পুরোনো মলাট। ফালগুনী রায়-এর কবিতা।

Spread This
ফালগুনী রায়

ফাল্গুনী রায়

আমি অপদার্থ
 
( কবিতা রাজনৈতিক ইস্তেহার নয় জীবনের ইতিহাস- সেই জীবন যা জগত ও মানসজগতের- জীবনানন্দ যে সব শূকরীর প্রসব বেদনার আড়ম্বর চোখে দেখেছিলেন যে সব শূকরীর চীৎকার কানে শুনেছিলেন তাদের সন্ততিরা- সন্ততির সন্ততিরা আমার চারপাশে এখন চিৎকার করছে- আমি জানি না আমার কবিতা দিয়ে সেই চিৎকার থামানো যাবে কি না।) একটি গ্রাফিত্তি প্রকাশ 
 
 
 
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চশমা
 
 
বৈশাখ তোমার খরাক্রান্ত ফাটা মাঠে আমার হৃদয়ের ছাপ- হৃদপিণ্ডের নয়
শীতের কুয়াশায় আমি মুখ দিয়ে ধোঁয়া বার করি বিনা সিগারেটে
নারীহীন বিছানায় আমি ভোরবেলা লিঙ্গোত্তেজনা বোধ করি
কার পেটে আসবে আমার সন্তান
আমি যার পেটে ভাত যোগাবো তার ?
দলীয় পতাকা ছাড়াই আমি বেঁচে আছি মেয়েমানুষের
ভালোবাসা ছাড়াই আমি বেঁচে সাড়েবারোটার
রোদ্দুরে রবীন্দ্রনাথের গান শোনার জন্য আমি বেঁচে আছি।
না আমি রবীন্দ্রনাথ হতে চাই নি কোনদিন না আমি সুমিতাকে ভালোবাসতে
চাই নি কোনদিন তার শরীর চেয়েছিলুম না আমি মিতার শরীর
চাইনি কোনদিন তার ভালোবাসা চেয়েছিলুম কিন্তু কিছুই হয়নি আমার
অবশ্য বাংলাদেশ থেকে খানসেনা টঙ কিঙ উপকুল থেকে মার্কিন মাইন
এবং কলকাতায় বালির বস্তার আড়াল থেকে সি আর পি-রা সরে গেছে
চীন নিক্সান ট্রিটি হয়ে গ্যাছে চাঁদে জীপ ভারতে গম ভিয়েতনামে সৈন্য 
ও অলিম্পিকে প্রতিযোগী পাঠিয়েছে সাদা কালো আমেরিকা
হিন্দু বাঙালীরা
হিন্দু বাঙালীদের
মেরে ফেলেছে
কলকাতায়- তারপর
নেতাজী
লেনিন ও
গান্ধীর স্ট্যাচুর
পাদদেশে সভা করেছে শহীদমিনারের শোভাযাত্রীরা- অর্থাৎ-
অনেক ঘটনা ঘটে গ্যাছে কিন্তু আমি চাকরি পাইনি
তাই বউ পাইনি
হি হি হি হি হি
টাকা না দ্যাখালে বেশ্যার দালাল ও পাত্রীর অভিভাবক
কেউই তাদের মেয়েদের ছেড়ে দ্যায় না আমাদের হাতে
কিন্তু এই গণিকা সভ্যতার ছাই গায়ে মেখে আমরা কি সবাই
ল্যাঙটির তলায় লিঙ্গ গুটিয়ে রেখে সন্ন্যাসী হয়ে যাবো?
শহিদদের জন্যে শোকাশ্রু ফেলে মন্ত্রী হয়ে যাবো?
ভোট দিতে গিয়ে একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে আমি মরে যেতে দেখেছিলুম
ভোটের লাইনে কিন্তু তার নামেও পবিত্র পড়েছিল ও তার র‍্যাশনকার্ড
বাজেয়াপ্ত হয়েছিল ভালো পথ্য চিকিৎসা পেয়েও আমার বাবা মারা
গেছিলেন এবং তাঁর র‍্যাশন কার্ডও বাজেয়াপ্ত হয়- আমি দেখে ফেলেছি 
শোকের ভেতর গরীব বড়লোক বা বুর্জোয়া কম্যুনিস্টের কোনো পার্থক্য নেই
তবু কারো মৃত্যু পাখীর চেয়ে হাল্কা
তবু কারো মৃত্যু পাহাড়ের চেয়ে ভারী
হায় ভারতবর্ষ! আমার মৃত্যু ভারী বা হাল্কা হবে
হায় ভারতবর্ষ ! আমি শব না শহীদ হব- অথবা মৃত্যুর কারণ জানতে গিয়েও
বুদ্ধদেব যে রকম মারা গেছিলেন আমি কি তেমনি মরে যাবো?
মৃত্যু-তুমি কি কেবলি বিনাশমাত্র না কি তুমি জন্মান্তরের পাশপোর্ট? 
কে বলে দেবে আমায় প্রকৃত পথ কোথায়?
হৃদপিণ্ডে কে দম দিয়েছে- হৃদয়ের দাম কে দেবে আমায়?
অসুখ হলে পথ্য চিকিৎসা কে দেবে আমায়?
খিদে পেলে খাবার কে দেবে আমায়?
প্রেম জাগলে নারী কে দেবে আমায়?
রাষ্ট্র কি সব কিছু দিতে পারে-
লাষ্ট বয়কে ফাষ্ট বয় করে দিতে পারে সাম্যবাদ?
বাজে কবিকে ভালো কবি করে দিতে পারে সমাজতন্ত্র?
তবুও বৈদিক স্তোত্র সংগচ্ছধ্বং সংবদধ্বং ইত্যাদির মানে
আমাদের গতি এক হ’ক
আমাদের ভাষা হ’ক
আমাদের চিন্তা এক হ’ক… এই হায়ার কমিউনিজম
মার্কস জন্মাবার চার হাজার বছর আগে ভেবে গ্যাছে ভারতীয়রা
আমাদের আহার এক হ’ক
আমাদের বসন এক হ’ক … চমৎকার চমৎকার 
কিন্তু এই শুনে যদি কেউ বলে ওঠে তবে আমাদের স্ত্রীরাও এক হউক তখন
মানে মানে আমি কেটে পড়বো কারণ নারী সংগম আর গরুকে
পাল খাওয়ানো আমি কিছুতেই এক ভাবতে পারি না
তাই মায়ের দুধ খেয়েও আমরা মায়ের মাংস খাবো না কোনো দিন
কিন্তু গরুর দুধ খেয়েও আমরা গরুর মাংস খেয়ে ফেলেছি।
 
