অংশুমান-এর কবিতা

Spread This
অংশুমান

অংশুমান

আমার কর্ড, আমার ডেথ

যে রাস্তায় ব্যথাদের ছড়িয়ে গেছিলাম
বুঁদ সহস্র শতাব্দী রাত রাত ভোর
ফের কুড়োতে বেরিয়েছি
স্তব্ধ সম্মোহন অপ্রেম সর্বনাশ
আমারই ছিল তো সব
কোনদিন হারিনি বলে প্রকৃত কষ্টের
ভিতর চূড়ান্ত নিঃসঙ্গতা আমার ফেরত চাই
ফেরত চাই
এ কোন দাবি নয় আকাঙ্ক্ষা নয়
নিজেকে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলছি নিজের মনে করে

আর যাকে যেতে দেব
সে যাবে শীতার্ত পাহাড় ভেদ করে
সোহাগের অন্ধকার মহাসঙ্গমে তার জেগে উঠবে
মৃত হরিণের মাথা


ভুলকে আমি স্বীকৃতি দিই না তবু অজান্তে
একটা পার্পল ফুল আমি খেয়ে ফেলেছি
সন্ধ্যের আঙ্গার রাগ-রাগিণী নিয়েছি পুরনো শরীরে
ছটফটে ফুটন্ত ফুল একটা আমি
সৌন্দর্য সংসার কিছুর পারোয়া না করে তার বৃষ্টিমেঘ সব খামচে ধরে
গিলে নিয়েছি
রাগের আক্রোশ আমার সমান্তরাল
পাঁজর শিরায় শিরায় সেই রং ছড়িয়ে যাচ্ছে


নিজেকে ভুলে গেছি আমি
শিকারি থেকে হয়ে গেছি শিকার
তার নাভিকুণ্ডে যজ্ঞ হয়ে গেছে আমার ঘি আগুন কাঠ স্বাহা
ভালবাসা বা প্রতিযোগিতা কোনটাই চরম নয়
এই ডাইনামিক্স সংঘাত লজিক বিভ্রম মিলিয়ে যাবে
ব্রহ্মাণ্ড শেষ হবে
পড়ে থাকবে আমার পার্পল ছাই
একদিন


ঘুমের আঘাত লেগে থাকছে বারবার
সুতরাং যা কিছু অজান্তে বলছি তার অনেকটাই
স্বপ্ন আমার ভাঙা হারপুন জ্বলন্ত পিয়ানো
স্বপ্নচোট দিলকশ
আমার চিৎকার
যা আমার ফেরত চাই বলে সময়হীন এই রাস্তা
চিরে চিরে হাঁটছি
পা ঢুকে যাচ্ছে মাটির নরমে শরীরে রাস্তা লেপটে
তোমার জলে ডুবছি
ডুবে ডাকছি
মিউট মিউট মিউট বুদবুদ ওঠে নিশ্বাসের
প্রতিটা প্রতিধ্বনি বুকের ভেতর ঢুকে আসে আবার


সামনেই হীরা আর হীরা থেকে কষ
গড়িয়ে পড়ে তোমাকে দেওয়ার ওটুকুই অথবা
আত্মার চোখ
তোমার ঠোঁটের অপেক্ষায়
কপালে আদিম পাথর হয়ে আছে
একটা চোখ খুলে সরোবর উথলে দেওয়ার জন্য
প্রয়োজন ছিল
তবু যাও
যাও তুমি স্বর্গীয় অত্যাচারের ভিতর
আমারই উন্মাদ শঙ্খচিল সেখানে মায়া দিয়ে আসবে
বিহঙ্গ স্বপ্নের
ছায়া দিয়ে আসবে
আমার ত্বক ছিঁড়ে জন্মানো বোধিবৃক্ষের শাখা


আরোহে অবরোহে আমি বেপরোয়া
ফুল খেয়ে গাছের রন্ধ্রে ছড়িয়ে এসেছি
আমার আলো আলো জিন জিনোম
মাথায় রিনঝিন
ক্রমাগত অনুরণন ট্রিপ ট্রিপ চুইয়ে পড়ে
নখে আমার লেগে আছে ক্লোরোফিল
অভিমান নেই
আমার প্রয়োজন ফুরোয় না
উচ্চারণ নিভিয়ে দিই আমি
ঠোঁট দিয়ে আগুন চেপে
তুমিই তো আমি
যাও
অবিরাম বৃষ্টির ভিতর প্রখর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকো
অবহেলার কনসার্টে তোমার বেমানান অশ্রু
সেই তো আমার কর্ড
আমার ডেথ


তবু
অগুনতি স্নায়ুপথ চিনে ফেলেছি
তাদের ওষুধ পারফিউম আগুন এমনকি
তাদের ধ্বংস প্রবণতা
কোন দিকে নাভিশ্বাস
কণ্ঠ নরম হয়ে ওঠে কোন সাধকের ওমের মতো
আকাশের দিকে তাকিয়ে
মোন করো মোন করো ঈশ্বরের শার্ট টেনে ধরে
আর মৌনতার বিষাদ কাজল
মেঘে মাখামাখি হয়


এসব মুহূর্তের কথা নয়
মুহূর্তকে ভেঙেচুরে এক ইনফিনিটি
এমনকি তারও রিপিট রিপিট মাল্টিভার্স
যেখানে যাবে তুমি
হাজার ভঙ্গিমার বালিশ হয়ে তুমি শুয়ে থেকো
আদরের পরে
ঘুম হয়েই আসব
অতঃপর কেউ পাবে না টুকরো পৃথিবী কুচিকুচি পাথরের স্থিরে আমি
রিনঝিন চুরি করব ঘুমের পথে


প্রয়োজন ফুরোয় না
আমি পারপিচুয়াল রেনমেশিন
সময়ের উলটোপথে হাঁটতে চলতে
শিল্যুয়েট হিপনোসিসে একটা রগরগে ফুল
অন্তঃস্থ করেছি নিজের ভিতর
আর অ্যারোমায় নিশুতি বসে আছি
সেই গাছেরই নিচে
উল্কাপাতে আহত নিরন্তর


তবু
নজরানা হয়ে থাকা তোমায় মানায় না
অন্তহীন রাত পেরিয়ে
তুমি যাও
সুখ সকাল যা কিছু তোমার অধিকার
সূর্যের চোখে চোখ রাখো
তোমার আঙ্গুলে তার চিবুক ধরে পাখি পাখি ছন্দে
হাওয়াদের গান হও নবজন্মের

তুমি তুমি হলে
তবেই তো আমি হব
তাই না?