প্রীতম বসাক-এর কবিতা

Spread This
প্রীতম বসাক

প্রীতম বসাক

সম্ভাবনা ও তার চরিত্র বিষয়ে
 
১.
একটি সহজপাচ্য জীবনের কথা লিখি। গরম ভাত সম্পর্কিত গল্পসংকলন থেকে পড়ে যাই মায়েদের জ্যোৎস্না। মাঠে মাঠে পুঁতে দিই শিশুবাচক। অতঃপর নদীগুলোর পিঠ ঘষে তুলে দিই পিছল উপমা। যত অসফল মানুষের জন্য ভাষা বানাই। নিভু নিভু সৌরলতা। তুমি গতরাতে আত্মকথা লেখার জন্য নেমে গিয়েছিলে স্মৃতির তেরো নং অধ্যায়ে। ওখানে একদিন বৃষ্টি অরণ্য ছিল। আজ আমাদের পাড়ায় অযথা জল জমে ভিজে গেছে অনালোচিত দুঃখরা। কাল রোদে শুকোতে দেওয়া হবে সেই সব সংক্রামিত কাব্যগ্রন্থ। দুইনো এলিজি। 
 
২.
অতএব আধ-খাওয়া বাক্য দিয়ে আরম্ভ হল এই কথোপকথন। শস্য সংগ্রহের ভূমিকা লিখিত হল। আমরা খুঁজতে বেরোলাম সুসিদ্ধ সকাল। দেখলাম মানুষ কোথাও মাটিকে একা থাকতে দেয়নি। রেখে গেছে হস্তলেখ। ভুলে ভরা খাদ্যতালিকা। তাদের ঘুম সম্পর্কিত অন্ধকারগুলো আমরা কুড়িয়ে নিলাম। গান হওয়ার চেষ্টায় ফোটালাম দেহ। কিন্তু ঘন সন্দেহে ঢেকে গেল আলো। মৃদুস্বরের দুঃখ দিয়ে শেষ হল সংলাপ। আর আমাদের নদীমাতৃক চরিত্ররা কীভাবে হারিয়ে গেল শিরোনাম থেকে! 
 
৩.
মানুষের পিঠের ফাটলগুলো নিয়ে আমাদের আরও গভীর আলোচনা করা দরকার। কখন কীভাবে ক্লান্ত হয়ে যায় শস্যের পা দুটি। করুণ একটা ফর্ম তৈরি হয়। কিন্তু এক্স-রে প্লেটে ধরা পড়ে না ডানার পলিস্তর। ঘুমের অনার্য রোগে আক্রান্ত পাখি মাঝরাতে জলের নিকটে ফিরে আসে। কথা বলে আত্মার প্রতিবিম্বের সাথে। মাছেরা যে নিজেদের ডিম চিনতে না পেরে খেয়ে ফেলে সন্তানের সম্ভাবনা— সেসব আবিষ্কার করে তোমার পেটের মধ্যে বেড়ে উঠতে থাকা গাছটিকে বাঁচাতে তুমি হাল্কা সেঁক দিতে থাকো— মানুষের যন্ত্রণার ধারণা দিতে থাকো।
 
৪.
চলো নিজেদের ত্রুটিগুলো নিয়ে শিশু-বিশেষজ্ঞের কাছে যাই। জেনে নিই দৃশ্য পালনের পদ্ধতি। ছেলেবেলায় দেখা কতগুলো পতঙ্গের নাম তোমার মনে আছে বলো! অন্তত কিছু প্রাচীন শব্দের রূপান্তরিত ব্যবহার যদি প্রয়োগ করতে পারো— বাক্যগঠনে প্রাসঙ্গিক আলো ফেলা যেতে পারে। মানুষ একজন বহুকালের পোষা পাখি। পিঠ জুড়ে ভাতের চিৎকার। এত ভুলে ভরা গান তাকে গাইতে হয়! এত তুঁতফুল ফুটে থাকে ঠোঁটে যে হঠাৎ একঝাঁক আকাশের নিচে এসে সে হারিয়ে ফেলে চশমার ধারণা। চলো তার সাক্ষাৎকার নিই। চোখ থেকে বেছে দিই বিঁধে থাকা অসহ্য। 
 
৫.
তুমি জানো রাবার খুব সহনশীল প্রাণি। সুতরাং তার ধৈর্যের পরীক্ষা নিই চলো। তার হাত পা টেনে দেখি কতদূর আমাদের জাদু ও বাস্তবতা। সে কপিকল— নামিয়ে দিই সহ্যের পরিধি পর্যন্ত। তাকে বলি বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকিয়ে দেখাও কত দীর্ঘ তোমার পরাক্রম। কীভাবে অসীম টান থেকে সঙ্কুচিত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। আর নিশ্চিতে বড় হয় শস্য। শুধু একটি শিশু তার মুখের দিকে তাকিয়ে নদীর স্থিতিস্থাপকতার ধারণা পায়। নীরবতার পাঠ শেখে। অনুবাদ করে নীলাকাশ ও অলৌকিক ট্রেক ।