অলোকপর্ণা-র গদ্য

Spread This
অলোকপর্ণা

অলোকপর্ণা

আমাদের সদলবলে বেশ্যাবাড়ি গমন

 
এক একটি সাদাপাতা বেশ্যার মতো আচরণ করে। যেকোনো কেউ সেখানে সাদর। যে কোনো কেউ সেখানে চটপট এপাশ ওপাশ দেখে নিয়ে পর্দা সরিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে পারে। দুপায়ের দুটো চটি পাপোশের পাশে ফেলে রেখে সকলে বেশ্যাবাড়ি গেছে চিরকাল। আর ভিতরে গিয়ে প্রত্যেকেই উলঙ্গ হয়েছে। যত পোড় খেয়েছেন, লেখক, আমাদের চোখের সামনে একটি নধর পিম্প হয়ে উঠেছেন। এই নধরতাই তাঁর সার্থকতা।
 
চকমকি খেলা
 
জল।
রাস্তার বাঁদিকে সবসময়। বুকেরও বাঁদিকে। কাঁপছে। অন্ধকার। আলো আলো ছইয়ের নিচে একগাদা কচ্ছপের ডিম। ওতে তা দিচ্ছে বলিরেখা, নখের দাগ, এলোমেলো রূপোলি চুল। কে কতদূর আহত, তা নিয়ে বাতাসেরা চকমকি খেলেনা কোনোদিন। এসব জানা আছে বলেই কথা বেশি দূর যাবেও না, যেখানে গেলে সব অচ্ছুত হয়।
একটা সুররিয়াল অন্ধকার। সুররিয়াল এমনকি স্যানিটাইজার বোতল পর্যন্ত। আমরা গন্ধ শুঁকে সমুদ্র পরখ করছি। আমরা গন্ধ শুঁকে মাপছি একে অন্যের সুখ অসুখ, ও অন্যান্য ভাইরাস। আমাদের প্রত্যেকের নাক নেকড়ের মতো সজাগ। আমাদের এখন হাত না, চারখানি থাবা আছে, জলজ্যান্ত। তা দিয়ে আর স্পর্শ নয়, এখন, শুধু আঁচড়ানো সম্ভব।
 
অসুখ
 
পৃথিবী সেরে গেলে আমরা পিকনিকে যাবো বলে স্থির করি। স্থির করি খুব মাংস ও মদ ও মেয়েমাংস ও ফের মদ খাওয়া হবে। এসব ভেবে নিয়ে আমরা জীবনে প্রথম সশব্দে হেসে উঠি। আমাদের বয়স কমে যায়। আমরা আমাদের হাত পা বুক পেট ঊরু ও চিবুক দেখি, এই প্রথমবার। পৃথিবী সেরে ওঠে। পিকনিকের দাগ ফিকে হয়ে আসে। একটা না হওয়া পিকনিকে একগাদা গুমখুন হাসির আওয়াজ শোনা যেতে থাকে। আদিম পশুর মতো কেবল মনে পড়ে, অসুখে দিব্য ছিলাম।
 
বেশ্যাবাড়ির নতুন দালাল
 
অনেক কষ্টে লিখি। লিখলে আমার প্রপিতামহ কৃষিকাজ থামিয়ে আমাকে দেখেন। অনেক কষ্টে লিখি। লিখলে আমার প্রমাতামহী জঙ্গল থেকে কাঠ কুড়িয়ে আনতে গিয়ে সাপের ছোবলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আগে আমার দিকে ফিরে তাকান। লিখলে, আমার মাতামহ মাইলের পর মাইল পথচলা থামিয়ে আমায় দেখে নিয়ে তবেই বর্ডার পার করেন। অনেক কষ্টে লিখি। আমার মাতামহী চটজলদি সোনার বালা, সোনার দুল স্তনের নিচে লুকিয়ে ফেলে কোলের ছা নিয়ে ঘর সংসার ছেড়ে যাওয়ার আগে একবার দেখে যান আমি কী, কীই না লিখলাম। আমার নিরক্ষর পিতামহী ছোটো ছোটো পায়ে বিক্রমপুরের এঁদো পুকুরপাড়ে রাজহাঁসের পিছু ধাওয়া করতে করতে থমকে গিয়ে দেখে নেন লেখা কতদূর হল। আমার পিতামহ বউ বাচ্চাসহ শিয়ালদহ স্টেশনে বসে মানুষের মাথা গুণতে গুণতে দেখে নেন কেমন লিখলাম। অনেক কষ্টে লিখি, আমার লেখা দেখবে বলে বাবা জুতোর পেরেক ছাড়াতে দেরি করে। হেঁটে যায়, হেঁটেই যায়। মা কাপাস তুলোয় হাত ভরিয়ে নিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে কতটা লিখলাম। কোথাও কোনো ফাঁকি দিলাম কি না। তাই অনেক কষ্টে লিখি। কড়া পাহারার মাঝে কাঠ হয়ে থাকি, পাছে কিছু বাদ পড়ে। পাছে কিছু অহেতুক মনে করি। এক একটা কমা, এক একটা দাঁড়ি। এক একটা প্রশ্নচিহ্ন? – কোলেপিঠে করে অনেক কষ্টে লিখি। আমি লিখতে বসলে আমার কাঁধের উপর থেকে, বাবা মা পিতামহ পিতামহী মাতামহ মাতামহী প্রপিতামহ ও প্রমাতামহীর উৎকণ্ঠিত মুখ দেখা যায়, আমার প্রত্যেকটা বানান ভুলকে যাঁরা আজীবন সিস্টেমের প্রতি বিদ্রোহ ভেবে ভুল করে এসেছেন।