গল্প-তীর্থংকর নন্দী

Spread This
তীর্থংকর নন্দী

তীর্থংকর নন্দী

পিপীলিকার কথা
 
সমুদ্রের ধার ধরে চলে যায় পিপীলিকারা। নোনা জল কি পিপীলিকারা পছন্দ করে! স্পর্শা আর বনি আজ সমুদ্র সৈকতে। পিপীলিকাদের সঙ্গে। সৈকতে আজ  প্রচুর মানুষ। বর্ষ শেষ বলে। কাল বর্ষ বরণ। স্পর্শা বা বনি পিপীলিকাদের ঘরবাড়ি দেখেনি। শুধু অনুভব করে মাটি বা বালির ঢিপিতে তাদের বাড়ি। কখনও কোনও দিনও তাদের ঘর বাড়িতে প্রবেশ করে দেখেনি কেমন দেখতে সেইসব ঘরবাড়ি। কীভাবে তারা থাকে! কতজন পিপীলিকা একটি বাড়িতে বসবাস করে! কখন তারা মিলিত হয়। কখন সঙ্গম করে ইত্যাদি। গল্প করতে করতে সমুদ্র তট ধরে বহুদূরে এগিয়ে যায় দুজনে। সামনেই চোখে পড়ে উইন্ড মিল। সেখানেও বালুপথ ধরে পিপীলিকার সারি। স্পর্শা আর বনি মুগ্ধ চোখে খেয়াল করে পিপীলিকার গতিপথ। তাদের নিয়ম শৃঙ্খলা। চলাপথে কি একেকজন কানে কানে কিছু বলে বোধহয়। এই দৃশ্য স্পর্শাকে খুব মজা দেয়।
স্পর্শা বনির বাড়ি অনেকবার যায়। বনিরা  থাকে  উত্তর কলকাতার ঘিঞ্জি গলির ভিতর। আলো হাওয়া যেন এই দমবন্ধ গলিতে প্রবেশ নিষেধ। একটি বাড়ির একতলায় বনিরা থাকে। মাত্র দুটি ঘর। সব সমেত মানুষ ছজন।
 বনি বনির মা বাবা দুই ছোট বোন পুরনো পরিচারক। এতগুলো মানুষ থাকে দুটি ঘরে। পিপীলিকারা একটি বাসায় কতজন থাকে! একশো দুশো হাজার! স্পর্শা পিপীলিকার ইতিহাস জানে না।  শুধু জানে পিপীলিকারা কত সুশৃঙ্খলভাবে সারিবদ্ধভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যায়। তাদের কোনও ক্রোধ নেই। মন খারাপ নেই।
 
কুশল জানে পিপীলিকার পাখা ওড়ে মরিবার তরে। কুশল এখন আইটি সেক্টরের সফল ইঞ্জিনিয়ার। স্কুলে থাকতেই পিপীলিকার পাখার গল্প শোনে। কিন্তু কুশল পিপীলিকার পাখা খুব কম দেখে। পিপীলিকার পাখার রঙ কেমন! সৌন্দর্য কেমন! পিপীলিকার পাখা কীভাবে গজায়! কেন গজায়! পাখা গজালে কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়! কুশল বর্তমানে কীভাবে যেন এক রাজনৈতিক ছত্রছায়াতে চলে আসে! কীভাবে আসে কুশল নিজেও জানে না! অফিসে রাজনৈতিক ডামাডোলে কেমন দিশেহারা। কুশল আজকাল গুম হয়ে থাকে। অফিসে কারোর সঙ্গেই বেশি কথা বলে না।
বৃষ্টি থেমে গেছে। কুশল বিছানায়। রাত এখন দশটা। আজকাল অফিস থেকে বাড়ি এলে কেমন অবসন্ন লাগে। এই অবসন্নতা কি রাজনৈতিক  ডামাডোলের জন্য! কুশল নিজেকে এখন বুঝতে পারে না। জানে রাত্রিবেলায় ঘুমিয়ে পড়লে স্বপ্নে আসবে পিপীলিকারা। পিপীলিকাদের সোনালি ফিনফিনে পাতলা ডানা। খুব ভোরে আবার পিপীলিকার স্বপ্ন দেখে। ঘুম ভেঙ্গে যায় ভোর চারটের সময়। তবে নিত্যদিন না। মাঝে মাঝে। সেই ভাঙ্গা ঘুমে চোখের সামনে দেখে ফিনফিনে সোনালি তরুণ ডানা একটার পর একটা কেমন করুণ ভাবে ভেঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কুশল সেইসব পাখা ভাঙা পিপীলিকাদের দেখে মনে খুব কষ্ট পায়। ভোর রাতে কুশলের চোখ পড়ে থাকে পাখা ভাঙ্গা পিপীলিকাদের দিকে। গতকালই দেখে তিনশ পিপীলিকারা কী ভাবে মারা যায়। তিনশ পিপীলিকারা মারা যায় এই শহরের বিভিন্ন জায়গায়।
 
