কিরীটি মাহাত- বাঁদনা: পশু ও মানুষের অভিনব নবান্ন উৎসব

Spread This

কিরীটি মাহাত

বাঁদনা: পশু ও মানুষের অভিনব নবান্ন উৎসব

পশ্চিম সীমান্ত বাংলার অভিনব লোকোৎসব হলো বাঁদনা(সঁহরই)। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম সহ সন্নিহিত অঞ্চলের কৃষিজীবী সম্প্রদায় বিশেষ করে কুড়মি সাঁওতাল,মুন্ডা, ওঁরাও, ভূমিজ সর্দার,গোপ(গোয়ালা)সহ হড়মিতান জনগোষ্ঠীগুলি আজও সাড়ম্বরে মহা ধুমধামের সঙ্গে এই উৎসব পালন করে থাকে। বাঁদনা পুরোপুরি একটি কৃষি উৎসব।কেবল কৃষি উৎসবই নয়, বলা যায় গবাদি পশুকুলের জন্য নিবেদিত একটি উৎসব। কৃষিতে সহযোগী এবং সহায়ক শক্তি পশুকুল অর্থাৎ গরু ও কাড়ার(মোষ)সেবা শুশ্রূষা পূজা বন্দনা উপাসনা হলো এই উৎসবের মূল আচার অনুষ্ঠান।সেই সঙ্গে উদ্দাম নৃত্য ও গীতের আয়োজন তো রয়েছেই।আশ্বিন পার হয়ে কার্তিকের আগমনে চারিদিক মাঠঘাট ক্ষেত বিল যখন সোনার ফসলে ভরে ওঠে ঠিক তখনই এই উৎসবের আয়োজন।আসলে এই উৎসব হলো পশুকুলের কাছে মানুষের কৃতজ্ঞতা স্বীকারের উৎসব,ঋণ স্বীকারের উৎসব। মাথা নত করে গরুকে দেবতা জ্ঞানে সেবা যত্ন পূজা বন্দনা সে কথাই প্রমাণ করে।বাঁদনা গীতেই বলা হয়েছে- অহিরে- আসিন গুঁজরইতে কারতিক সামাঅইতে লাগি যাইত আমাবইসাক রাত গলিনি রে ভালা দেউঅত পানি পিঁঢ়া গলিনি ত দেতউ দুবি ধান

অহিরে- গাইনিরে মর মাইনি রে বাসুয়াত হেকে সঁগ ভাই দুঅ ভাই বইসব, দুঅ জাঁঘা ছড়ি গো বজকব দুখ সুখ বাত।

অর্থাৎ- আশ্বিন পার হয়ে কার্তিক মাস ঢুকতেই যে অমাবস্যার রাত্রি সে অমাবস্যায় ঘরের গৃহিণী ঘটিতে জল এবং বসতে পিঁড়ি দিয়ে গাভি(সিরিগাই) তোমাকে সম্মান জানাবে তোমাকে আরও দিবে দূর্বাঘাস এবং নতুন ধান বা নবান্ন। কারণ গাইনি বা সিরোমনি গাভিই হলো আমাদের মা এবং বাসুয়া বলদ হলো যেন এক মায়ের সন্তান বা ভাইএর মতো।ঐ দিন আমরা একসঙ্গে খেলব, একসঙ্গে পা মেলে বসে সুখ দুঃখের কথা বলব। কিন্তু এত সমারোহ বা আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন কেন? আবার কেনই বা সেই কার্তিক অমাবস্যার রাত্রি?এর পিছনেও রয়েছে এক অসামান্য ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি।বাঁদনা লোকপুরাণ কথায় সেই ঘটনার কথা বলা হয়েছে। কাহিনিটি এইরকম- বুড়া বাপ (আদিপিতা) ঈশ্বর মহাদেব মানুষ সৃষ্টি করেন।কিন্তু একসময় এই পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা এতই বৃদ্ধি হয় যে বনের ফলমূল, শিকড়বাকড় গেঁড়াকন্দতে আর কুলোয় না। মানুষের খাবারের অভাব হতে লাগলো। সৃষ্টিকর্তা ভাবলেন কৃষি বা চাষ ছাড়া মানুষকে বাঁচানো সম্ভব নয়। তাই ঈশ্বর মহাদেব হাল,ফাল জোয়াল, ঈশ নিজে তৈরি করে নিজ ভাগ্না ভীমকে দিয়ে কৃষিকাজের সূচনা করলেন।তারপর কৈলাস থেকে সিরোমনি গাই ও বাসুয়া বলদ সহ ”পাঁচপুতা দশ ধেনু” গাই মর্তভূমে মানুষকে চাষ করার জন্য পাঠিয়ে দিলেন। কৃষি কাজ করে মনুষ্য সমাজ বেঁচে গেল। কিন্তু হলে কী হয়? চাষের কাজে গাই-গরুকে ব্যবহার করলেও মানুষ তাদের উপর নানাভাবে অত্যাচার করতে লাগলো। ঘাস-পোয়াল ভালোভাবে দেয় না,গঙ্গা-গোয়ালে ঝাঁট পড়ে না,শরীরের গোবর ময়লা ধূলো শরীরেই থেকে যায়, স্নান করানো হয় না-উপরন্তু বিশ্রাম না দিয়ে বেশি বেশি কাজ করিয়ে নিতে লাগলো। উপায়ান্তর না দেখে একদিন বাসুয়া মহাদেবের কাছে মানুষের বিরুদ্ধে নালিশ জানাল এবং মর্তভূম থেকে কৈলাসে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানাল।

