কৃষ্ণেন্দু পালিত-এর গল্প

Spread This
Krishnendu palit

কৃষ্ণেন্দু পালিত

মোরগ

কলপাড়ের কাদা থিতানো জলে কলমির ঝুঁকে পড়া প্রতিবিম্ব। উবু হয়ে বসে বাসন মাজে সে। সামনের কলমির ঝোপে ছুঁড়ে ফেলা এঁটো জল টুপটুপ চুঁইয়ে পড়ছে ফোঁটা ফোঁটা। সেদিকে তাকিয়ে আনমনা হয়ে পড়ে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে তপেশদার মুখ। গলায় সহানুভূতি, কলমি তুই সত্যিই কলমিলতা। সারা জীবন মুখ বুজে সহ্য করলি, বুক ফাটলেও মুখ ফাটল না…
কলমির বাঁকা ঠোঁটে ফুটে ওঠে চিড় খাওয়া শুকনো হাসি। যন্ত্রণায় করুণ অথচ তীক্ষ্ণ৷ ধারালো ফলার মতো সে হাসি তপেশের বুকে বিঁধেছিল। রগচটা তপেশ মুঠো হাত শূণ্যে ছুঁড়ে আস্ফালন করেছিল, হারামির বাচ্চাটাকে যদি কোনোদিন হাতের সামনে পাই…, কথা শেষ না করেই মাঝপথে থেমে গিয়েছিল, কলমির দিকে চোখ পড়ায়।
কলমির চোখে জল। অন্যমনস্কতার সুযোগ নিয়ে গুটি গুটি এগিয়ে আসে ঘোষালদের লালঝুঁটি ধূর্ত মোরগ। উঠোনে শুকোতে দেওয়া ধান ছড়িয়ে ছিটিয়ে খেয়ে তছনছ করে।
— হু-স-স, ঝাঁ…। বেহায়া মোরগ বাবা, এত মার খায় তবু লজ্জা আছে! ঘুরে ফিরে সেই ধানে। এত বলি বেঁধে পোষ… মানুষ এত নাককান কাটা হতে পারে…
কলমির তর্জন-গর্জনে দু-চার পা পেছনে সরে, থমকায়, চোখ পিটপিট করে কলমিকে দেখে। তারপর গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে আসে আবার।
কলমি বাসনমাজা থামিয়ে হাতের কাছে নুড়ি খোঁজে। ছোটো একটা ইটের টুকরো কুড়িয়ে পায়। ছুঁড়ে মারতে হাত উঁচু করতেই ডানা ঝটপট উড়ে পালায় ধূর্ত মোরগ। কলমির হাত তবু শূণ্যে আটকে থাকে। বাড়ির বাঁ-ধারে কাঁচা রাস্তা ধরে একটা শোরগোল এগিয়ে আসছে। অসংখ্য গলার ভিড়ে তপেশদার গলাটা চিনতে পারে৷ তবে কি তপেশদার সঙ্গে কারও বাঁধল!
জটলাটা এগিয়ে আসতে আসতে তাদের বাড়ির সামনে, বেলতলায় এসে থামে। কলমি চমকে ওঠে। বংশী৷ তপেশদার শক্ত হাতের মুঠোয় বন্দী। চিনতে কষ্ট হয় মানুষটাকে। কী চেহারা হয়েছে! হাড় জিরজিরে কঙ্কালসার চেহারা। ময়লা শার্টের সবকটা বোতাম ছেঁড়া, বুকের খাঁচায় স্পষ্ট হাঁপরের ওঠানাম, না কামানো দাড়িগোঁফে ভাঙা চোয়াল, ইতস্তত আঘাতের চিহ্ন, ঠোঁটের কষ বেয়ে রক্ত গড়াচ্ছে।
কলমির মুঠি আলগা হয়ে যায়। খসে পড়ে নুড়ি। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে থিতানো জলে স্থির প্রতিবিম্ব ভেঙে খানখান হয়। কলপাড়ে বাসন ফেলে এক দৌড়ে ছুটে পালায় ঘরে। দরজায় হুড়কো তুলে বিছানায় আছড়ে পড়ে, মুখ গুঁজে দেয় বালিশে।