রাত এখন বারোটা। কুশলের ঘুম আসে না। কুশল জানে পিপীলিকার সঙ্গে ওর কোনও সম্পর্কই নেই। কুশল এও জানে নিজেকে কোনও পিপীলিকার সঙ্গে মেলানো অত্যন্ত বোকা বোকা কাজ। শহর থেকে দূরে আজ কুশল। রাজনৈতিক চাপের জন্য গেছে ধুমতলাতে। ধুমতলাতে যায় গত সোমবার। কুশল  সহধর্মিণীকে ফোনে বলে ফিরবে বুধবার। ধুমতলার দৃশ্য অন্যরকম। এখানকার মানুষজন যেন পিপীলিকা সদৃশ। মানে একটি ঘরে থরে থরে থাকে অনেক মানুষ। প্রতিটি মানুষ নিজেকে উন্নতি করতে চায়। কুশল জানে এইখানে রণেন থাকে। রণেন অনেক সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত। তবে সিন্ডিকেটের অর্থ অনেক ব্যাপক। যৌথকারবার। পিপীলিকাদের নাকি যৌথ কারবার থাকে। তারা একসঙ্গে বসবাস করে। প্রতিবাদ করে। বিছানায় যখন রাজনৈতিক কারণে ধুমতলায় একসঙ্গে দুপুরে ঘুমোতে যায় তখন কেমন যেন যৌথভাবে পিপীলিকারা শরীরে কামড়াতে থাকে। সেই কামড় অত্যন্ত মারাত্মক। বেদনাদায়ক। ধূমতলাতে নাকি পিপীলিকার বসবাস অনেক বেশি। ধূমতলার মানুষরা জানে কিভাবে পিপীলিকাদের মারতে হয়। তারা মাটিতে কেরোসিন ঢালে। পিপীলিকার গর্তে স্পিরিট ঢালে। আগুন জ্বালে। ধূমতলা রাজনৈতিক কারণে বহু বছর উত্তপ্ত থাকে। ধূমতলায় এখন আর রাজারা বসবাস করে না। কিন্তু তাদের অদৃশ্য অঙুলি হেলনে চামচেরা আজও আছে।
ধূমতলায় আজ মানুষজনকে বেশি দেখা যায় না। চল্লিশ কিলোমিটার দূরে এক রাজনৈতিক সভা আছে। সেই সভাতে আসার কথা প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রী গরীবদের উদ্দেশে কিছু দামী ভাষণ দেবে। কুশল এই সংবাদে বেশ ক্ষিপ্ত সকাল থেকেই। রণেন কে নিয়ে ধূমতলার পচা পুকুরের কাছে দাঁড়িয়ে মানুষজনকে প্রধানমন্ত্রীর সভাতে যেতে বারণ করার জন্য বিকালবেলা থেকে অপেক্ষা করে। পচা পুকুরের ধারে প্রচুর পিপীলিকার বাস। মানুষজনও এইখান থেকে পিপীলিকার মতন ছুটে যাবে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। পিপীলিকার মতন ধীরে ধীরে কানে কানে কথা বলবে। সেই কথা কেউ শুনতে পায় না। রাজনৈতিক কথা শোনা বারণ দূরের জনের। এই বাক্য বোধহয় মানুষকে পিপীলিকারাই শেখায়।
 
গতকাল বিকালে অরণ্য পাহাড়ে যায়। পাহাড়টি অত্যন্ত সুদৃশ্য। বেশি উঁচুও নয়। পাহাড়ের ঢালে ছোট বড় বাড়ি। প্রতিটি বাড়ি বেশ গোছান। অরণ্য ভাবে বাড়িগুলি কি পিপীলিকাদের মতন! অরণ্য বহুদিন পিপীলিকাদের বাড়ি ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু পারে না। অরণ্যের মোটা শরীর কখনও পিপীলিকাদের গৃহে প্রবেশ করতে পারে না। অরণ্য নিজেকে কখনও পিপীলিকার সঙ্গে তুলনাও করে না। অরণ্য কিন্তু সেই বোকাদের মতন নয়। যারা নিজেকে পিপীলিকার মতন দেখে। ভাবে।
