বৈশাখী নার্গিস-এর কবিতা

Spread This
Baisakhi

বৈশাখী নার্গিস

এপ্রিল দ্বিতীয়
১ 
 
এ-তো সুতোয় ঝুলন্ত নিউটনের সেই আপেল। যে আপেলের ভাগ নিতে গিয়ে শয়তানের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি, মারপিট। আমি বাগড়া দিই। আসন্ন যুদ্ধের আমেজ নিতে গিয়ে লাইভ ভিডিওতে আসেন ঈশ্বর। জন্মভূমির গান গাইতে গাইতে মঞ্চে প্রবেশ করেন সমুদ্র গুপ্ত। তলোয়ারে ধার নেই। যবনিকা পতন হবার আগে লোডশেডিং। ভারহীন গতিতে কয়েকদিনের ক্লান্তি। এইসব গদ্যের মাথায় ঢোকে না। গরমের ছুটিতে সে এবার কালপুরুষের সাথে মরিশাস যাবে। আমি টিভি খুলে বসি। নিত্যদিনের সংসারে মায়ের বক্তব্য কেন উদাসীন থাকি।জল দেখলে বেড়াল যেমন ভয় করে। আমি অন্ধকার দেখে লাফিয়ে উঠি। মোমের আলো নিভে আসে। লোডশেডিং নামে শহর জুড়ে। ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখি আপাত অন্ধকার দিনগুলো। জানলায় শোপিসের মতো রোদ পুষে রাখি। বিরক্ত বোধ করি কবিতার কথায়। উড়ন্ত মানুষের পিঠে তুলে দিই যাবতীয় রাগ। আবারও ভুলে যাই ডক্টর এর অমোঘ বাণী, স্বপ্নটা একটু কম দেখবেন।
 
 
কবিতাটার নাম সালভাদর। অবাক পৃথিবীর ওপারে দাঁড়িয়ে কয়েকটা মানচিত্র। আমার বরাবরের শখ ছিল একটা দূরবীনের। তারপর রাতের অন্ধকারে খোলা ছাদ। কিন্তু হাইবারনেশনেও জীবন দেখেছি। এভাবে জিতে যাওয়ার আগে ভাবি, আসলে কী এবং কেন! নিয়ন আলোয় ধোঁয়ার মতো ভাসতে ভাসতে একবার হাওড়া ব্রিজ, একবার ময়দান ক্রস করে ভিক্টোরিয়া ছুঁয়ে দেখি। নাহ, আমি পুরনো খামে লুকিয়ে রাখা চিঠিও হতে পারিনি। গলে যাওয়া সময় আপাতত সংঘাতের বাইরে। কতবার আর কতবার বয়াম খুলে মরীচিকা হবে। কবিতাটার নাম নার্সিসাসও হতে পারত। হয়নি। বিবেকের দরজায় কশাঘাত করতে করতে ফিরে গেছি। আর ভেবে নিয়েছি এক মুঠো বালি। ছাইপাঁশ উলটে আজকাল ঘাস পাতা চিবোতে ভালোবাসি। আমি কিংবা নরম বালুচর। আয়নার বাঁ দিকে এক পশলা বৃষ্টি নামুক এবার।
 
 
মাঝে মাঝে ঋতুমতী হয়ে উঠি। বিকেল নেমে এলে পসাইডন এসে বসে পাশে। আর ধোঁয়ার পর্দা সরে সরে যায় রাতভর। দু-চারটে কথা শেষে আমার চারপাশে ভিড় করে বেওকুফ শহর। ঘাড় উঁচিয়ে হাঁটে নামফলক। তবু অ্যালবামে আলো ফেলি। নিয়ন আলো মাখামাখি রাস্তায় শিরশিরে ব্যথা। এখানে ফোকাস হয় অ্যালজেব্রার কঠিন সংজ্ঞা। সরলরেখা, বক্ররেখা, সমতল, বিষমতল মিলিয়ে সবকিছু বৃত্ত হয়ে যেতে দেখি। জানি বেডসাইড সুইচ গল্প হতে হতে বহুদূর।