গীত

চললেহুঁ মারইএ না চললে মারইএ বইখেরার পিঁড় গো সেহ যে দুখ ভালা সহি বহি না পারঁ-

তাই উপায়ান্তর না দেখে একদিন বাসুয়া বলদ মহাদেবের কাছে মানুষের বিরুদ্ধে নালিশ জানাল। মহাদেব যেন অবিলম্বে তাদের মর্তভূমি থেকে কৈলাসে ফিরিয়ে নিয়ে যান। মহাদেব সবদিক বিবেচনা করে আরদাস(আবেদন)গ্রহণ করে বললেন-

গীত

আসিন গুঁজরইতে কারতিক সামাঅইতে লাগি যাইত আমাবইসাক রাত সেহ জে দিনে হামে মর্তভূমে যাউয়ব দেখবঁ তহরি দুখ্ রে। অর্থাৎ- আশ্বিন পার হয়ে কার্তিক মাসের অমাবস্যাতে তিনি মর্তভূমে যাবেন এবং সরেজমিনে তাদের অবস্থা দেখে আসবেন। একসময় বিষয়টি পার্বতীর কানে পৌঁছায়। পার্বতী বুঝলেন মহাদেব মর্তভূমে পরিদর্শনে গেলে প্রমাদ ঘটতে পারে। মহাদেব কোনো কারণে রুষ্ট হয়ে গাই গরুকে ফিরিয়ে নিয়ে এলে মানুষ না খেয়ে মরবে।পার্বতী সব দিক বিবেচনা করে তাঁর বাহন বাঘুয়াকে দিয়ে পবনবীর হনুমানকে ডেকে পাঠালেন। এবং পবনবীরকে দিয়ে এই সংবাদ মর্তভূমিতে মানুষের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করলেন। তাই অমাবস্যার আগেই মানুষ এই সংবাদ জেনে গেল। বিপদ আসন্ন বুঝে মানুষ একমাস আগের থেকেই ঘরদোর খামার-খলা গঙ্গা গোয়াল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে তুলল। নানা প্রকারের রঙিন মাটি গোবর দিয়ে সুন্দর ও পবিত্র করে তুলল।আঙ্গিনা দেওয়াল লিপা পোঁছা করে গুঁড়ির আলপনা, নানা রকমের ফুল লতাপাতার নকশা এঁকে দিয়ে সাজিয়ে দিল। বাড়িতে বাড়িতে শুরু হয়ে গেল গাই-গরুর বন্দনার অহিরা গীত।

অহিরে- এত না দিন রে বরদা মারল পিটল আঝু ত সঁগে দুই ভাই সঁগ জড়ি উঠব, সঁগ জড়ি বইসব খেলবঁ বাঁদনা পরব।

অহিরে- কাকর বাজইএ হদহদ বাজনা কাকর বাজইএ ঢাক কাকর বাজইএ মাটিকে মাদরি ভাই কনঅ গেইআঞ দেই দুবি ধান?

অহিরে- মহামাঞেক বাজইএ হদহদ বাজনা বুঢ়াবাপেক বাজি গেল ঢাক গরইআকর বাজইএ মাটিকে মাদরি ভাই সিরিগেইয়াঞ লেই দুবি ধান।