 
কবিতা হঠাও
বিবাহ সভায় বিধবার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছি
আমি এক বেকার মাত্র ডালহৌসি পাড়ায়
পয়সার অভাবে বেড়ে গেল চুলদাড়ী
লোকে বল্ল নকল করছি রবিঠাকুর-কে কিন্তু
আমরা রবীন্দ্রসদন বা কোন ভবনের বদলে 
এ বছর রকে বসে পালন করেছি রাত বারোটার রবীন্দ্র জয়ন্তী
 
আমাদের পেটে ছিল মদ হেঁড়ে গলায় আমাদের 
সম্মিলীত গানের চীৎকার শুনে যেসব
বিবাহিতা মহিলারা স্বামীর ঊরুর তলায় শুয়ে ছিল
এবং যেসব কুকুরী সংগম শেষে ঘুমোচ্ছিল কুণ্ডলি পাকিয়ে
তারা সব জেগে উঠে আমাদের রকেতে রবীন্দ্রনাথ-কে
নিয়ে ছেলেখেলার প্রতিবাদে চীৎকার করেছিল যথাক্রমে
মানুষ ও কুকুরের ভাষায়
গ্লোব নার্সারীর কাছে আমিও দেখেছি
একটা কুকুরের গলায় কেউ পরিয়ে দিয়েছে বেল ফুলের মালা
আমরা শালা কোনো মেয়ের চুলের খোপায়
গুঁজতে পারিনি এখনো ফুল অথচ বরানগর বাজারে
দেখেছিলুম রজনীগন্ধা চিবিয়ে খাচ্ছে
বিশালান্ত ষাঁড় 
 