দুই

বাতাসেরও কান আছে। ঝড়ের বেগে কথা ছোটে। দেড় ক্রোশ দূরে মহেশপুর বাজারে সনাতন কর্মকারের কামারশালা। আজ হাটবার। সকাল থেকেই কাজের চাপ। দূর দূর গ্রাম থেকে খদ্দের আসে কাজ নিয়ে।লাঙলের ফাল পোড়োনো থেকে কাস্তের আলকাটা, পাশনের আছাড় পরানো, হাঁসুয়ার পান…। কাজের চাপে শ্বাস নেওয়া দায়। তবু বংশীর খবরে সমস্ত কাজ ফেলে, দোকান উদোম রেখেই হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসে সনাতন।
পাঁচ বছরের মাথায় ফিরল বংশী। ফিরল বললে ভুল হবে, সন্ধান মিলল। রাখি মালের ব্যবসা তপেশের। ব্যবসার প্রয়োজনে ঘুরে বেড়াতে হয়। আজ গিয়েছিল কইপুকুর। সেখানেই বংশীকে দেখে। হয়তো নতুন কোনও ধান্দায় এসেছে। তপেশের মাথায় রক্ত চড়ে যায়, কাজ ফেলে বংশীকে পাকড়াও করে।
প্রথমে নিজের পরিচয় স্বীকার করতে চায়নি। সে নাকি বংশী নয়, বাসুদেব। কলমি নামের কাউকে চেনে না। সনাতন কর্মকারের নাম জীবনে শোনেনি। কাঁহাতক সহ্য করা যায় ঠগবাজটাকে! ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দেয়। চিৎকার চেঁচামেচিতে লোক জমে গিয়েছিল। গতিক খারাপ দেখে শেযে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।
বছর এগারো আগে বংশীকে প্রথম আবিষ্কার করে সনাতন। কাজের সন্ধানে ঘুরতে ঘুরতে তার কামারশালায় এসে উপস্থিত হয়েছিল। বছর বাইশ বয়স, শক্তপোক্ত চেহারা, আলাপ-ব্যবহারও মনে ধরার মতো। সনাতনের ভালো লেগেছিল। সেই সাথে করুণা হয়েছিল ছেলেটার জন্যে। ছেলেবেলায় বাবা-মাকে হারিয়ে, দূর সম্পর্কের দাদা-বউদির কাছে মনিুষ। এতদিন ছোটো ছিল একরকম, এখন বড়ো হয়েছে, পরের সংসারে বসে খায় কোন মুখে!
ছেলেটার কথাবার্তায় অদ্ভূত সরলতা। সনাতন মুগ্ধ হয়েছিল। সেসময় একজন কর্মচারীরও প্রয়োজন ছিল দোকানে। বংশী যদিও একাজের কিছু জানে না, নিজ মুখে সে স্বীকার করেছিল। তবু বংশীকে কাজে বহাল করেছিল। থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা তার বাড়িতেই।
বছরখানেকের মধ্যে বাড়ির সকলের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছিল মিষ্টি ব্যবহারের জন্যে। প্রতিবেশীদের কাছেও প্রিয় হয়ে উঠেছিল। কাজে কোনও অনীহা ছিল না। শেখার প্রতি আগ্রহ ছিল।
বড়ো মেয়ে কলমি ততদিনে বিবাহযোগ্যা। পাত্রস্থ করতে হবে তো। হাতের কাছে বংশীর মতো সুপাত্র থাকতে কে আর ছোটাছুটি করে। সনাতনও ঝামেলায় যায়নি। পরিবারের মত নিয়ে সরাসরি প্রস্তাব রেখেছিল বংশীর কাছে। বংশী এককথায় রাজি।
শুভকাজ মিটে গেল নির্বিঘ্নে। কথা ছিল বংশী ভালো করে কাজ শিখলে তাকে একটা নিজস্ব কামারশালা করে দেবে। সেইমতো, বিয়ের দু’বছরের মাথায়, তাদের মেয়ের বয়স যখন মাত্র একবছর, সনাতনের কাছ থেকে দু’হাজার টাকা নিয়ে বংশী সদরে যায় কামারশালার যন্ত্রপাতি কিনতে। ফেরে তিন বছর পর। অনেক গল্প ফেঁদে সহানুভূতি আদায় করেছিল সেবার। দ্বিতীয়বার একবছরের মাথায়, ছেলেটা যখন মাত্র ছ’মাস পেটে, কলমির সমস্ত গয়নাগাটি নিয়ে পালায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানা গিয়েছিল, আরও দু জায়গায় এমন বিয়ে করেছে বংশী। সবক্ষেত্রেই ঘরজামাই। মাঝে মাঝে এক এক জায়গায় উদয় হয়। কয়েকমাস থাকে, তারপর টাকাপয়সা গুছিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও বংশীর কোনও হদিশ মেলেনি আর।

