তদোগেন গিরতে-র কবিতা

Spread This

তদোগেন গিরতে

নবীন নস্কর, ভিলেজ জোখিমপুর
 
অসতর্ক মানুষের চোখে নিজেকে দেখতে ভালো লাগে
তাই বলি, গৃহের দুয়োরে দাও মদের দোকান–
স্বভাব-ঠরকি, মাতাল, লেঠেল, বিমর্ষ, সুইসাইডাল 
ইত্যাকার জনতার কুয়াশাপ্রপাতে ঠারেঠোরে দৃশ্যমান হই
 
অপিতু বলেন প্রভু, আও কভি হাভেলি পে, হবে শংখঘোষ
দেরিদা, চমস্কি, শীলভদ্র ধুপ হবে, ফটফটে রজনীগন্ধা
দর্শনে জাগিবে বস্তু, ‘আরো আরো’ প্রাণ হবে, সুশীলাংগ গান…
আমি বাপু নবীন নস্কর, অস্ত্রভস্কির ইস্পাত তো নই
জানি দার্শনিক, বস্তুরে স্ক্রুটিনিনয়নে, হেরিলে, গোধূমের খেত হতে
উড়ে আসে ব্রীড়া, লোহাও ক্যাবলা হেসে, মরিচাবদনে বলে– কুবুল কুবুল
বরং লাগাও মিয়াঁ সঘোর উয়াপা, তিহাড় গারদে অয়সফাটক হয়ে কাটাই তেকাল
তাতে কীই-বা উৎপাটিত হবে? 
(উৎপাটন মানে, ছেঁড়া গেল, দুঃশীল নিতান্ত ঋণাত্মক প্রয়োগ)
 
প্রয়োগ বুঝিনে, তবে আয়োগ আসিয়া বলে– দাও আয়কর,
আল দাও, জমি দাও, দাও চর্মচুল। লহ জিপিএস–
ন্যানোটেক– ট্র্যাকিং মণীষা। হাপুটে বিষম খাই, মণীষা তো গ্রন্থাগার
তেতলায় থাকে, হাইট আড়াই ফুট, লজেন দেখিয়ে বলে—খাবি!
তাকেও ট্র্যাকিং!
 
আমার সময় কোথা—সন্ধ্যা কাঁপিছে– ঠরকি, মাতাল সব 
নামিয়াছে পথে
যাই গিয়ে দৃশ্যমান হই!
 
 
কিরমিরিয়ার জলে ফসলবীমার মতো চাঁদ
তাকে তুমি লাগৎ বোঝাবে!
সার ও ডিজেল
 পেটচুক্তি, ঋণপত্র! 
 
ঝুপড়ি দোকান থেকে উড়ে আসা ভাপ
সকালের গতরে লাগবে
আজ কিছু নেই…
 
আজ মানে রাত্রি এই
তামার পাতায় তার রূপার লকীর…
সহসা শিউরে উঠে
নবীনের পুঁটুলিতে গুটিসুটি মেরে শুয়ে পড়ে
 
ব্যবস্থাই তো সত্য
অবস্থা আর কী?
প্রকৃতির মত, স্বভাবের মত
কেই বা আর আকৃতিতে আঁটে?
 
মানুষের কত থাকে পেটি-পেটি ভ্রমণ কাহিনী
পলেস্তরাখসা উত্তরদেশে
চেয়ার-হাতলে গামছা শুকাচ্ছে
আলু-জিরে থেকে মতি ঘুরে পুঁইশাকে পড়ে
মানুষ হোক আর তার ভ্রমণ—সবই তো উইয়ের খাদ্য, 
তবু–
বুকের ভেতর হুই-যে কুলসুম কুলসুম…
 
বলি, ভালো কি থাকতে নেই?
ভালো কি হবে না?
পুরুষ্টু মাথার ব্যথায়, আনমনা হয়ে যেতে যেতে
নবীন কি বলবে না–ওই তো পাহাড়!
 
 
সেই তবে যাওয়া
অবেলার ট্রেনে চড়ে জনমানুষের সাথে
সহমত হতে হতে যাওয়া
লাউডগের মত একটু আক্ষেপ, 
একটু একটু করে সাবলীল 
করে নেয়া স্টিলের গেলাস…
দূরের জানলা দিয়ে 
সরোবরে ভেসে ওঠে দুলারীর সায়া…
 
নবীনের আর্শি কেন লুকিয়ে দেখায়, প্রবীণ কলার
হাঁফিয়ে ওঠার দাগ লেগে আছে জামার হাতায়?
 
তাজ্জুব কী বাত হ্যায়ঁ, গেন্ডে নে কুছো নাহি কহা
চুপ-চাপ দারু পিয়া অওর সো গয়া
বলি, এ জোখিমপুরে গেন্ডা আসিল কাহাঁ সে
দু-পিস বীমারু মাল (গরুমারা হতে), এনেছিল ফরেস্ট অফসর
তার পর বিজলী-কা-ফেন্স, মক্ষি গলে না!
 
তবু দিনমানে, গাঁওবাসী দেখে– সার দিয়ে গন্ডার আসে
টোপাকুল খায়, মুরঝে নেতিয়ে পড়া সন্ধ্যামণির লতা,
গৃহের দলিল, মায় অকালবৃদ্ধের নকল ডেঞ্চার…
চুপ-চাপ! পৃথিবীতে পিনটি পড়ে না
ফজর-আজান হোক সুন্দরকান্ড্
টুঁটিতে সিঁটিয়ে বসে থাকে
পুরুত, মুয়জ্জিন, সরপঞ্চ, চৌপাল
তামাম এলাকা মূক-ম্লান…
 
ইহাদের মুখে মদ দাও, মুড়ি দাও
শ্লীলতার ইয়ে মারা ভাষা দাও
কোথা তুমি রবিন ঠাকুর?
 
ইলাকা জোখিমপুর,
প্রভাতে উঠিয়া পাখি, গাহে ঢিচক্যাঁও
আচমন সেরে প্রভু ভৃত্যেরে বলেন—এই মূলাধার আর ওই মুলাক্ষেত
মধ্যবর্তী অঞ্চলব্যাপী মনুষ্যপ্রকৃতি, ঘুমায়ে রয়েছে আহা, জাগাও তাহারে
বিপুল মাইকে বেজে ওঠে—কাঁটা লাগা!
মানুষের সম্বিৎ ফেরে, আজ তবে মুলাশাকে কুচি-কুচি জৌনপুরী মুলা
অন্নে দিব্য, রুটিতে অমোঘ
কেবল কাঁটার কথা শুনে 
আলস্যে পাশ ফেরে সান্যাল নারাণ