এইসব দেখে শুনে ভাবি
নর্দমা যেমন হঠাৎ চওড়া হয় নদীর নিকট
অথচ কামনার সঙ্গে প্রেম মিশে গেলে যেমন
ব্যাভিচার আর ব্যাভিচার থাকে না হয়ে যায়
রাধা কৃষ্ণের ধর্মীয় যৌন উপাসনা
তেমনি যদি আমি একটু প্রসারিত হতে পারতুম
অভাব- পীড়িত জৈবিক তাড়নার কাছে এসে
তবে হয়তো নিরন্নকে অন্ন দেবার সঙ্গে সঙ্গে
তাঁকে বোঝাতে পারতুম অরণ্য পর্বত সূর্য সমুদ্র
ইত্যাদির বিশালতার অনুভবে ঠিক কি ধরনের শান্তি রয়েছে
 
আমি যেন আমার মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকি
নারীর যৌনতা থেকে উৎসারিত সন্তানের মধ্যে নয়
কিন্তু শব্দের শরীরে থাকুক বেঁচে
আমার চেতনা
আমার মাংসের শরীর খুব ভালো করে জানে
জীবনের মানে বেশি দিন থাকবেনা
নিভন্ত চিতায় শুয়ে থাকে রজনীগন্ধার মালা
যে যায় সে যায় যারা বেঁচে থাকে তারা দ্যাখে
পোড়া চিতা কাঠ থেকে কিভাবে খাদ্য খোঁজে উড়ন্ত চড়াই
বাড়ন্ত পুরুষ্ট দেহ একটি মেয়ে বা ছেলে যদি সঙ্গ দিত
জ্বলন্ত চিতার দিকে চেয়ে- মৃত্যু নয় যৌনতা মনে আসে
মদের টেবিলে কেউ বলে মদ খাবার সময় যদি কেবলি
হিসাব কর দলের ভেতর তবে তুমি বিক্ষিপ্ত নির্দল হয়ে যাবে
একটি নারীকে না পেয়ে একশোটি দেবদাস তৈরী হয়
শরৎ চাটুজ্জ্যের লেখনী ছাড়াই এক হাজার 
উপন্যাস দুহাজার ছোট গল্প বাসে ঝোলে
সেকেন্ড ক্লাস ট্রামে বিনা পাখায় গরমে সেদ্দ হয় 
 
 
 
আমি আর আমার বেঁচে থাকা
 
 
আসলে একপ্রকার অলৌকিক মৃত্যুর ভেতর আমার চলে যেতে হয় অনেকসময় ফলে পুরোপুরি একটা মৃতের শহর আমার দুশো ছখানা হাড়ের কাঠামোয় বয়ে নিয়ে কেলিয়ে যেতে হয় পুরোপুরি থ্যাকথ্যাকে অ্যামিবার ক্লেদাক্ত নড়াচড়া নিয়ে বেঁচে থাকতে থাকতে আমি অবিশ্বাস সন্দেহ ইত্যাদি হতে বিচ্যুত হই
সূর্যের আলো যেমন সাধারণভাবে শূকরীর স্তন মণ্ডলে এসে পড়ে বা আমার লিংগের চারপাশে গজিয়ে ওঠে লোম ঠিক তেমনি সাধারণ সমান্তরাল সরল রেখায় আমি হাওয়া থেকে অক্সিজেন নিয়ে ফুলগাছে আর রূপসীদের যোনির দিকে ছুঁড়ে দিচ্ছি কার্বন-ডাই-অক্সাইড
 
বড়ো বিচ্ছিরি এই বেঁচে থাকা
আমার বুকের বাঁ ফুসফুসে প্রেম 
ডান দিকে পারভারশান
লিংগের উত্থান থেকে আমি জেনেছি
কাকে বলে টেলিপ্যাথিক কম্যুনিকেশন
আমি এখন সেই মহাগ্রন্থ খুঁজছি
যা কিনা যীশু আর রামকৃষ্ণের যৌন বিষয়ক
আলোচনায় পূর্ণ
আমি আমার সামগ্রিক
ক্যালানে কেষ্ট ফালতু অপদার্থ
জীবনকে ক্যাঁৎ করে লাথি মারার জন্যে
শিবলিংগের মাথায় পেচ্ছাপ করছি
বেলুড় মঠের সাষ্টাংগে প্রণামরত
যুবক ব্রমহচারীদের লিংগ দেখছি
খাড়া হচ্ছে কিনা
 