তিন

বেলগাছে পিঠমোড়া দিয়ে বাঁধা বংশীকে। তাকে ঘিরে গ্রামের কৌতূহলী মানুষ। উত্তেজিত। হাত নিশপিশ করছে তাদের।
-শুয়োরের বাচ্চা, মেয়েদের লাইফ নিয়ে ছিনিমিনি…, তলপেটে একটা ঘুঁষি বসায় তপেশ। বংশী কঁকিয়ে ওঠে, মাগো…
-শ্লা, মেরে পিষে ফ্যালব। বিয়ের নামে রস টসটস করে, না? অ্যাই ভোলা, চাকুটা নিয়ে আয় তো, শালাকে খাসি করে দিই।
এমন সময় সনাতনকে আসতে দেখে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে বংশী, আমারে মেরে ফেলেন আপনারা। আমি অপরাধী, কলমিরে অনেক কষ্ট দিইচি…
-আবার ড্রামা! তপেশের পরবর্তী ঘুঁষিতে বংশীর একটা দাঁত ছিটকে পড়ে। ফোঁটা ফোঁটা রক্তে বুকের জামা লাল হয়ে যায়। সনাতনকে শুধোয়, আপনি শুধু অনুমতি দ্যান কাকা, আমরা দেখে নিচ্ছি…
কী বলবে বুঝতে পারে না সনাতন। কলমির কাছে ছুটে যায়। দরজা বন্ধ, জানলা দিয়ে পরামর্শ চায়, কী করব বলে দে কলমি…
-জানি না। কিচ্ছু জানিনে।
কলমি জানলা বন্ধ করে দেয়। হতাশ হয়ে ফিরে আসে সনাতন। বাইরে ছেলেদের কাছে বংশী তখন হাতের সুখ মেটানোর উপকরণ। সনাতন সহ্য করতে পারে না। যতই হোক জামাই তো! কষ্ট হয়। কলমির জনই কষ্ট হয়। যদি সত্যিই বংশীর মতিগতি ফিরে থাকে! যদি আবার তারা ঘর বাঁধে! যদি সুখী হয় মেয়েটা। বংশীকে ছেড়ে দিতে বলে সে। সন্ধ্যায় পঞ্চায়েত ডাকবে। সেখানেই বংশীর বিচার হবে।

