কৌশিক চক্রবর্তী-র কবিতা

Spread This
কৌশিক চক্রবর্তী

কৌশিক চক্রবর্তী

স্রোতের চিরুনি
…………………………
 
সেলাই করা সিঁড়ির লাবণ্যে
হাঁটুজল ভাঙে একান্ত –
একটা ব্যক্তিগত টিপ তখন আয়নায় লেগে স্রোতের চিরুনি হয়ে যায়
 
এখানে সমান্তরাল বলে কিছু হয় না।
প্রত্যেকটা জানলা কোনো না কোনো উপভাষার জন্ম দেয় রোজ।
তাদের হাত দিয়ে একটা পুকুর থেকে অন্য কোনো গল্পকথা
ঠুকরে দেয় বেদনাবালা আঙুল
 
ঠান্ডা ঠান্ডা চাঁদ ওঠে –
 
আমি দেখতে থাকি
ঠিকানা খুলে যাওয়া একেকটা নাম পকেট থেকে বেরিয়ে
উড়ে চলে যাচ্ছে
বুদ্‌বুদের উৎসবে
 
 
গন্ধের মলাট
……………………
 
চৌকাঠ থেকে তালু বার করে
বাষ্পের দিকে পেতে দিতে সবকিছু কেমন
আমিময় হয়ে ওঠে।
আমি দৃশ্যের কুঁচি দিয়ে রঙের সেলাই খুলে দিই।
একে একে ডাকটিকিটেরা ঝরে পড়ে
 
এবারে গাছে গাছে আলো উড়ছে
 
একদিন হয়ত
গন্ধের মলাট থেকে ওদের বাড়ি পৌঁছতে 
আর রিক্সা লাগবে না
 
হাওয়ারঙ বলে যাবে
কোন পথে সম্পর্কের আত্মহত্যারা
বাড়ি ফিরে গেছে
 
 
মাইলজোড়া ক্যালেন্ডার
………………………………
 
এই সমস্ত গন্ধ অপ্রকাশিত।
 
বিয়ের গ্রাম থেকে
সাইকেল বোঝাই ঘুম নিয়ে
সে রোজ ছুটি কুড়োয়।
 
এই এক অকালযৌবন ঘিরে রঙবেরঙ প্রজাপতি
 
মাইলের পর মাইল
তার ডাকবাক্স ঘুরে কোনো কোনো দিন রঙিন পাখিদের গায়ে
গল্প লাগে
 
এই সমস্ত দাগ ব্যক্তিগত।
এই সমস্ত বেলুন আসলে মনের অসুখ।
 
সেই ফিরে আসার ছাদে আমি তাই ক্যালেন্ডার টাঙাই
দোল খেতে খেতে দেখি
আখ্যানের রঙিন মলাট পেতে
সামনে শুয়ে আছে ভোরবেলার প্রসূতিসদন… 
 
রুমালের ভুরুটান
………………………
 
আমি আজ বাড়ি নেই।
ধোঁয়ার প্রচ্ছদ থেকে হাত নাড়ছে
ভুরুটান – কণিকামাত্র –
শুয়ে পড়ছে নখের দাগ 
রুমাল উৎসবে 
 
তোমাদের ছাদে বুঝি ছুটি পড়ে – 
তোমাদের সিঁড়িতে – বারণ হয় –
আমায় কিন্তু টাচ্‌ করবে না
তোমার সাদা প্যারামবুলেটর বড় হয়ে গেলে
থার্মোমিটার জানিয়ে দেয় 
অন্ধ হওয়ার সমস্ত গোপন পাঠ্যতালিকা
 
এই একটা মাত্র নিষ্ঠুরতা জানি
 
অবাধ্য ঘুম ভাঙিও না
 
ভূতে পাওয়া সাইকেলবালক তার সীমাহীনকে নিয়ে যেতে চায়
অ্যালবামের বাগানে
 
তাকে সমান্তরালগুলো ভুলে যেতে দাও
আনএডিটেড