রাজীব ঘোষাল-এর কবিতা

Spread This
রাজীব ঘোষাল

রাজীব ঘোষাল

১ ]উপহার 
 
দু’হাতে পয়মন্ত গ্রাম জড়ো করতে করতে
বেদনা বাজায় শূন্যগর্ভ ধানশিষ,
এক-চুল আগে অথবা পরে নিমেষ চিহ্নগুলি
পার করে মেঘ ও ভূট্টাক্ষেত …
 
খুব মনখারাপ পাহাড়চূড়ায় ওঠে,
বানসা পাহাড় উপহার দেবার
সাহস ফুরিয়ে আসে।
চোখে জ্বলে কান্না হাসির দাগ
আকুল বৃষ্টি-প্রার্থনা … 
 
 
২] অন্তর্ধান
 
গৃহস্থের ফেলে দেওয়া ভাত
সারা গায়ে মেখে, পথে নেমেছে ঝুমুরিয়া
তার না কি সোনার অঙ্গ চাই!
 
খড়কুটো দিয়ে বানানো পাখির বাসায়
তার বিশ্রাম,
ঠোঁট থেকে ঝরে পড়ছে বাঁশি,
 
চুলে বিলি কাটে গোধূলি রাগ
 
এমন দিনে হাজরা জেঠুর কথা ভাবি
কোথায় বাবুই ঘাসে তাঁর অন্তর্ধান লেখা হয়… 
 
৩ ] রাজা তো আসলে
 
প্রজাপতি বাগানে অজস্র রংয়ের খেলা … 
যেন সমস্ত ফুলের রং শোষণ করে
চৈতালি দেবীটি বসেছে পায়ের উপর পা তুলে
 
আজ কোনো কাজ নেই রাজার, লেখনী হাতে
তাকে মুগ্ধ হয়ে দেখা ছাড়া… 
যার কোলে বীণাটি অন্তর্হিত
 
রাজা তো আসলে প্রেমিক,
অজস্র লেখার উৎসর্গপত্রে
দেবীর নাম লিখে দেবে বলে সম্মতি অপেক্ষায়… 
বসে আছে একাকী বিষণ্ণ… 
 
সহসা ঢাকের চামড়ায় বেজে উঠছে
চৈতালি সুর…
 
 
৪] অসম্ভব সুরলোকে
 
বুকে পাথর সেই ছেলেটি কিছুই চায়নি তেমন… 
কেদার রাগে বেজে ওঠা লাবণ্যের আলোটুকু ছাড়া
 
তারই তো সহসা উচ্চারণ:
নদীকে নদীর ভেতর না দেখলে মনখারাপ হয়… 
শূন্য সাঁতারে তার কতো কতো নেই
গানে গানে পূর্ণ হতে চায় …
 
পাথর প্রতিমা নয় জীবন্ত দেবী এক বন্দিনী
তার অসম্ভব সুরলোকে…