সমস্ত কাশীপুর বরানগর বেলঘরিয়া আলমবাজার শ্যামবাজার যদুবাবুর বাজারের শ্রমিক কেরানী শিক্ষক অধ্যাপক গায়ক কমরেড বেশ্যা পোয়াতী আলুবাজ ক্রিকেটার অ্যাথলেট ফুটবলার রকবাজ ছাত্র মেয়ে ছেলে সব্বাই আমায় দেখে থুথু ছুঁড়ছে ঘেন্নায় 
আস্তিক রবীন্দ্রনাথ ভীষণ রেগে আমায় 
মারতে আসছেন আমি এরকম ইলিউশন 
দেখছি প্রায়শই- প্রায় রোজ আমি আমার
হৃদপিণ্ড পাকস্থলী কচমচিয়ে
চিবিয়ে খেয়ে ফেলছি
আশেপাশে সকলের ঘেন্না
রবীন্দ্রনাথের রাগ
এবং আমার নিজেকে নিজের মেরে ফ্যালা
এই তিনটে ডাইমেনশন
আমায়
ফোর্থ ডাইমেনশন
খুঁজে নেবার জন্যে
বেঁচে থাকতে প্রভোক করছে।
 
বেদানাং সামবেদোহস্মি দেবনামস্মি বাসবঃ
ইন্দ্রিয়ানাং মনশ্চাস্মি ভূতানামস্মি চেতনা
 
কল্পতরু গীতা/ দশম অধ্যায়/ বিভূতি যোগ 
 
 
 
কবিদের কবরে বসে লেখা
 
 
আমার মস্তিষ্কের কোষ আর করে না সেই ভ্রাম্যমান শব্দ বিচ্ছুরণ
সঞ্চরণশীল বুদ্ধের উপদেশ পাহাড়তলীর গাঁ ছাড়িয়ে 
ছড়িয়ে গিয়েছে একদিন গ্রীসে গান্ধারে নগরে বন্দরে
আমার ভাষা সব কেবলি কি স্বরযন্ত্র নির্ভর অথবা সে চেতনার উদ্ভাস 
এই সব প্রশ্ন এসে উত্থিত শিশ্নের প্রবল কামোচ্ছাসকে কেবল করে যে নীরব
 
ইস্কুলে কলেজেও যোগ অভ্যাস শিক্ষা দেবেন ভারতসরকার
আর কম্যুনিষ্ট রাশিয়াও যৌগিক প্রক্রিয়ায় সারিয়ে ফেলবে তাদের
পাগলাগারদের অধিবাসীদের ও অ্যাথলীটদের বাড়াবে উদ্যম 
মস্কো টু লেনিনগ্রাদ হবে টেলিপ্যাথীর বৈজ্ঞানিক
পরীক্ষা ভারতীয় মুনিদের কাছে যা ছিল নিছক ছেলেখেলা
সোভিয়েত রাশিয়ার অন্যতম আবিষ্কারক ও স্রষ্টা হে লেনিন 
নাভির ওপর পদ্মফুলের কল্পনারত যোগীদের নিয়ে তির্যক ব্যঙ্গ কি
যা আপনি করেছিলেন ক্লারা জেৎকিনের কাছে- তবে আজ হল ব্যুমেরাং
হায় যোগের নামেতে আমরা ভারতীয়-
করতে শিখি ব্যাভিচার খেতে শিখি গাঁজামদভাং
এই আমার একমাত্র
কবিতা
যা কবিদের কবরে
বসে লেখা 
 
 
কবিতাবুলেট : ১
 
 
 