এখন বিকাল মানুষজন চলেছে পিপীলিকার মতন। পিল পিল করে। সারিবদ্ধভাবে। প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে যেতে সময় লাগবে আধঘণ্টা। প্রধানমন্ত্রী আসবে বিকাল চারটের সময়। ধৈর্যশীল মানুষেরা চলে অত্যন্ত আগ্রহে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের অনেক আশা ভরসা। প্রধানমন্ত্রী তাদের কী আশা ভরসার কথা শোনায় আজ যেন সেই দিকেই মানুষের অধীর আগ্রহ। উদ্দীপনা। পচা পুকুরের মাটির ঢিপিতে পিপীলিকারা খাদ্য সংগ্রহের জন্য আজ কেমন উতলা। হয়ত কিছুই পায় না। তবুও তারা ছুটে যায় খাদ্য সংগ্রহে। চলে সমান্তরাল রেখায়। কোনও পিপীলিকা বেলাইন হয় না। অত্যন্ত ধীর রেখায় তাদের চলন। শান্তভাবে এগিয়ে চলে খাদ্য সংগ্রহে। তাদের কোনও উত্তেজনা নেই। অশান্তি নেই। কোনও পিপীলকা কি খুন হয় রাজনৈতিক পরিবেশে! রণেন জানে না। পচা পুকুরের ধার দিয়ে পিপীলিকারা হাঁটে খাদ্য সংগ্রহে। খাদ্য আছে হয়ত কোথাও। কোনওখানে। কিন্তু পিপীলিকারা জানে না। আজ কি প্রধানমন্ত্রী গরীবদের খাদ্যের কথা কিছু বলবে! গরীব মানুষরা জানে না। তবুও পচা পুকুর ধরে পিপীলিকারা হাঁটে সারিবদ্ধভাবে।
 ধীরাজ থাকে গোলপার্কে। গোলপার্কের সামনের মাঠে প্রচুর পিপীলিকার বসবাস। গোলপার্কে এখনও সুন্দর সুবর্ণ নদী বয়ে যায়। সেই নদী জলে পিপীলিকারা সাঁতার কাটে।আবার মরেও যায়। ওখানকার মানুষরা পিপীলিকা খায় সাঁতারের জন্য। সাঁতার শেখার জন্য। পিপীলিকার সঙ্গে সাঁতার শেখার কী সম্পর্ক! কথাটি কে বা কারা বলে মানুষ আজও   সেই কথা জানে না। কিন্তু মানুষ সেই আপ্ত বাক্যটি এখনও মেনে চলে। শেখার নাকি শেষ নেই। বয়স নেই। সীমা নেই। ধীরাজের প্রাক্তন প্রেমিকা নিলাদ। পিপীলিকা খেয়েই নাকি সাঁতার শেখে। একবার গরমের সময় ধীরাজ আর নিলাদ ঘুরতে যায় পাহাড়ি এলাকায়। বিচিত্র বহুবর্ণ পাহাড় থেকে নেমে আসে জলধারা। সেই জলধারা সমতলে এসে তৈরি হয় জলপুকুর। লোকে বলে ধীরাজ আর নিলাদ সেই দুপুরে ছিল নেশাগ্রস্ত। দুজনেই ছিল বেসামাল। জলপুকুরে দুজনেই শরীর ঠান্ডা করতে যায়। জলস্রোতে জলবেগে ধীরাজ আর নিলাদ প্রায় হারিয়ে যেতে বসে। কিন্তু বাঁচিয়ে দেয় সেই পিপীলিকা। যেই পিপীলিকা ভক্ষণ করে নিলাদ সুইমিং পুলে সাঁতার শেখে। পাক্কা সাঁতারু হয়। নিলাদ কোনওরকমে ডাঙাতে উঠে লম্বা একটি দড়ির সাহায্যে ধীরাজকে ডাঙাতে তুলে প্রাণে বাঁচায়। কিন্তু কথা হল পিপীলিকা ভক্ষণ করলেই যদি সাঁতার শেখা যায় তবে পচা পুকুরে  প্রায় প্রতি বছর কেন একজন বা দুইজনের মৃত্যু হয়! তারাও পিপীলিকাদেরই বাসিন্দা। পচা পুকুরের সকলেই জানে সেখানে পিপীলিকাদের আড্ডাখানা। পচা পুকুরের ধারে মাটিতে কতসব পিপীলিকাদের বসবাস। প্রতি বছর কত পিপীলিকার সেখানে জন্ম হয়। মৃত্যু হয়। লোকে বলে পিপীলিকারা নাকি সঙ্গমে অত্যন্ত পটু। তা হলে মানুষরা কি সঙ্গমে অপটু! এই বিশ্বে মানুষের সংখ্যা কত! যদিও পিপীলিকার সঙ্গে মানুষের তুলনা আজ পর্যন্ত কেউ করেনি। না কোনও ঐতিহাসিক! না কোনও গবেষক! না কোনও লেখক! না কোনও কবি! না কোনও প্রাবন্ধিক!
