চিত্তরঞ্জন হীরা-র কবিতা

Spread This

চিত্তরঞ্জন হীরা

যখন কথারা নামলো 

১.
 
মিনে করা চাঁদ 
গায়ে একটা ঘোরানো ছোপ
জন্মদাগ মুছে নিঝুমের কোল 
এখন পলকবর্ণ          
পল পল কেউ ভাঙলো 
                       চোখের আদর। 
 
মুহূর্তকে দেখাটাই শেষ নয়
আবার দেখো
মেলোখোঁপায় এলিয়ে 
যেখানে চন্দনের টিপগুলো
এখন ঢেউগালে রাত্রিনাচ
 
আমরা কেউ দেখছি না 
প্রতিবিম্ব বড় হতে হতে
            যখন কথারা নামলো…
 
উল্টো আকাশ মানিয়ে যাচ্ছে 
                   ঠিক চৌবাচ্চার জলে। 
 
 
২.
 
লম্বা একটা নিঃশ্বাস টেনে 
হাওয়ার গল্প        ঝড়ের সঙ্গে 
নিমগন্ধ আলো     এঁকে বেঁকে
          বৃষ্টি              প্রথম জন্মের।
 
নিভে গেলো উলের কাঁটা 
       তিনটি জীবন 
আমরা খেলতে খেলতে 
                    ত্রিভুজ করলাম 
          মৃতের শহর হেঁটে  
এখন ছড়িয়ে পড়ছি পথে পথে। 
 
কাঁধে নেমেছে নিঃসঙ্গের তারা
কতকগুলো সংখ্যা     শব হলো
           অবিকল সেই জলছবিটা…
                  
 
 
৩.
 
নিঃস্ব হতে হতে দিগন্ত 
তার গর্ভ        নির্ভার জলে
             এখন শঙ্খ লাগা গান।
 
ধুলোর দূরত্বে পা 
মেপে মেপে নূপুর ঝুপুর 
পাড়াপড়শি করা 
দেখে নিলো প্রার্থনার শোক
            শ্লোক হবে কীনা !
 
নদীবার্ষিকীর দিন কেউ কেউ
এপারে বসে শিস দেয় 
             আরেকটা নদীকেই
 
অনন্ত খুলে খুলে যায়…
 
 
৪.
 
রুলটানা রাস্তায় একটা ফুলস্টপ 
পড়ে গেলো আলো না জ্বেলে
চোখ মানছে না
ঝুঁকে আছে নিসর্গ ধরে।
 
প্রতিটি লাইনের ফাঁকে ধূ ধূ
বারবার ফিরিয়ে
                        ফিরে ফিরে 
পালতোলা ভ্রূ             দিনান্ত।
 
ফর ফর করে উড়ছে   
ছায়াকে পরিয়ে দিচ্ছে মেঘের বাড়ি
 শ্রাবণ এলো 
            রাত্রি ভেজা নোলক নিয়ে।
 
চাকার বেড় খুলে লিখে রাখছে 
একপাতা পতঙ্গের
                       ছেঁড়া তাঁতঘর…