ভাস্বতী গোস্বামী-র কবিতা

Spread This
ভাস্বতী গোস্বামী

ভাস্বতী গোস্বামী

মির্জার মার্জিনকাব্য ১
 
ভালো লাগছে না
শূন্যে মন খুলে নিয়ে আসা আলো
আর সন্ধের আজানে খোলা হাসি
মদির থেকে ‘ম’ চুরি ক’রে 
তুমি মির্জা হলে
আর চুমুর চমকে যাওয়া উল্লাসে
কেঁপে ওঠে আমার ড্রয়িং 
ছড়ানো ছিটানো পেন্সিলে বিবিধ কৌশল 
চলো, ‘সা’ থেকে ‘পা’ হেঁটে যাই
ফিরে এলে মনে হয় 
মেঘবতী মায়া আকাশের…
 
মির্জার মার্জিনকাব্য ২
 
পেন্সিলের শিস ভেজা নদী
বাঁক নেওয়া মুখে
কিছু গান রেখে যায় কোন শিস
সূর্যোদয় ধ’রে হাঁটতে হাঁটতে 
পেরিয়ে যাচ্ছি অনেক সূর্যাস্ত 
লিবাসে লেগে থাকে শিষের মাঠ
শস্যগানে আমাদের জল ঝরে
সূর্যডোবা হাওয়া
দোয়েলের বুকে
কেঁপে ওঠা রাত, দিন ভুলে যায়
তীব্র বা কোমলে উতার-চড়াও
বারিষ বারিষ
দরজাও কাঁপে
আলাপন ভোর
দোতারার নীল সাপ পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে 
প্রথম পেরিয়ে যায়
শেষ কবে, তা-ও ফেলে আসে…
 
মির্জার মার্জিনকাব্য ৩
 
মেশার আগে নদী থেমে থাকে 
সাগরও দ্যাখে
আরাবল্লী ঢেউ মেঘ ডাকে নি কখনো
এই একলা নিয়ে আমি কী করবো?
বৃষ্টি ফিরে গ্যাছে নীল খামে
পেখম গ্যালারি 
থইথই হাঁস
জলের মুহূর্ত সব
এই পূর্ণ আলো, তোমায় লিখি প্রতিদিন 
বালিশ কেমন ক’রে নদী হয়
দিন-রাতগুলো নূপুরে ভেসে যায় খোলা খামে…
 
মির্জার মার্জিনকাব্য ৪
 
বৃষ্টি বাঁধা থাকে মায়ের আঁচলে
কোরাসে উড়ে যাওয়া ভোর
তারা-বদল দেখেছিলে
নিঃশব্দ আঁচড় গুনতে পেরোয় নি আলো
গন্ধ ছেড়ে যায় 
একেকটি ঘরে একা একা গাছ
ডাল-পাতার জন্মান্তর 
আঙুলের লুডোতে সেচ
পাতা উল্টিয়ে বৃষ্টিও বড় হয়ে যায়…
 
মির্জার মার্জিনকাব্য ৫
 
বৃষ্টির জিপসি শুনি বেলা-অবেলায়
বীজতলার দিনে
মাটিতে ফুটে ওঠা শাসনের লাল চারাগাছ
আর অঙ্কুরে জলের শস্যপাঠ
 
আগুন ভিজে ভিজে 
রাগ-ধর্ম-শোক শুঁকে নেওয়া রোদ্দুর
অবিশ্বাস নজরদারি 
এ চোখে ও চোখে
 
তারকাঁটা সীমা ছুঁয়ে 
পাখি আর ট্রাক চলে যায়
শস্য ঢাকা গোপন হাতিয়ারে
হাওয়ায় মরচে ওড়ে
জমিতে, ওপারের টিনে
 
এর চেয়ে অস্পষ্ট থাকা ভালো 
দুই মেঘ বোনা হয় চোখের বিনিময়ে 
দুটো ভাত-মুড়ি খেয়ে
অন্য বেজে ওঠা লিখে নেবো
ভিজে ওঠা দাওয়ার রিমেকে…