স্পর্শা আর বনি সমুদ্র থেকে শহরে ফেরে গতকাল। গতকাল মানে রবিবার। রবিবার ছুটির দিন। শহর প্রাণহীন। জনমানবহীন। স্টেশনে নেমে দুজনে বাইরে আসে। দুজন দুদিকে চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু একটি দৃশ্যে দুজনেরই চোখ আটকে যায়। স্টেশনের বাইরে দেখে একটি ছোট ফুটো থেকে পিলপিল করে অসংখ্য পিপীলিকারা চলে উত্তর দিকে। উত্তর দিকটিতে আছে কিছু চায়ের দোকান। পিপীলিকারা কি মিষ্টি চায়ের জন্যই সারিবদ্ধভাবে সেইদিকে ছুটে চলে! পিপীলিকা বিশেষজ্ঞেরা বলে পিপীলিকারা নাকি চিনি মৃত পোকা মৃত মাছি মৃত কীট খেতে দারুণ ভালবাসে। যেখানেই এইসব জিনিসের গন্ধ পায় তারা পিলপিল করে ছোটে।
নেটে স্পর্শা পিপীলিকাদের প্রচুর গল্প পায়। তাদের জীবনযাত্রা। ঘরবাড়ির খবর। প্রজনন ক্ষমতা। বিরোধী শক্তি কারা। আরও অনেক কিছু। কখন কী অবস্থায় তারা মনুষ্যপ্রাণীকে কামড় বসায় ইত্যাদি। খুব ছোটবেলায় স্পর্শা একবার গ্রামের মামাবাড়ি যায়। মামাবাড়ি শহর থেকে বেশ দূরে। ট্রেনে সময় লাগে চার ঘণ্টা। জীবনপুর। জীবনপুরে স্পর্শা থাকে তিনদিন। স্পর্শা তখন ফ্রক পরে। বিভিন্ন রঙের ফ্রক নিয়ে মামার বাড়ি ঘুরতে যায়। স্কুলে পড়া স্পর্শা একদিন জীবনপুরে মামার আলু ক্ষেত দেখতে যায়। আলুক্ষেতের আলু গাছ দেখে স্পর্শা ঠিক থাকতে পারে না। শহরের মেয়ে বলে ক্ষেতের আলু গাছ দেখতে দেখতে দিশেহারা হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা আলুক্ষেতে দাঁড়িয়ে থাকে। এক সময় টের পায় তার জোড়া পা দিয়ে পিপীলিকার স্রোত শরীরে প্রবেশ করে। প্রায় যোনির কাছে যখন পিপীলিকারা আসে স্পর্শা হকচকিয়ে যায়। মেয়েরা কি যোনিপথ সম্বন্ধে বেশি কাতর। অথবা সচেতন। স্পর্শা টের পায় যোনি পথে কে বা কারা সুড়সুড়িয়ে হেঁটে আসে। আলুক্ষেতের পাশে ঘন জঙ্গলে একা লুকিয়ে ফ্রক তুলে প্যান্টি নামিয়ে দেখে পিপীলিকা শ্রেণীকে। স্পর্শা দুই হাতের আঙুলে তখন প্রচুর পিপীলিকাকে মারে। জঙ্গলের ভিতর তখন একা স্পর্শা আর পিপীলিকারা। কতগুলি পিপীলিকা মারে! মনে নেই। দশ কুড়ি তিরিশ অথবা আরও বেশি। স্পর্শা প্যান্টি নামিয়ে পিপীলিকার কামড়ের জন্য দুই হাতের নখ দিয়ে ক্রমাগত চুলকাতে থাকে। অন্তত দশ মিনিট ধরে আঙুলের নখ দিয়ে চুলকিয়ে কিছুটা স্বস্তি পায়। কামড়ের জ্বালা কমে। স্পর্শার এই গল্পটি প্রথম শোনে