রাজদীপ পুরী-র কবিতা

Spread This

রাজদীপ পুরী

ওম
 
খই, সাদা খই, ছড়ানো রয়েছে দেখ পথের উপর…
বোঝা যায় এই পথ বেঁকে গেছে শ্মশানের দিকে—
 
আহ! শ্মশানভূমি… নতজানু কিছু রাত, রাতচরা পাখি,
ডানায় ডানায় ছড়ানো তাদের সমূহ বিষাদ…
 
এসো হে বিষাদ, এসো বিরহ,
এসো শ্মশান বন্ধুরা এসো—
এসো চিতার আগুন, এসো আধপোড়া কাঠ, 
                          এসো সাদা খই, হরিবোলধ্বনি…
এসো বন্ধুরা সবাই, এসো শত্রুরাও
এসো পিছনের থেকে মারা ছুরি, এসো
এসো এই নিভু নিভু অগ্নিকুন্ডে আজ পাশাপাশি সেঁকে নিই
জীবনের ওম…
 
 
কসুর
 
যেভাবে চুম্বন ছিঁড়ে খাচ্ছে ঠোঁট আর ছুরির ফলা 
ক্রমশ ধারাল হয়ে উঠছে তোমার হসির মতো…
 
হাসছ, হাসতে হাসতেই কান্না আড়াল করল রুমাল,
 
আর প্রমাণের অভাবে আরও একবার
বেকসুর খালাস পেয়ে গেল সেই সিরিয়াল কিলার—
 
রঙ, তুলি ও আমার মা
 
ক্রমশ রঙে রঙে ভরে যাচ্ছে আমাদের ছোট্ট একতলা বাড়ি আর
তুলি হাতে আমার মা সেই রঙ দিয়ে ছবি আঁকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন 
সাদা ক্যানভাসে… এই অব্দি দেখে ঘুম ভেঙে যায়, উঠে বসি, দেখি
পাশে শান্ত ভাবে ঘুমিয়ে আছেন আমার ফিফটি প্লাস মা,
মুখময় ছড়ানো হাসি… সেই হাসি, যে হাসি আমি খুব ছোট থেকে
দেখে আসছি আমার মায়ের মুখে, আর তারও আগে দেখেছিলেন
আমার বাবা, যাকে বলে ওই হাসি দেখেই নাকি তিনি ফিদা হয়ে গিয়েছিলেন
আর যত্রতত্র উড়ে বেরিয়েছিলেন আমার কলেজ পড়ুয়া মায়ের 
পিছন পিছন…
 
এখন সেই অল্পবয়সী বাবার জায়গায় আমি আর মায়ের জায়গায় 
আমার প্রেমিকা, এখন আমরা উড়ে উড়ে বেড়াই আর সারাদিন ধরে 
                             সেই ওড়াউড়ির ছবি এঁকে রাখেন আমার মা!
 
 
একটা নিছক প্রেমের কবিতা
 
আমি ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেব মেঘ,
তুমি টিপ পরে, আয়নায়, আরেকবার দেখে নেবে মুখ…
 
মাঝখানে একা,
খুব একা একজন ঈশ্বর—
শেষবার তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে
যিনি উপড়ে ফেলবেন তাঁর চোখ!