কোথায় শহীদ বেদী ভেঙ্গে তৈরী হয়েছে শনির মন্দির
চলো চলো চলো সে মন্দির ভেঙ্গে ফের
তুলি গড়ে সর্বহারা বাহিনীর কেন্দ্র সামরিক
 
মৃত সব শহীদ বন্ধুর শেষ যৌনেচ্ছার উদ্দেশে
আমি একদিন করেছিলুম শোকপালন বন্ধ করে মাষ্টারবেশন
বেশ্যার ঘরে থাকে টেলিভিসন তাদের কুকুরের জন্যেও বরাদ্দ থাকে মাংস
দেওয়ালে ঝোলেন সেখানেও সস্ত্রীক পরমহংস
 
আর কত সত্যিকারের সতীমেয়ে বিপ্লবের কারণে
যৌনাঙ্গে বহন করে পুলিশের চুরুটের ছ্যাঁকা
তাদের প্রেমিকরা কেরিয়ারিষ্ট হতে না পারায় সমাজের চোখে বনে যায় বোকা
আর চালাকপাঁঠা কবিদের ভীড়ে ভরে ওঠে কফিহাউস
বঙ্গসংস্কৃতির প্যাণ্ডেল উঠিয়ে নিলে পর
ময়দানের সে জায়গায় চরে বেড়ায় ভেড়া-
 
কবিদের যোগ্যতা আমি চাই বিচার্য হোক কেবলি কবিতায়
রোজগেরে ছেলেদের ভীড় বেড়ে যাক বরং বিবাহসভায় অথবা বেশ্যাখানায়
 
রক্তমাংসের শরীর আমার মরে যাবে একদিন নিশ্চিত
তবু শব্দের শরীরে থাকবে বেঁচে আমার চেতনা
ভবিষ্যতের পাঠক আমি জানি কবি কত মাইনে পেতেন সে খবর নিশ্চিত 
রাখবে না 
 
 
কিছু লিখতে পারছি না
 
 
আমি লিখতে পারছি না লিখতে পারছি না কিছু
লিখতে পারছি না আর চারপাশে কুকুর ও বেশ্যার
চীৎকার হাসাহাসি হিজড়ের উপহাস আমি
পারছি না কিছু লিখতে পারছি না আর
 
বিশ্ব হতে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নলোকের চাবি দিয়ে
আস্তিক রবীন্দ্রনাথ আমায় ঠেঙিয়েছেন ভীষণ
তন্দ্রাচ্ছন্ন দুঃস্বপ্নে ঘুমের ভেতর একজন কালো খ্রীষ্ট
সারা গায়ে অসংখ্য বিষাক্ত সাপ জড়িয়ে
আমায় আলিংগন করতে চেয়েছিলেন ও একজন
মুর্খ ফাউস্ট মেফিষ্টোফিলিসের হাত ধরে চলে
গেছিলেন স্ট্রেট গ্যায়েটের কবরের দিকে
 
মাথায় প্রখর যন্ত্রণা হলে আমি আজকাল
পিকাসোর কিউবিক ছবি দেখি সারিডনের বদলে 
এবং সৎসঙ্গের ধ্যান ও বাণী আমার প্রতিভাহীন শান্তির 
অনুকূলে নয় জেনে গিয়ে গীতা পড়তে পড়তে
হঠাৎ হস্তমৈথুন শুরু করে এক ধরনের স্বস্তি পাই
 
সকলের আনুগত্য অস্বীকার করেও আমি শেষ পর্যন্ত
নিজের আত্মার কাছে ক্রীতদাস থেকে যাচ্ছি 
 অথচ আমি মুক্তিপ্রার্থী মুক্তির উপায় বোধ হয়
কিছু লিখে যাওয়া কিন্তু কিছুই লিখতে পারছি না
লিখতে পারছি না লিখতে পারছি না আর
কুকুর ও বেশ্যার চীৎকার হাসাহাসি হিজড়ের উপহাস। 

আমি অপদার্থ- ফালগুনী রায়

প্রথম প্রকাশ- বৃষ্টি ১৪০৩ : জুলাই ১৯৯৬
সম্পাদনা – শর্মী পাণ্ডে
গ্রাফিত্তি প্রকাশ