চার

সন্ধ্যায় সনাতনের উঠোনে জমজমাট পঞ্চায়েত। গ্রামরে মোড়ল মাতব্বর বয়স্ক মানুষের সমাগম। বংশী হাতে পায়ে ধরে তাদের। যা হওয়ায় হয়ে গেছে, সে অনুতপ্ত। এবারের মতো ক্ষমা করা হোক। কলমিকে নিয়ে সে আবার সংসার করতে চায়।
-তুমি কী বল সনাতন? পঞ্চায়েত সনাতনের মত জানতে চায়। সনাতনের চোখ ঝাপসা। বুকের ভিতর আশার ফানুসটা ছোটো ছোটো স্বপ্নে ফুলতে থাকে। কম কষ্ট পাচ্ছে না মেয়েটা। না জানি আরও কী আছে কপালে! কাঁচা বয়স, বাবা হয়ে দু’বেলা চোখের সামনে মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে পারে না।
-আমি কী বলব! পাঁচজন আছেন, আপনারা যা বলবেন তাই হবে।
-তবু তোমার একটা মত আছে, সেটা জানা দরকার।
সনাতন নিরুত্তর । মুখ নিচু করে থাকে। অন্যদের বুঝতে অসুবিধা হয় না তার মনের কথা। অসহায় মেয়েটার ভবিষ্যতের কথা ভেবে আরও একবার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পঞ্চায়েত। তবে শর্তসাপেক্ষে। সভা বিধান দেয়, শুনেছি আরও দু-তিন জায়গায় বিয়ে করেছ। কলমিকে ঠকিয়েছ দু-দু’বার। মোটের ওপর তোমাকে বিশ্বাস করা যায় না। যদি সত্যিই সংসার করতে চাও, দুবারে যত টাকা আর সোনা গয়না নিয়ে পালিয়েছ, একবছরের মধ্যে সব ফেরত দিতে হবে। ততদিন স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকবে, রাতে আলাদা শোবে। থাকার জায়গা দেবে সনাতন। খাবে সনাতনের ঘরে। খাই খরচা বাবদ মাসে মাসে টাকা দিতে হবে।
বংশী রাজি হয়। যে কোনও মূল্যে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে সে প্রস্তুত, বিনিময়ে কলমিকে যদি পায়। কলমিকে নিয়ে সে আবার সংসার পাতবে।

পাঁচ

মাঝরাতে উথালপাথাল ঝড়। মড়মড় শব্দে ডাল ভাঙে। বৃষ্টি মুষলধারে। ঘনঘন বিদ্যুতের চমকানি। ঝড় কলমির বুকেও। ঘুম আসে না। চোখ দুটো জ্বালা করে। ছটফট করে বিছানায়।
অনেক… অনেক রাতে দরজার কড়া নাড়ার শব্দে চমকে ওঠে। বাতাস নয়তো! ভালো করে খেয়াল করতে ফিসফিস গলা কানে আসে, কলমি দরজা খোল। আমি বংশী।
ঝড় বাড়ে, ভয়ে কাঁপে কলমি।
-কলমি দরজা খোল। আমি বংশী, তোর সোয়ামি…
বারান্দায় বিছানা করে রাতে শোয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল বংশীর। বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে হয়তো! বুক ধড়ফড়ানি নিয়ে দরজা খোলে সে।
-কতদিন দেখিনি তোরে! বংশী ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলে।
কলমি উত্তর দেয় না।
-আমারে ক্ষমা কর কলমি, অনেক কষ্ট দিইচি তোরে…
-কী দরকার কও! কলমির গলায় উষ্মা।
-কতদিন তোরে আদর করিনি।
কলমি দপ করে জ্বলে ওঠে। শক্ত হাতে মুঠ করে ধরে দরজার হাক। বলে, এগোবা না বলচি…
-বাধা দিসনে, তুই আমার অগ্নি-সাখকি বউ…
-খবরদার!, কলমি ফুঁসে ওঠে, চিল্লিয়ে লোক ডাকব কিন্তু…
বংশী এবার ভয় পায়। পিছিয়ে আসে। ব্যর্থ হয়ে আক্রোশে শাষায়, কাজডা ভালো কল্লিনে…
বংশী ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে দরজায় হাক তুলে দেয় কলমি, দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে হাঁপায়।
পরদিন সকালে বংশীর বিছানা ফাঁকা৷ অনেক খুঁজেও তার কোনও হদিশ মেলে না। সবাই নিশ্চিত হয়, বংশী আবার পালিয়েছে…

