অনুবাদ-সুতপা সাহা

Spread This
সুতপা সাহা

সুতপা সাহা

হুলিও কোর্তাসার-এর অণুগল্প ও  কবিতার অনুবাদ

1914 সালে জন্ম হুলিও কোর্তাসার-এর । মস্তিষ্কে মায়াজাল বিস্তার করে অলৌকিক রহস্যের বেড়াজালে পাঠককে নিয়ে নিত্য ডুবসাঁতার খেলতে ভালোবাসতেন হুলিও কোর্তাসার। গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ, কার্লোস ফুয়েন্তেস এবং মারিও ভার্গাস ল্যোসার মতো কোর্তাসারও ছিলেন ল্যাটিন আমেরিকার বুম-সাহিত্যের এক অনন্য চমক। মানুষের অদ্ভুত মন, মস্তিষ্কে উৎসারিত বিভিন্ন জটিল আর অভিনব খেয়াল, অধিবাস্তবতা – সবকিছুই তাঁর গল্পের প্রতিপাদ্য বিষয়। সে-কারণেই কোর্তাসারকে তাঁর সমসাময়িক হোর্হে লুইস বোর্হেস, কার্লোস ফুয়েন্তেস, কিংবা গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের সঙ্গেই তুলনা করা হয়। বলা হয়, তিনি কাদা ও জলকে মিশিয়েছেন বাস্তবতা এবং কল্পনাকে ধারণ করে। সেইসঙ্গে ফরাসি দর্শন, মায়াবাস্তবতাকে আঁকড়ে ধরে বোর্হেসের মতো তিনিও ছিলেন একজন মানবতাবাদী চিন্তায় মগ্ন মানুষ। আর সে-কারণেই রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণের দিক থেকে কোর্তাসার ছিলেন আজীবন সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধ-শ্রেণির লোক। একই কারণে তিনি জোরগলায় সমর্থন জানিয়েছেন কিউবার বিপ্লবকে, আলেন্দের চিলি অথবা মানবতাবাদীদের পক্ষ হয়ে নিকারাগুয়ার বিপ্লবকে।

 
ইস্টার আইল্যান্ডের আয়নার হাবভাব
 
ইস্টার আইল্যান্ডের পশ্চিম দিকে যদি একটি আয়না বসানো যায় , তবে সেটা ছুটতে শুরু করবে পেছন দিকে। আর যদি পূব দিকে বসানো যায়, তবে ছুটবে সামনের দিকে। ভালোভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, যে জায়গায় বসানো গেলে আয়নাটি ঠিক সময় মেনে কাজ করে, এমন কোন নিশ্চয়তা নেই যে সেখানে অন্য কোনো আয়না বসালে সেও ঠিক একই ভাবে কাজ করবে। কারণ আয়নাগুলো নিজস্ব ত্রুটিপূর্ণ উপাদান দিয়ে তৈরি এবং নিজেরা যেমনভাবে চায় , সেভাবেই কাজ করে। অতএব গুগেনহাইম ফাউন্ডেশনের গবেষক ও নৃতত্ত্ববিদ সলোমন লেমোস যখন আয়নার ভেতরে নিজের দাড়ি কামানোর জন্য তাকালেন, দেখলেন আর এক সলোমন লেমোসকে যে টাইফাসে মরে কবেই ভূত হয়ে গেছে। আর এই ঘটনাটা ঘটলো আইল্যান্ডের পূব দিকে। এবং ঠিক একই সময়ে ছোট্ট একটি আয়না যেটা তিনি আইল্যান্ডের পশ্চিম দিকে পাথরের মধ্যে ভুলে ফেলে এসেছিলেন, সেটা দেখাতে থাকল আর এক সলোমন লেমোসকে যে হাফপ্যান্ট পরে স্কুলে যাচ্ছে, বাথটবে বসা ন্যাংটো সলোমন লেমোস যাকে বাবা মা অতি উৎসাহে গায়ে সাবান মাখিয়ে দিচ্ছে আর ছোট্ট সলোমন আধো স্বরে কথা বলে চলেছে ডা-ডা-ডা … আর এদিকে ত্রেঙ্কে ল্যাঙ্কেন-এর খামারবাড়িতে বসে সলোমনের এসব কান্ড কারখানা দেখে তার রেমোদিতোস আন্টির আনন্দ আর ধরে না, কি আহ্লাদ, কি আহ্লাদ।
 
 
 
 
 
গল্প
 
খুব সাদাসিধে সাধারণ কেউ একজন রাতের বেলা টেবিলের ওপর রাস্তার দিকের দরজার চাবি খুঁজছিলেন। টেবিলটা রাখা শোবার ঘরে, শোবার ঘরটি বাড়ির ভেতর, বাড়িটা একটা রাস্তার ওপর। এই পর্যন্ত এসে সেই সাদাসিধে সাধারণ মানুষটি থেমে গেলেন। কারণ রাস্তায় যাবার জন্য তার দরকার দরজার চাবিটা।
 
 
From the book of selected poems ” Save Twilight ” by Julio Cortazar , name of the poem ‘The Gods ‘.
 
 
                 ঈশ্বরগণ
                 ———–
 
ছড়িয়ে ফেলা জিনিসপত্র মাড়িয়ে ঈশ্বরেরা এগিয়ে যান ,
একরাশ বিরক্তি নিয়ে পোশাকের সেলাই উঠিয়ে ধরে পেরিয়ে যান
 পচে যাওয়া বেড়াল , ডিমফোটা লার্ভা, ভাঙ্গা বাদ‍্যযন্ত্র , ভেজা পূতিগন্ধময় নেকড়া…
ওদের চপ্পলের নিচে পড়ে থাকে সময়ের উদ্-বমন
ওদের নগ্ন আকাশে ওরা এখন আর বাস করেন না,
বহুবেদনায় নিজেদের পাশে রেখে দেন যন্ত্রণাগ্রস্ত  স্বপ্ন,
দুঃস্বপ্নের ক্ষত নিয়ে ওরা পিছলে যেতে থাকেন,
মৃতদের পুনর্গণনার জন‍্য থামেন…
অবনত মুখের মেঘেরা,
ছিন্নজিহ্বা সারমেয়-র দল,
ঈর্ষার দৃষ্টিতে গর্তের ভেতরে দেখে
যেখানে তীক্ষ্ম চীৎকারে ইঁদুরেরা পেছনের পায়ে ভর দিয়ে পড়ে থাকা পতাকার ছেঁড়া টুকরো নিয়ে
নিজেদের মধ‍্যে লড়াই করে ।