গৌতম গুহরায়-এর কবিতা

Spread This
goutam Guharoy

গৌতম গুহরায়

আলোর বীজ
সবুজ পাতার মালা ও রক্তের সিঁদুরে ছাপ পড়েছিল, ধূসর শিলা
স্বপ্নগুলোর ভেতর নখের দাগ,
দেখি গুঁড়ো গুঁড়ো কথোপকথন, তার ফাঁকে
হেলেদোলে কুটিল নাগ, চেরা জ্বিহ্বায় ফেটে যায়
দুধের গন্ধমাখা শৈশব, বৃষ্টিমগ্ন কৈশোরের মেঘ
দেখি ঘুমের ভেতর একটা লম্বা দড়ি, কালো কড়িকাঠ
ফাঁসের মতো চেপে বসেছে গলায়, ভেঙে নামছে ছাদ
খুনি হাওয়ার পিছু পিছু, সেই নির্জন মাঠ
ডাক দেয় বিনুনি বিউকাল
মাঠের সবুজ ঘাসপাতায় মুড়ে থাকা রাতের পিছল পিঠ
একটা ডিম নীল দেহ থেকে টপ করে ফেলে দিল
অগ্নিবর্ণ কুসুম, ধূসর শিলার পাশে হেসে ওঠে 
আলোর বীজ
বেড়াল ও রুমালের গল্প
দু জোড়া হাতের ফাঁদ, ধরা গেল রোদের শ্বাস
খুলে ফেলছ রঙিন ট্রাউজার
চুলের আড়ালের কুয়াশা, লুকোনো
এরপর পরিচয় ভোর ও দুপুরের
তখন, বাইরে মেঘপরীদের রৌদ্রপর্যটন
ভেতরে মুখর আঙুলের উপর মৌন আঙুলেরা
যেমন, হাতে হাতে পয়সা মুদ্রায় রুপালি রুমাল
চোখের ভেতর ছিল বাদামি বেড়াল
আঙুলেরা অস্থির হলে খোলে বাদামবীজ
রৌদ্রতাপ হঠাৎ, উড়ে যায় লুকোনো কুয়াশা,
তার বাষ্পডানা, ঝাপসা ট্রাউজার
পায়ের চাপে যেমন ভেঙেছিল প্রদীপ, ধান ও দূর্বা ঘাস
সেদিন আলাপ জুড়েছিল ভীষণ
আধিভৌতিক আঙুল ও নীল বেড়ালেরা
শস্যবপনের পাঁচালি
একটা ফুল ফুটে ওঠবার আগে অনেক ঘাস
পাতায় পাতায় দিন বেড়ে যায়
শস্যগানে সন্ধ্যা নামে
তুমি শোনাও শস্যবপনের পাঁচালি
ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে উড়ে আসে উতলা আঁচল
বিকেলের ধুলোমাখা আলো
আজও বাদামখোল ভেসে যায়
সূর্যের দিকে । স্নান শেষে নেমে আসে আলো, গায়ে আঁচল
কে দেবে আজ শঙ্খ ফুঁ ?
আঙুলে অনুগত মেঘ
১.
টিলার ওপরে সে, তার করোট শূন্য দেহ থেকে
টানতে থাকে এক অদ্ভুত পালক, নীলাভ লাল
বাঁ হাতে মেলে ধরে, জাদু মুদ্রায়, লাল লাল ঘূর্ণি ওঠে ।
একটা একটা করে আমাদের দেহগত কাঁটাগুলো খসে পড়ে ।
আমরা সংগ্রহ করি সেই সব ঘনঘোর দেহ ভস্ম, হাল্কা, ফুরফুরে ।
২.
অন্তর্ভেদী  ধ্বনিতে গেঁথে নিলে প্রমত্ত আন্ধকার
প্রভু, হোমাগ্নিতে আঙুল ছুঁয়ে অস্থিভস্ম মাখি
শোকাকুল ফুলেদের সঙ্গে খেলি হোলি
দুহাতে তুলে নিলে পদব্রজের ছাই , মহাব্যোম
মৃত্তিকা ও নদীর গায়ে রামধনু উল্লাস, উল্কিলাগা রোদ ।
 
একা মেয়েটি বিস্মৃত তারাদের বুকে রেখে দিলো
ভেঙ্গে পড়া ঢেউয়ের জলহীন ফেনা, যেহেতু
তৃষ্ণার সঙ্গে নোনা জলের চিরকালীন আড়ি,
রাতের সাগরে সবুজ মাছে চর্বিতে জ্বলে ওঠা
একাকী প্রদীপ ডুব দেয় মোহনার কাছে ।
৪.
অন্ধকারের ভেতর যখন জ্যোৎস্নার ডানা ঝাপটে
নেমে আসে সেই মহাজাগতিক পাখি
ধূস গাছটা তখন ন্যুব্জ হয়ে স্বাগত জানায়,
কোথাও চকচক করে ওঠে বিগ্রহের ধূর্ত ছায়া
নখে নখে ছিঁড়ে যায় গাছের গোপন অন্তরের পান্ডুলিপি