শতানীক রায়-এর কবিতা

শতানীক রায়

যুদ্ধহীন যদি কোনো দেশ থাকে…


একটা অদ্ভুত গোড়ার কথা বলতে ইচ্ছে করছে। কোনো মন্ত্রী-সান্ত্রী নেই রাজা নেই কাশবন নেই মাঠ নেই ফুলের গাছও নেই। শুধু সন্ধ্যা আছে অনবরত সময় কাটিয়ে যাওয়া আছে। এতটা অনবরত যে, পৃথিবী কখনো অনুভব করেনি দেশ মনেও করতে পারবে না। এতটা আলো আর জাহাজে করে পাড়ি দেওয়ার গল্প। মানুষকে মানুষের ক্ষমা করার গল্প। পশুকে রক্তের সঙ্গে বহন করে নিয়ে যাওয়ার গল্প। সেই তো গোড়ার কথা। অবিচল গতিতে অনর্গল গল্প।                                         


শেকলের কথা। তবে টানাটানি নেই শক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই। অন্তরাল চেয়েছিল কোনো এক গৃহের পাখি। কখনো ভেতরে গিয়ে ফাঁকা বয়ামের ভেতর হাঁ করে থেকে সময় কেটেছে অনেক। অনেক হয়েছে এই বাধভাঙা হাসি। ছেলেবেলার ট্রেন। হাতিঘোড়া। বয়ামের ভেতরে আহা! এ কার স্বর— শব্দহীন অক্ষয়বটের গান জানে। কখনো বাইরের দিকে তাকিয়ে। অনুরণনহীন। বয়ামের ভেতরটা আস্তে আস্তে আরও বেশি টানাপোড়েনহীন। আর কার কথা বলি! অশ্বচালিত এই সব কিছু ভেতর বাইরে শব্দে নিঃশব্দে বাঁচার ও হেঁটে বেড়ানোর ঘোর আলো। এই মত্ত শেকল নিয়ে আরও বেশি ভাবতে বসা যাক, চলো।         


পুরাকালের রক্তমাংস…

সন্ধি ও সময় পাশাপাশি ছিল। সেইসব দিনে ফুল ফুটত। পাখিদের সহজ ওড়া ছিল। পাখায় চেপে উড়তে উড়তে উপকথা কখন যে কাহিনি হয়ে উঠত সে-সব কথার আওয়াজ আসে আজ। কখনো পাহাড়ের পিঠে চেপে মাংসবিক্রি করতে আসে কেউ। যে-দিনগুলো নিজেকেই সুন্দরভাবে গুছিয়ে ভুলেছে তা এতদিন পরে আবার ফেরার সময় হলে মেঘ ডাকার নামান্তর ঘটে।

শেয়ার করুন