প্রশান্ত হালদার-এর কবিতা

Spread This
প্রশান্ত হালদার

প্রশান্ত হালদার

শৌখিন লোকেরাও পড়ে দেখতে পারেন
 
১৩।
 
লেখালিখির শেষ যেখানে
 
সেই স্তব্ধতার পাশে
 
আমি বিছানাশায়ী বুড়ো লোকটার বিচি,
 
মলিন মহিলার লোল স্তন,
 
পরিত্যক্ত বাড়ির ভার-বুকে হাঁটছি…
 
আমাকে ধরো। থামাও আমাকে
 
যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়বে এই অদরকারী সভ্যতা
 
মিশে যাবে কুয়াশা-ভেজা রাস্তায়,
 
আমাকে মাড়িয়ে যাবে পিঁপড়েরা !
 
এই, আমাকে ধরো, মানুষের অহংকার ভেঙে পড়বে, এক্ষুনি
 
আমাকে ধরে রাখো পত্রিকায়, বিশেষ সংখ্যায়
 
 
১৪।
 
আমার জীবন ছিঁড়েখুঁড়ে ছড়িয়ে দিয়েছি
 
সেই সব টুকরো-টাকরা কুড়োনোর কাজে
ভাবনা অনেক
 
নিচু চোখে এইসব কুপ্রস্তাব রাখি
দেয়ালে হেলান দিয়ে শরীরী উপস্থিতি টের পাই
 
আমার জীবন আমি মৃত্যু থেকে আলাদা করেছি।
মৃত্যু একটি আলাদা বিষয়
তাকে বুঝতে চাইলে জীবনকে ভালোবাসতে নেই
ভালোবাসায় অন্ধত্বের দাবি
পার্থিব ত্যাগের দাবি…
ফলে আমি জীবনের হাতে ধরাশায়ী, সম্পর্কের গোলাম
 
সম্পর্ক বিচারবোধকে খুন করে
 
আমি খুনী হওয়ার চাইতে
খুন হওয়ার পক্ষপাতী
কিন্তু আমাকে খুন করবার লোকের অভাব
তারা ফষ্টিনষ্টিতে ব্যস্ত
 
ফলে বেঁচে যাচ্ছি
প্রচুর আরাম এই দুনিয়ায়, আহা, তা বলে
জীবনের দোহাই দিয়ে মৃত্যুকে ছোটো করা ঠিক নয়