ছয়

পাড়া প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা দেয়, কী করবি বল! সব এই চার আঙুলের ফের! ভগবান যা করে মঙ্গলের জন্যে, ভালো হয়েছে শয়তান পালিয়েছে। থাকলে হয়তো আবার একটা…
কলমি চুপচাপ শোনে, কোনও উত্তর দেয় না। সামান্য মনখারাপ কয়েকদিনের মধ্যেই সামলে ওঠে। কোমরে আঁচল জড়িয়ে ব্যবসায় নামে আবার। দ্বিতীয়বার বংশী পালালে তপেশদা পরামর্শ দিয়েছিল, শুধু শুধু বাবার ঘাড়ে বসে খাবি কেন, কিছু একটা কর, তাছাড়া বাবা আর ক’দিন। বাড়ি বসে ধান চালের ব্যবসা কর, আমি সব ব্যবস্থা করে দেব…
সেই থেকে ধান-চালের ব্যবসায়। প্রথমে গ্রাম থেকে ধান সংগ্রহ করতো। এখন হাটে হাটে… পাইকারি মাল কিনে ভ্যান বোঝাই করে বাড়ি… নিজের হাতে সেদ্ধ, শুকোনো। সেই চাল ভ্যান বোঝাই হয়ে আবার হাটে…। রাতে ঘরে ফিরে কলমি লাভ-লোকসানের হিসেব মেলায়। বিকালে চুল বাঁধে পরিপাটি৷ কপালে বড়ো করে সিঁদুরের টিপ পরে। না, বংশীর জন্য নয়, অভ্যাসে। সন্ধ্যায় ধূপধুনো দেয় লক্ষ্মীর আসনে, তুলসীমণ্ডপে প্রদীপ দেখায়। গলবস্ত্র হয়ে দীর্ঘ গড় করে। মাঝে মাঝে তপেশদা আসে, খোঁজ খবর নেয়। দু’দণ্ড বসে গল্প করে। কলমির ছেলেমেয়েদুটো স্কুলে ভর্তি হয়েছে। বারান্দায় খেজুরপাতার চাটাই বিছিয়ে কেরোসিনের আলোয় পড়তে বসে তারা। দুলে দুলে সুর করে পড়ে, ‘এক-এ চন্দ্র, দুই-এ পক্ষ’। ‘অ-য় অজগর আসছে তেড়ে, আ-য় আমটি খাব পেড়ে’। কলমি পাশে বসে আসনে মাকড়সা-পা ফোঁড় তোলে। কী খেয়াল হতে ছেলেটা হঠাৎ প্রশ্ন করে, মা, অজগর তেড়ে আসছে কেন?
কলমি চমকে ওঠে। তারপর অন্যমনস্ক। বাইরে অন্ধকারের দিকে তাকায়। উঠোনের এক কোণে কচুবনে জোনাকির ঝিকিমিকি। কোথাও একটা তক্ষক ডাকছে। ভাঙা চাঁদটা লটকে আছে বাঁশঝাড়ের মাথায়। অজগর নয়, কলমির ভয় মোরগে। ঘোষালদের লালঝুঁটি ধূর্ত মোরগ। দীর্ঘ চঞ্চু, লকলকে জিভ। কলমির অসাবধানতার সুযোগে বারবার ধান খেয়ে যায়। স্পষ্ট অনুভব করে সে, মোরগটা গুটি গুটি পায়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে। অভ্যাসে তাড়া দেয়, হুঁ-স-স, ঝাঁ—, বেহায়া মোরগ। এত মার খায় তবু লজ্জা আছে! ঘুরে ফিরে সেই ধানে। মানুষ এত নাককান কাটা হতে পারে…

————————-