আনিস আহমেদ-এর কবিতা

Spread This
আনিস আহমেদ

আনিস আহমেদ

চারটি কবিতা

ভিনদেশের রোদ এসে
উবু হচ্ছে ভিনদেশের গতরে,
মধ্যে প’ড়ে মার খাচ্ছে গরিব দেশের ছায়া…

এই একটা আনুমানিক স্বপ্ন
গুঁজে দেওয়া হচ্ছে তোমার ধাতব হাতে…
শূন্যের হাতলে হাত রেখে, তুমি
তা ভাঙিয়ে বাদাম খাচ্ছ…

আর গরিবদেশের ত্বকে
ভাঁজ হচ্ছে বাদাম ভাঙার শব্দ…

যেভাবে —
খুনের আবহ থেকে জল পড়ে
আর, অপরাধ ভিজতে  থাকে
কালো ওভার কোটের ভিতর
একটা নীল চোখের নিচে
অদৃশ্য দেহ নিয়ে —

বরফশীতল ভূমিকায়…

যেভাবে —
কাঠের শরীরে বাটালির দাগটুকু-ই সম্বল…

পাকা কুলের মত টসটসে ব্যথার চোখ নিয়ে
যেন ফেটে পড়বে আমাদের দেখাগুলো…
তার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসবে—
ঘিলুতে থিতিয়ে যাওয়া জিভ
খিদের সামনে দাঁড়িয়ে
যা অস্থির রকমের শান্ত হয়ে ছিল…

জিভ ও চোখের সম্পর্কে বলতে গিয়ে
সে, নির্দিষ্ট নিয়মে-ই একা—

দৃশ্য ও স্বাদের মধ্যবর্তী ফাঁকফোকরগুলোতে
একটা কবিতা-ই
গুঁজে দিতে চেয়েছিল…

এই স্বাভাবিক বেঁচে থাকার অন্ধকারে
অস্বাভাবিক রোদ ওঠে —

যেকোনো জিজ্ঞাসা থেকে মুগ্ধতা নিয়ে স’রে যাওয়ার

শুধু তাকানোগুলো নিয়মিত করতে —

এর-ই মধ্যে তোমার ফিরে আসার গতি
এর-ই মধ্যে আমার থমকে থাকা…

যেন ছুরি নয়, ধারালো হচ্ছে ছুরির আওয়াজ
অবসরে ছুড়ে মারার মত জনাকয়েক হাসি

যখন কোনোকিছু-ই আড়াল পাচ্ছে না

জঙ্গল চিল্লায়, আর তার গোপনতাও চিল্লায়
এই একইরকম গাছের ভিতর

চিল্লায় পাখি, আর তার আকাশও চিল্লায়

এতসবের পরে—
আমার চিল্লানোর থেকে কিছু কম পড়ে যায়

আমার চিল্লানো চলে যাচ্ছে গাছের ভিতর দিয়ে, পাখির ভিতর দিয়ে
তোমার পেটের ভিতর

অন্ধকারের সাথে ঘুমোতে যাচ্ছে
আর আলো তাকে ল্যাং মারছে

কোথাও আড়াল থাকছে না