সিমলা সফরে সীতারামের চানা-বাটুরা খাবেনই। সকাল সাড়ে দশটায় তেমন ভিড় নেই। প্লেট হাতে আড্ডা জমে গেল। অপূর্ব স্বাদ চানা মশলার, কিন্তু বাটুরা আমরা যেমন খাই তেমন নয়। অনেকটা বড়ো লুচির মতো, কিন্তু অত্যন্ত পেলব। এদের পারাটি কুলচা নামে আরেকটি পদও সিমলায় বিখ্যাত।
     সীতারাম এন্ড সন থেকে সামান্য দূরে লক্কর বাজারের ব্যস্ততম এলাকা ডি আর সি কমপ্লেক্সে শর্মাজ বার্গার এন্ড টিক্কি কর্নার। কত বড়ো দোকান হবে? ১০ ফুট বাই ৬ ফুট, কিন্তু সকাল থেকে বিক্রির বহর দেখলে চক্ষু চড়কগাছ। অনেক হিমাচলিকেও দেখেছি শর্মাজ-এ ব্রেকফাস্ট ও বিকেলের টিফিন খেতে লাইন দিতে। অনেকবারের সফরে খেতে দাঁড়াই বা না দাঁড়াই, এই ফুড স্টলটিকে কখনো খালি থাকতে দেখিনি। এদের মন্ত্রগুপ্তি খাবারের স্বাদের সঙ্গে মালিকের অতি অমায়িক ব্যবহার। শর্মাজেই পাবেন হিমাচলি সিড্ডু। পুরভরা বার্গার সদৃশ বস্তু, চাটনি ও মেয়োনিজ সহযোগে খেতে হয়। এক প্লেট ৮০ টাকা। এছাড়াও হটডগের হট সেল। কুরকি, স্যান্ডুইচ, বার্গার, টিক্কি সবই বিকোচ্ছে মুড়ি-মুড়কির মতো। সিড্ডু একটা করে খেলাম। ৫০ টাকা। তারপর এক প্লেট কুরকি। ৪০ টাকা। কুরকি হল ভেজিটেবল কাটলেটের হিমাচলি সংস্করণ। দুটো আঙুলের সমান সরু ও লম্বা করে বানানো। এর সঙ্গেও দেওয়া হয় পর্যাপ্ত পরিমানে মেয়োনিজ ও মশলাদার এক ধরনের চাটনি। কুরকির আরো বিখ্যাত দোকান আছে সিমলায়। বিকেলের দিকে গেলেই হল। আপাতত বেলা বাড়ছে। পেটের শান্তি হল মানে মলে ঘুরতে যেতে হবে এবার। কালীবাড়ি পর্যন্ত হাঁটব। গাড়ি নিয়ে জাখু পাহাড়ের ওপরে মন্দির দেখে আসতে পারি। ঘোড়ায় চড়তেও বাধা নেই। কিন্তু কয়েক পা হাঁটার পর এক বন্ধু বায়না ধরল, মশলাদার নানা কিছু তো খাওয়া হল, এইবার টক-মিষ্টি অন্যরকম কিছু মুখে দিলে মন্দ হয় না। বাকি সকলে সম্মত হতে ওদের নিয়ে গেলাম ঠাকুর ভ্রাতা নামে শহরের অন্যতম পুরনো ও বিখ্যাত আচার-মোরব্বার দোকানে। এটাও মল রোডে। স্থানীয় যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলে রাস্তা দেখিয়ে দেবে। এ দোকান একসময় ব্রিটিশ মেমসাহেবদের প্রিয় ছিল। অনেক রকমের আচার মোরব্বার বাহারি আয়োজন। পুরনো রেসিপিতে বদল এসেছে সামান্যই। আমলা মোরব্বা ও গাজরের মোরব্বা পরখ করি। ২৮০-৩০০ টাকা কেজি।
