অমিতাভ প্রহরাজ -এর গদ্য

Spread This
Amitava Praharaj

অমিতাভ প্রহরাজ

রাইনী-

বলা বলা জলে তার সুহানা ফুটেছিল। আমি তার আকাশের বাহন মাত্র। আমাকে লিখতেন কতো কিছু দিয়ে, হাসির বাচাল, দেহের কৌটো, শব্দধানের ভাত, হবুচন্দ্র নাভি আর তার গবুচন্দ্র কথা, কল্যাণীয়া অধর আর তার ডীয়ার ও ডীয়ার জিভ, ঘাড়ে লেগে আছে জ্বর উনি নিজে হাতে মুছে দিতেন। আরো তো যা আছে তার কথা ও কোকিল গুণেই ওনার ভূতে পৌঁছনো যাবে। তারপর তো যা হয় হতো তার কথা সাঁই ও সুজন জানে, হয় হতো হয় হতো এভাবে দ্রিদিম মেনে একটি রণক্ষেত্র উনি আমাকে পরিয়ে দিতেন। সেই রণক্ষেত্রে কতো হতাহত দুঃখ কষ্ট খারাপ-লাগা, আঘাতচন্দ্রের বডি পড়ে আছে। সব ছিলো সেই ছিন্নমস্তার বিপুল কীর্তি, আমি খালি দেখতাম রক্তফোয়ারার সাথে যেন আহাধ্বনি বাজে। সত্যি কথা বলতে কি, উনি এলে আমার ঘরে, সঙ্গে বলো, সাথে বলো, পাশে বলো, কাছে বলো, কিছুই আনতেন না, ঝাড়া হাত পা ঢুকে যেতেন, ঝাড়া পিট্টি দিয়ে সরিয়ে দিতেন, এবং আমার উনি হয়ে যেতেন। ওই যে বললাম, সঙ্গে বলো, সাথে বলো, পাশে বলো, কাছে বলো, এগুলো সবই স্পেশাল টাইপের দূরত্বের নাম, ন্যানোদূরত্ব, মাইক্রোদূরত্ব। আমাদের দূর বলতে সোজা সাপটা আদুর, অর্থাৎ কিনা জলবায়ু ত্বকের পাশে নেই, কাছে নেই, সঙ্গে নেই, সাথে নেই, ওনার জলবায়ু উনি পরে বসে আছেন। আমার জলবায়ু আমি। আর মাঝখানে দূরত্ব, তাকে কেউ নিচ্ছে না, নিতে পারছে না দেখে কোথায় যে একত্রে হাপুস ও ভ্যানিশ হয়েছে……

ইরোলিখা -১৮

পাগলী একটা.. রেগামাপা ওড়েনাগো, ভাসে… তাই জল চাই, অতল অকুণ্ঠ জল… ধরো উরুবেয়ে গড়িয়ে পড়ছে ভীমসেনের তান… নটভৈরব…. বা ধরো প্রবেশ ফ্রিকশানে ইমন পাচ্ছো তুমি বড়ে গুলাম আলির… প্রতিটা সড়াৎ ধাক্কায় এক একটা বাক্য আসছে চরিত্রহীন মান্টোর… আমি ভেসে যাই…. জল বড়ো ভালোবাসি….. সাদা দুগ্ধছাপ রেখে বড়ো ভেসে ভেসে যাই… “দাও দাও” বলে ডাকে রমণী বিদ্যুৎবাহী….

এখনো কারেন্ট আসেনি তবু…. এখনো অন্ধকার ঘরদোরগঙ্গাজলঘাট

ইরোলিখা করোনা- (সম্পূর্ণ সত্য ঘটনা অবলম্বনে)

দুর্দান্ত পৃথিবীর গুদে বসে আছি। প্রকৃতি কিনা। হাওয়া দিচ্ছে… উচ্ছল মানুষেরা বাড়ি থেকে ছায়া দিচ্ছে। সময় হরিণের মতো। বল্গা হরিণী। শক্ত দণ্ড খুঁজছে খালি। ভেদ করে যাবে। কোথাও খাদ থাকে, কোথাও থাকে গাছ। এইতো পৃথিবী নিয়ম। মাটিতে ঢোকানো, জলেতে ঢোকানো, না ঢোকালে প্রাণই থাকবে না।

আজকে দোকানের কাছে গেছিলাম। সামনে মহিলা এক বললেন “একটা তেলের বোতল কিনে দেবে?” মানে বাড়িতে শস্য রয়েছে, পাক প্রক্রিয়ার উপকরণ নেই… উপকরণ আনার সাধ্যও নেই…

