বৈশাখী নার্গিস-এর কবিতা

Spread This

বৈশাখী নার্গিস

১। অসময়

রোদ পড়ে এলে আমিও স্নান সেরে নিই। শালিক পাখি গুলো উড়ে যায় বাসার দিকে। দক্ষিণের বারান্দায় এসে বসে পাগলিটা। এতদিন সে সোয়েটার বুনত। চোখের তারায় ঝিলিক দিয়ে উঠত চকমকি ভালোবাসা। ডাউন ট্রেনের আওয়াজে অসময়ের আলসে ছাড়ি। শাওয়ার থেকে টুপটুপ জল পড়তে থাকে অবিরাম। শীত-বসন্ত কাটিয়ে ম্যানিকুইন প্রেমিক ফিরে আসে। হাতে ক্যানভাস। আমি হাসি। এত বড়ো আকাশ, সঙ্গে এত ছোট গাছ কী করে এঁটে যাবে একচিলতে ড্রয়িংরুমে। সে কপালে আদর আঁকে। হাতে হাত রেখে বলে, হলুদ পাখি সবকিছু কি জানতে আছে। আমি ভুলে যাই এই সংসার। পাগলিটা চেঁচিয়ে ওঠে। আমার কাঁচা ঘুম ভেঙে যায়। যোগাযোগ বিহীন জীবন সময় ভুলিয়ে দেয়। আমি ছায়া হয়ে উঠি। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত দেড়টা। আকাশের নীচে দাঁড়াই। আমার এই একটাই আকাশ আর অনেকখানি মুক্তি।

পাশের পাড়ায় কোথাও উলু দিয়ে ওঠে কেউ… শঙ্খ বাজায়।

২। স্মৃতি এবং

দেহাতি সাম্রাজ্যের মতো লুকিয়ে রাখি সৈনিক। এলোমেলো পায়ের চলায় সহস্র ঘোড়সওয়ার। সওয়ারী ভীষণ বত্তমিজ। চায়ের ভাঁড়ে সিগারেটের টুকরো চাপিয়ে হাঁটতে শুরু করে বেশরম।
নির্বাসিত যুগলের মতো। কপালে তিলক, ঠোঁটের ভাঁজে তাচ্ছিল্য। আমি সেই গল্পের সাইড এফেক্ট। এইসব গুলতাপ্পির পর গুটি সাজাই। দেওয়ালে ঠেস দিয়ে ভাবি অনেক হলো। পৃথিবী ছোটো হয়ে এসেছে। আমার অবাক হয়ে যাওয়া বাবার ভেতর ছোট আমিও কবে দূরের হয়ে গেছি।
আর বাকি সবার কথা… ছেড়েই দিলাম না হয়। একবগগা ধু ধু বসন্তের ভেতর আরও একটা জন্মদিন। আসলে ভাগ করে নেওয়ার মতো আর কিছু নেই।
টিমটিম করা জলের স্রোত। একটা পাহাড়ি নদীর চোখ। বাওবাব গাছের স্মৃতি। সামুদ্রিক কথোপকথন। বাবার পিছু ডাকা। নীরব সম্মতি।
এই সব খেলনা। আমার কোনো আমি নেই। না বলার ভেতর কবে যে তুমিও আড়মোড়া ভেঙে দূরে ঠেলছ। আর ফিরে পাচ্ছি নোনা স্বাদ।

৩। গভীর অসুখ

যেভাবে দূরে সরে যায় নৌকো। আমি নদী থেকে আকাশ ছুঁয়ে দিই। একটা গভীরতম অসুখের ভেতর জাগিয়ে রাখি নিজেকে। কীভাবে কথার পিঠে কথা রাখব ভেবে পাই না। প্রত্যেকটা শব্দের চোরাগলিতে লুকিয়ে রাখি আবেগ। মরুপথ অনেকদূর। একবার ব্রিজ পেরিয়ে গেলেই ওপারে শহর। মনোময় আজো কথা বলে শহরের। ওর শেষ নিশ্বাসে নিশি জেগে ছিল। ওর হাতে একটা মস্ত শহর। আমিও শহর আঁকি চশমার কাচে। মহাশয় জানে না। নদী আজো বয়ে যেতে যেতে কি আঁকে। ভুলের ভেতর হাঁটতে গিয়ে সরে যায় সব। মধ্যবর্তী নিশ্বাসও।