মলে ও তার আশেপাশে অনেক ঘোরাঘুরি হল। সিমলায় হটডগ ও বার্গারের রোডসাইড দোকান এতই যে, খিদে পাওয়া মাত্র হাতের কাছে পঞ্চাশ-একশ মিটারের মধ্যে একটা না একটা মিলে যাবে। দোকান যতই অকিঞ্চিৎকর হোক না কেন, কারো স্বাদ ও মান নিয়ে অভিযোগ করার জায়গা নেই। ৪০-৫০ টাকায় আর কোন হিলস্টেশনেই বা দুপুরে খাওয়া যায়। কিন্তু এতে পুরো পেট ভরে এমন নয়। তাই ঘোরাঘুরি ছেড়ে নতুনতর খাদ্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ি। এবার আরামদায়ক উৎরাই৷ শের-এ পাঞ্জাব ছাড়িয়ে পায়ে পায়ে মেহেরচাঁদ ব্রাদার্সে। সবাই ভালোবেসে বলে ‘মেরুজ।’ ১৯০২ সালে স্থাপিত সিমলার প্রাচীনতম মিষ্টির দোকান। ভিড় লেগেই আছে। পুরনো রেসিপির জায়গায় আধুনিকতা এসেছে। কিন্তু বৈচিত্র‍্যে আজও অতুলনীয়। যা যা খেলামঃ দুধ মালাই ও কোকোর সংমিশ্রণে তৈরি ছোটো বর্গাকার চকলেট ৪০০ টাকা কেজি, শুকনো নারকেল ও অন্যান্য ফল দিয়ে তৈরি পাঞ্জিরি লাড্ডু ৮০০ টাকা কেজি, চিনি ও বেসনের বরফি মেহেসু ৩৬০ টাকা কেজি, কাজু কুলফি ৮২০ টাকা কেজি। স্থানীয়দের দেখলাম বেশি রসমালাই ও গাজরের হালুয়া খেতে। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, সিমলার সেরা হট গুলাবজামুন পাওয়া যায় টাউন হলের বিপরীতে বালজিস নামের দোকানে। প্লেটে ২টো থাকে, দাম ৬০ টাকা।
     দুই-এক বন্ধুর একলপ্তে এত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস নেই। তাদের বায়না মশলাদার ঝাল-নোনতা কিছু খেতেই হবে। সেটা কুরকি হলে মন্দ হয় না। ওদের নিয়ে গেলাম কাছেই আরেক পুরনো ও নামি স্ট্রিট ফুডের দোকানে। আসলে বেকারি। কিন্তু এদের কুরকি ও মোমো দারুণ জনপ্রিয়। মল রোডের কৃষ্ণা বেকারি। ভিড় ঠেলে প্লেট নেওয়াই কঠিন। এখানে কুরকির প্লেট ৫০ টাকা, অনেকটা করে মেয়োনিজ দেয় সঙ্গে। মোমোর সঙ্গে মেয়োনিজ ছাড়াও দেওয়া হয় লঙ্কার আচার ও পুদিনার চাটনি। মনে পড়ে যায়, আগেরবার আরেকটা দোকানে সুস্বাদু কুরকি ও মোমো খেয়েছিলাম বেশ কম দামে। দোকানের দাম ড্রিগেন। লোয়ার বাজারে ঢোকার মুখে হঠাত খুঁজে পাওয়া। এদের ভেজ চাইনিজ ফুডেরও বেশ নামডাক আছে।
     কুরকি খাওয়া হলে একজন বায়না ধরল, শীতের দেশে আইসক্রিম খাব না, তা কি হয়? আবার পুরনো পথে ফিরে যাওয়া এমব্যাসি আইসক্রিমসে। এরাই সিমলায় সবচেয়ে খ্যাতনামা আইসক্রিম বিক্রেতা। সফটির দাম ২০ টাকা থেকে শুরু। ৮০ টাকায় ফ্রুট সান্ডি সাঁটালাম। তারপর আবার সোজা মলে। বিকেলের আলোয় আর রঙিন মানুষের ভিড়ে চেনা জায়গাটা নতুন হয়ে ধরা দিল। কখনো কখনো ভিড়ে হারিয়ে যেতে ভালো লাগে। যেমন, এই গোধুলিবেলার সিমলা। ভিড়ের