অসহায়তা এভাবেই হ ত র আর্তনাদ দিয়ে বুঝি…

তারপর আরেক দোকানে, পেটিএম পরিপূর্ণ আমি… উলঙ্গ উজবুকের মতো দাম দিয়ে বেরিয়েই দেখি মলিন কামিজ পরা মেয়ে… বুকও জন্ম নেয়নি তার… বলে “স্যার রুমমে লে যায়েঙ্গে, খুশ কর দুঙ্গা পুরা”… কপালে কেমন ছাই এর দাগ… ঠোঁটে আহত আভাস…. এ কিন্তু নগরীর কথা বলছি, কোনো ক্লিন্ন গলির কথা নয়…. মাঝরাস্তায়, ক্ষুধা বেপরোয়া কিশোরীর আশ্চর্য ডাক…

মরিয়া মরিয়া…

মৌমাছির মতো বাজে… আমি তো অনন্ত সুখে আছি…. কিছু বিশেষ রঙের কাগজ সর্বদা থাকে… খেতে পাই… বিলাসী মানসিক অবসাদে খাই না হয়তো…

ঘরের দিকে ফিরি… মুখে লাগা মুখোশে নিঃশ্বাস গুমরে গুমরে ওঠে…. চার পা গেলেই কেউ “ভাইয়া থোড়াসা..”

অকূল কিশোরী সেই পিছু তো ছাড়েনি…. “চলিয়ে না রুম মে, যো চাহে দে দেঙ্গে”… তার চুল দেখি রুক্ষ অকাতর… লাস্যভঙ্গি করার চেষ্টা করছে যেন আমার মেয়ে… আকাশ বাতাস চেপে আসে, দৃঢ়ভাবে গলা চেপে ধরে আকণ্ঠ পরিবেশ….

আমি কি টাকা দেবো ওকে?…. বেশ কিছু টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে বলে দেব?

মেঘের দাগ দেখা যায়… জিজ্ঞাসাচিহ্নের কাছে আমি লুটিয়ে পড়েছি…

পশ্চিমেরলেখা-১

দুপুরের লেখা, মাঝরাত্রে ইচ্ছে করে-

খুব আস্তে একটা হলুদ, কোনো শব্দ নেই রোদে, বাইরে একটা ডালিমওয়ালা, ডালিম বিক্রি করার জন্য চেঁচাচ্ছে… অল্প হাওয়া, মাঝে মাঝে হঠাৎ দমকা আসছে….. গাছগুলো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে… মেঝেতে আলতো হলুদ একটা লুটোপুটি…. দূরের পাহাড়টা কেমন বিহান আলোয় গাঁথা….

রোদে যাতে আঘাত না লাগে, এভাবে বিছানা থেকে নামি আমি রোজ… আমার পায়ের চাপে যদি হলুদ কেঁদে ফেলে? ঘরানা ফুরিয়ে যাচ্ছে আমার, ফরুখাবাদের না, তিন, ধিন…. আল্লারাখার বাঁয়া, সেই পাঞ্জাবের গম্ভীর ঘেঘেতেটে নেমে আসছে সর্বাঙ্গে….. আর অনিন্দ্যবাবুর তর্জনীর কড়া র টোকা….

আমার ছোটো হাতুড়িটা আমি নিই, বাঁয়ার চারধারে মেরে মেরে গম্ভীর করি…. গল্প শুনেছি আল্লারাখা নাকি মধ্যমার টোকায় আখরোট ফাটিয়ে ফেলতেন….. বড় দ্রিদিমের ন্যায় কেঁপে বেজে উঠি এই রোদে…. কেউ নেই, কেউ নেই…. কুকারে ভাত বসিয়ে, ফ্রিজ থেকে মাংস বের করি… হাঁটি উনুন অবধি…

বড় ব্যথা পায়ে… উল্লাসে তরতর করে বোতল উল্টোয়….. কত কথা মনে পড়ে, অয়নদার মায়া র কবিতা… মনে পড়ে ইন্দ্রর পাখিওয়ালা (জুলাইওয়ালা বোধহয়)… প্রচুর পায়রা আসে জানো…. বকমে বকমে বিছানা রুমঝুম করে…. কেউ নেই… কেউ কেউই নেই…

চণ্ডাল ড্যাগারের গন্ধ গায়ে মাখা আছে…. প্রায়ই পাই…. রোদের নরম মেঝেতে লুটিয়ে কেমন পাতলা চোখে তাকিয়ে রয়েছে… বড় মায়া হয়…. কী ভীষণ উদগ্র ইচ্ছে জাগে মোহতরমা শব্দটি উত্তাল উচ্চারণ করব…. রাই রাই করে রুক্ষ বাতাস বইছে….

সময় ফুরিয়ে আসছে… ঘড়ির নিঃশ্বাস শুনি… মাঝরাতে আজব কুকুরের ডাকের মতো আমিও মিলিয়ে যাবো… মিশে যাবো আঁধারের ভৌউউউ এর মাঝে…

আমার খুব মন খারাপ করছে… কবিতায় এমন বাক্য লিখতে নেই, রহস্যসৌন্দর্য কদাকার হয়ে যায়… তবু ওই ডালিমওয়ালার চিৎকারের মতো অবিশ্বাস্য শব্দের মতো একাতে চুমুক দিচ্ছি একাকার….