বনি সমুদ্রে বেড়াতে এসে। একদিন নিঝুম রাতে দুজনে সমু্দ্র ঢেউ গর্জন শুনতে শুনতে গল্পটির কথা শুনে খুব মজা পায়। বনি সেই রাতে স্পর্শার প্যান্টি  খুলে ডান হাতের আঙুলের নখ দিয়ে পিপিলিকার কামড়ের জ্বালা নতুন করে পুনরায় চুলকে স্পর্শাকে কিছুটা স্বস্তি আনন্দ মজা দেয়। ঘটনাটি ঘটে প্রায় দুবছর   আগে। স্পর্শা তখন স্কুলের ছাত্রী।
 সভা করে সন্ধ্যার মুখে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হয়ে যায়। গরীব মানুষেরা পিলপিল করে পিপীলিকার মতন ছুটে যায় প্রধামন্ত্রীর ভাষণের উদ্দেশে। বলা যাবে না গরীব মানুষেরা ভবিষ্যতে কী পেতে পারে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে! হয়ত কিছু পাবে! তা না হলে কেন এত পিপীলিকা সম ভীড়। মানুষ কি পিপীলিকা সম! এই কথা স্পর্শা বনি কুশল রণেন অরণ্য ধীরাজ নীলাদ এরা কি কিছু জানে! প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে পৌঁছে যায় মধ্য সন্ধ্যায়। ধূমতলার মানুষেরা এখন ঘরে। রাতের খাবার খেয়ে নিদ্রায় যেতে ব্যস্ত। রাতের বিছানায় মানুষেরা শোনে গুলির শব্দ। নিঝুম রাতে শব্দ বেশ কানে লাগে। সকলেই বোঝে বিরোধীরা আজ গোলমাল পাকাতে কেমন ব্যস্ত। বিশেষ করে কুশল রণেনরা। তারাও বিকাল থেকেই পচা পুকুরের কাছে দাঁড়িয়ে থাকে। ধরে ধরে মানুষকে বলে প্রধানমন্ত্রীর সভায় না যেতে।
রাত শেষ হয়। মানুষ ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরতে থাকে বিভিন্ন কাজের জন্য। পচা পুকুরের কাছে মানুষজন বাসন মাজতে আসে। পুকুরের ধারে বট গাছে বসে থাকা কাকেরা কেমন যেন ডাকতে থাকে। কাকেদের গলার স্বর অদ্ভুত কর্কশ। বাসন মাজতে আসা মানুষেরা দেখে দুটি মৃতদেহ। অচেনা অদ্ভুত মুখমণ্ডল। মৃতদেহ দুটিতে পিপীলিকারা অনায়াসে ঘোরে। পিপীলিকা সারি দুটি মৃতদেহর  নাকের      একটি ফুটো দিয়ে প্রবেশ করে অন্য ফুটো দিয়ে বেরিয়ে আসে। পিপীলিকারা কি মৃত মানুষকে পছন্দ করে! দুটি মৃতদেহের নাকে কি খাদ্য খুঁজে পায়! মৃত মানুষেরা পিপীলিকার কামড় টের পায় না। কুশল আর রণেন দুজনেই একদৃষ্টে আকাশের দিকে চেয়ে। দুজনের চোখের তারাই কেমন স্থির। নিস্তেজ। পিপীলিকাদের কামড়ে কোনও জ্বালা অনুভব করে না। শুধু মড়ার মতন পড়ে থাকে। শোনা যায় রাতে কে বা কারা দুজনকে গুলি করে। দুটি মাত্র গুলিতে দুজন শেষ হয়ে যায়।