লেজ ধরে লাইব্রেরির পাশ দিয়ে পায়ে পায়ে উঠে যাই। দু মিনিট হাঁটলে টাক্কা বেঞ্চ। ভিউপয়েন্ট থেকে লোয়ার সিমলা যেন পটে আঁকা ছবি। কিন্তু এখানে সকলে আসে গোলগাপ্পা, ভেলপুরি, চাট খেতে। মেলার পরিবেশ। গোলগাপ্পা বা ফুচকা সারা দেশে পাওয়া যায়৷ কিন্তু প্রতিটি জায়গার আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য আলাদা। সিমলার গোলগাপ্পা পরিবেশিত হয় দু’তিন রকমের উপাদেয় চাটনি সহযোগে৷ ৫ টার প্লেট ৩০ টাকা। দই-ফুচকা ৪০-৫০ টাকা। এই টাক্কা বেঞ্চে আছে ১৯৪৮ সালে স্থাপিত সিমলার সবচেয়ে পুরনো ফ্রুট চাটের দোকান। কিন্তু এতবারের সফরে একবারও খাওয়া হয়ে ওঠেনি। যেমন, আজ যাওয়া হল না সিমলার আর এক প্রিয় ঠেক বা ঠিকানা ঠান্ডা সড়কের চৌরা ময়দান এলাকায় ভার্মা টি স্টলে। সিমলার ক্রমবিলীয়মান বনভূমির খানিকটা অবশিষ্ট আছে এখানে, চা দোকানের অতীত গরিমার মতো। ভার্মা টি স্টল ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েদের কাছে পরিচিত কেওয়াল কা ধাবা নামে। কেওয়াল (কেবল) ও সামসের সিং ব্রিটিশ আমলে এই রোডসাইড বিপনী গড়ে তোলেন। এখন চালাচ্ছেন এদেরই পঞ্চম প্রজন্ম। আগে নাকি ভাঙাচোরা ঝুপড়ি ছিল। লর্ড মাউন্টব্যাটেন চা পান করে এমনই অভিভূত হন যে, দোকান পাকা করার টাকা দেন। এখানে সকলে চায়ের সঙ্গে বাটার বান খান। চায়ের দাম ৬ টাকা ও বাটার বান ১৪ টাকা। সকাল ৭টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা ভার্মা টি স্টল।
     সন্ধ্যেয় আলো ঝলমল মল থেকে খানিক হেঁটে কালীবাড়ি পৌঁছে যাই। বাঙালির প্রিয় ঠিকানা। সিমলা কালীবাড়িতে কুপন কিনে খাওয়া। আমরা কখনো দুপুরে খাইনি। ম্যালে ঘোরার ফাঁকে বিকেল বেলায় কুপন কেটে রাখতাম, আটটার পর গুটিগুটি খেতে যেতাম। সিজনে গেলে মনে হয়, পুরো বাংলাটাই উঠে এসেছে সিমলায়। একদল লোক হাইবেঞ্চ লো বেঞ্চে বসে খাচ্ছে, আরো বড়ো একটা দল করিডোরে অপেক্ষারত। আয়োজক ও পরিবেশকরা হিমশিম। ভোজনরসিক বাঙালির মহা মিলনমেলা। এমনিতে বেড়াতে গিয়ে বাঙালি খাবার আমি সাধারণত খাই না। সেখানকার নিজস্ব ঘরানার খাবার খেতে চেষ্টা করি। কিন্তু সিমলা কালীবাড়িতে খেতে যাই এই পরিবেশটার জন্য। পরিবেশের গুণে চিরচেনা বাঙালি পদগুলো নতুন করে ভালো লাগে। এই খাওয়াটা তাই আমার কাছে শুধু ভোজন নয়, অন্য একটা চির চেনা কিন্তু কোথায় যেন অচেনা পরিমণ্ডলে কিছু সময়ের জন্য পৌঁছে যাওয়া।
সঙ্গের ছবি সব অন্তর্জাল থেকে পাওয়া।