স্নিগ্ধা বাউল-এর কবিতা

Spread This
Snigdha Baul

স্নিগ্ধা বাউল

১। স্বপ্নালোক

দূরের কেবলই ঢেউ ভাঙছে, একা নাবিক
সমুদ্রের জলে প্রতিটি নিশ্বাস
বহুদিন ধরে রাখা নগরের আলো
ঢিমেতালে দীর্ঘ হয় ছায়া,
হয় ভয়, স্বপ্ন হয়,
নিজেরেই সমুদ্র মনে হয়
অসংখ্য ভার্সন হয়ে গেছে যার
শূন্যর কোঠায়, লবণাক্ত স্বরে,

এসব আজ দূরত্ব মেপে রাখছে
পৃথিবীরে আলিঙ্গন করবে বলে
ব্যর্থ জলোচ্ছ্বােসের মতো সংকল্প সঞ্চারিত করে
যেন ফিরে গেলেই মুক্তি
জীবনের নামে, অসম্ভব কিছু
নগরের আলোয় নিজেকে দেখার তৃষ্ণা,

তবু নাবিক ছুটে যায়
প্রবল স্রোতের কাছে প্রত্যাশা লয়ে
এ পৃথিবী জুড়ে দেয় তারে আরও দূর নির্বাসনে।

২। আকাশীরং জংশন

এখানে রাতের রাস্তাগুলো
ঝকমক করছে জোছনায়
যেন কালো চুল আর রাস্তার পিচ
দুটোই নারীর উর্বরত!
এমন রাতের পথ আমরা হেঁটে যেতাম
শ্যামলীমা নদীর জলে
বাঁকের মুখে সবুজ মাঠ
মুখের আদল লয়ে এখনও জেগে থাকে,
পরস্পরের এমন দৈবিক দান
অথচ একা অনুভব করছি
ডানা ঝাপটায় যে পাখি তার পরিত্রাণ!

নিজের কাছে সীমাবদ্ধ রাতের ভাংচুর
নেমে আসে রাস্তা,
হেঁটে যাই জীবন্ত বীজের দুর্মূল্যের উচ্চাকাশে;

সহস্র বনবীথিকা আমায় ডাকে আকাশে
অপরপ্রান্তে- কান্না লুকিয়ে রাত যেখানে
ভোর ডেকে আনতে অজস্র তারার মতো
নিজেরে বিকায়ে এমন একটি কবিতা হয়।

৩। ক্লান্তিতে নীলকণ্ঠ  

নীলকণ্ঠ
ভবদহের জলে ডুবে গেছে পুরোনো ছবি
অতৃপ্তি আর তেষ্টায় গলা ফেটে যায়;
অথচ খালি পা হেঁটে গেছে ঐ নদীর দিকে
গেলো বছর অথবা জামরুলের সবুজ ফুলে
কাটা কাটা চোখ আলোকের মতো খুঁজে ;
নীলকণ্ঠ
সন্ধ্যার পর মা গল্প বলতো
পরী আর রাজকুমার; পদ্মপাতার জল
জমে থাকা এক কুয়ার ছবি; প্রথম আয়না আমিও
দেখেছিলাম, চৈত্র মাসের শেষ প্রহরে,
নীলকণ্ঠ গো
পিচঢালা পথে ছায়া খুঁজি
বয়স্ক দুপুরের পেটের ভাঁজে ভাঁজে
একটা ছায়া; একটা হাত কিছুদিন ধার দেয় কেউ
অলি গলি থেকে মহানগরের নিয়ন বাতিতে।
নীলকণ্ঠ আমার
সোনার ফ্রেমের বিকেল জুড়ে দিলাম
আভিজাত্যের অহংকার;
ছেড়ে গেলেই মরে যাবে এমন
মিছামিছির সংসার ।