অর্থাৎ- এতদিন তোমাদের আমরা মারপিট করেছি কিন্তু আসলে আমরা একমায়ের দুই ভাই। আজ থেকে একসঙ্গে আমরা উঠব একসঙ্গে আমরা বসব-একসঙ্গে বাঁদনা পরবে আনন্দ করব।এই উৎসবে কার জন্য বাজে হদহদ নাকাড়ার বাজনা, কার জন্যই বা ঢাকের বাজনা? আবার কার জন্য মাদল বাজবে কেই বা নিবে দূর্বাঘাস ও নবান্ন? উত্তরে বলা হয়েছে মহামাতৃকার জন্য নাকাড়ার বাজনা,বুঢ়াবাপ মহাদেবের জন্য ঢাকের বাজনা, কিন্তু মাদল বাজবে গরু ও বলদের জন্য এবং দূর্বা ঘাস ও নবান্ন দেওয়া হবে সিরোমনি গাইকে। উৎসবের আয়োজন একমাস আগে শুরু হলেও অমাবস্যা ও তার আগে পিছে মোট সাত দিন বিশেষ আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হল।এই সাতদিন হল-তেলদিয়া, খাউয়া, আমাবস্যা, গোরইয়া, বলদখুঁটা, কাড়াখুঁটা বা গুঁড়ি বাদনা এবং কাঁটা কাড়হা। এই সাতদিন সুন্দর করে ঘর দোর গোয়াল সাজিয়ে তোলা হল।গরুকে প্রতিদিন স্নান করিয়ে শিং-এ তেল দেওয়া হল। তাতে এঁকে দেওয়া হল সিঁদুরের সুন্দর আলপনা,গায়ে চালের গুঁড়ির নানা রকম ছোপ নকশা,মাথায় পরিয়ে দেওয়া হলো নতুন ধানের মোড়(মুটুক) এবং গলায় গুঁজড়ি মালা। গৃহিণী সকাল বিকেল গরুর পা ধুইয়ে দিতে লাগল,গোয়ালে দেওয়া হলো ঘিয়ের প্রদীপ, গরুর মুখে মড়দাঘাস।

গীত

অহিরে- কনহ কাড়িকেরা ইআরা হো দিআরা কনহ কারিকের তের কনহ গেইআকের বতিয়া ধরাই দিহা জড়ত কুইলি আঁধারাইত

অহিরে- চনদন কাড়িকেরা ইআরা হো দিআরা কাপাস কাড়িকের বাতি ধরি না গেইআকের বতিয়া ধরাই দিহা জড়ত কুইলি আঁধারাইত

অর্থাৎ- কিসের তৈরি প্রদীপ, কিসের তৈরি তার বাতি? কোন গাভীর জন্যই বা এই প্রদীপ সাজান যা এই অন্ধকার সারা রাত্রি প্রজ্জ্বলিত থাকবে? উত্তরে বলা হয়েছে চন্দন কাঠের তৈরি প্রদীপ, কার্পাস তুলো দিয়ে তার বাতি এবং ধবলি গাইয়ের জন্য এই প্রদীপ জ্বালানো যা গোটা অন্ধকার রাত্রিকে প্রজ্জ্বলিত করবে। কিন্তু হাজার আয়োজন করলেও মানুষের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা যায় না। অবশেষে এসে পড়ে সেই অমাবস্যার রাত্রি।চারিদিক আলোয় আলোময়।বাজ বাজনা বাজতে লাগলো। ধাঙ্গড়ের দল অহিরা গান গেয়ে গেয়ে গাই গরুকে জাগাতে লাগল। ঘরে ঘরে নবান্নের তৈরি নানারকম খাবার, পিঠে তৈরি হলো।

গীত

চনদন দিআরা ভাচাক ভুচুক জরই রে বাবু হো মানুষেকর ছাহির না মিলই উঠে রে অহিরা জাগে রে অহিরা গেইআ ধনিকে দেবে দুবি ধান। অর্থাৎ- চন্দন কাঠের তৈরি প্রদীপের আলোয় চারিদিক এমনই আলোময় যে মানুষের ছায়া পড়ছে না।হে গরুর পালক অহিরা তুমি উঠো জাগো গাই ধনিকে দূর্বাঘাস আর ধান দাও। তারপর অমাবস্যার ঘোর অন্ধকারে মধ্য রাত্রিতে মহাদেব তার চেড়ি চামড়ি( সাঙ্গোপাঙ্গ) নিয়ে মর্তভূমিতে নেমে এলেন।

গীত

অহিরে- আগুই আগুই বুলইএ ঈশ্বর মহাদেব তাকর পেছুঞ ষাঠিশ জুআন ষাঠিশ জুআনেকেরা তুলসিকর মালা গো চাঁদ-সুরুজ ভঁভকার।।

অর্থাৎ- আগে আগে মহাদেব চলেছেন তার পিছনে পিছনে ষাটশত ভূত-প্রেত চেলাচামুন্ডা।তাদের গলায় তুলসির মালা। যেন চাঁদ সূর্যের আলোয় চারিদিক আলোময়। মহাদেব যেদিকে যান, যেদিকে তাকান কেবল একই দৃশ্য। গ্রামের পর গ্রাম আলোকমালায় সজ্জিত।দলে দলে মানুষের হইহুল্লোড়, আনন্দউচ্ছ্বাস। বাজ বাজনা, গাই গরুর বন্দনাগীতি। গোয়াল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন গরুর মুখের সামনে ঘাস, মাথায় নতুন ধানের মোড়(মুটুক)দেখে মহাদেব ভারি সন্তুষ্ট হলেন। সিরিগাই ও বাসুয়া বলদকে ডেকে বললেন, তোমাদের আরদাস(অভিযোগ) ফিরিয়ে নাও।তোমরা যা বলেছ তার সবটা ঠিক নয়। মানুষ তোমাদের জন্য যা করেছে তা যথেষ্ট। তোমাদের ঝগড়া মিটিয়ে নিতে হবে। এক পরিবারের আপনজনের মতোই আবার একসঙ্গে বসবাস করতে হবে। মানুষকে চাষের কাজে সহযোগিতা করতে হবে।তা না হলে জীবকুল ধ্বংস হবে। তা কাম্য নয়। তোমাদের সুখ-দুঃখ দেখার জন্য প্রতি বৎসর এই দিনটিতে আমি তোমাদের দেখতে আসব।এই বলে মহাদেব কৈলাসে ফিরে গেলেন। মহাদেব ফিরে গেলেও উৎসবের সমাপ্তি হল না। পরের দিন “গোরইয়া”অর্থাৎ গো-দেবতার পূজা। গঙ্গা-গোয়ালেরও পূজা।এদিন সিরিগাই সিরি বলদকে বিশেষভাবে সাজিয়ে গৃহকর্তা ও গৃহিণী পূজা বন্দনা করে। নবান্নের “জাউড়ি” বা ভোগ পরিবারের সকলে খায়।গাই গরুকেও নবান্নের ধান মড়দা ঘাস খেতে দেওয়া হয়। পরের দিন গরু-খুঁটা বা বলদ-খুঁটা। পশু ও মানুষের অভিনব নৃত্য অনুষ্ঠান।গরুকে খুঁটিতে বেঁধে “মাইরকরা” শেখানো হয়। কিসের মাইর বা মার?আগের দিনে চাষের পরে গরুকাড়াকে বনে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হত। স্বভাবতই বন্য জীবজন্তুর মুখোমুখি হতে হত তাদের। বন্য জীবজন্তুর হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য কী ভাবে মাইর বা মার করতে হবে তাই শেখানো। কৌশল শেখানো। এছাড়াও অশুভ শক্তির হাত থেকে বাঁচার জন্যও গৃহিণী গাই-গরুর শরীর “নিমছে” দিয়ে বঁদে দেয়। মোটামুটি আচার অনুষ্ঠান ও উৎসবের সমাপ্তি এইখানেই। কিন্তু গরু ও মানুষের সভ্যতার পথে যাত্রা সেদিন থেকেই। তার সমাপ্তি আজও হয়নি। হয়তো হবেও না।পশুকুলের সহায়তায় যেদিন প্রথম সোনার ফসলে ভরে উঠেছিল মাটি হয়তো সেদিনই শুরু হয়েছিল বাঁদনা: পশু ও মানুষের অভিনব নবান্ন উৎসব। কৃষি থেকেই সৃষ্টি হলো সৃষ্টি সংস্কৃতি এবং ধর্মের। রক্ষা পেল মানব সমাজ।

গীত

অহিরে- কন যে ফুলা ভালা অঢ়ন পিঁধন কনফুলা নিতই রে আহার কন জে ফুলাঞ ভালা রাই-রইয়াক পূজা গো কন ফুলাঞ রাখল সংসার?

অহিরে- কাপাস ফুলাঞ ভালা অঢ়ন পিঁধন রে বাবু হো ধান ফুলাঞ নিতই রে আহার বেইল যে ফুলাঞ ভালা রাই-রইয়াক পূজা গো সিঁদুর ফুলাঞ রাখল সংসার।।

অর্থাৎ- কোন ফুলের জন্য আমাদের পোশাক পরিধান? কোন ফুলের জন্য আমাদের নিত্য খাদ্য ও খাবার পাই? আবার কোন ফুল দিয়ে দেবদেবীর পূজা আরাধনা করা যায়? কোন ফুলেই বা এই সমাজ সংসার ধরে রাখে? উত্তরে বলা হয়েছে কার্পাস ফুল থেকে পরিধানের বস্ত্র পাই, ধান ফুল থেকে পাই অন্ন,খাবার। বেল ফুল দিয়ে পূজা হয় দেবদেবীর এবং মাথার সিঁদুর রক্ষা করে সমাজ সংসারকে।