গৌতম গুহরায় -শিব ঠাকুরের আপন দেশে জল্পেশ, মেলা শুধু মেলা নয়

Spread This
goutam Guharoy

গৌতম গুহ রায়

শিব ঠাকুরের আপন দেশে জল্পেশ, মেলা নিছক মেলা নয়

শিব ঠাকুরের এই আপন দেশে তাঁর নানা রূপে নানা বেশে, নানা নাম‌ নানা ‘ধাম’কে কেন্দ্র করে যুগ যুগ ধরে চলছে আরাধনা । এই ‘শিব ক্ষেত্র’গুলোকে কেন্দ্র করে সেই সময় থেকেই প্রচলিত ও জমজমাট এই মেলাগুলো এক আবহমান কালের মানবের যাপন সংস্কৃতির প্রতীক চিহ্ন হয়ে আছে । উত্তর বাংলার এমন বিখ্যাত মেলাগুলোর অন্যতম জলপাইগুড়ি জেলার জল্পেশ মেলা, যেমন কোচবিহারের রাস মেলা, মালদহের জহুরা কালীর মেলা, অধুনা জেলা আলিপুরদুয়ারের হ্যামিল্টন গঞ্জের কালীর মেলা প্রভৃতি । মেলা নিছক মিলন ক্ষেত্র নয়, ব্যবসা বাণিজ্য কেন্দ্রিক জমায়েতও নয়, মেলা সমাজের অন্তর্কাঠামোর এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ । মেলা প্রকৃত পক্ষে গ্রামীণ জীবনের উৎসব, এই উৎসব গুলোতে অন্তঃশীল হয়ে আছে একধরণের সমন্বয়ী সংস্কৃতি, যা লোকায়ত জীবন চর্যায় শাশ্বত চেহারাও । মেলাগুলো বহন করছে ধর্মীয়তা ও লোকাচারের উর্ধে এক শাশ্বত জীবন ভাষ্য । মেলা বা উৎসবের মধ্যে সেই অঞ্চলের মানুষের ব্যষ্টিগত ও সমষ্টিগত সংস্কার, মূল্যবোধ, ধর্মবিশ্বাস ও আচার-বিচার অনুষ্ঠানের স্থানীয় ও আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়, এর পাশাপাশি সম-সময়ের ও বিগত সময়ের আর্থসামাজিক চালচিত্র ও মেলাগুলোর সঠিক বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে অনুধাবন করা সম্ভব । উত্তরের জনসমাজের নির্মাণে ও গঠনে যে স্বাতন্ত্র্য রয়েছে তারও প্রতিফলন তাই এর মেলা ও উৎসবের মধ্যে লক্ষ করা যায় । আমরা এমনই প্রতিফলন দেখতে পাবো আমাদের তিস্তাবঙ্গের অন্যতম প্রধান মেলা ‘জল্পেশ মেলা’কে কেন্দ্র করে সহস্র মানুষের সম্মিলনের মধ্য দিয়ে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বিবর্তনের মধ্য দিয়ে । জল্পেশ ধামকে কেন্দ্র করে বছরে তিনবার মেলা বসে, এর মধ্যে দুইটি প্রবল জন উচ্ছ্বাসে প্লাবিত করে মন্দির ও সংলগ্ন এলাকাকে । একটি শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবারের শ্রাবণ মেলা, অন্যটি ফাল্গুন মাসের শিব চতুর্দশীর মেলা । আগে শিব চতুর্দশীর মেলাটাই মুখ্য ছিলো , যার দেশ বিদেশে পরিচিতি ‘জল্পেশের মেলা’ নামে । প্রাচীনত্বে এই মেলা যেমন অন্য মেলা থেকে এগিয়ে, তেমনি পূণ্যার্থী সমাগমেও এর তুলনা মেলে না । ১৯৫১-র ডিসট্রিক্ট গেজেটিয়ারে যে সব মেলার উল্লেখ আছে তার অন্যতম এই জল্পেশ মেলা, এখানে সেই সময়ই লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের কথা বলা হয়েছে । ময়নাগুড়ির নিকটবর্তী গরতলিতে এই জল্পেশ মন্দির বা ধাম, শিব মন্দির । শিব ঠাকুরকে নিয়ে নানা রূপে নানা দেবতার মন্দির রয়েছে গোটা উত্তর বাংলা জুড়ে, এবং একে ঘিরে মেলা ও উৎসবের সংখ্যাও অগণিত । এই আলোচনার প্রারম্ভে উল্লেখ করতে হয় ৪নং দামোদর লিপির কথা, এর উল্লেখ অনুযায়ী পঞ্চম শতকে উত্তরবঙ্গের এক দুর্গম প্রান্তে লিঙ্গ রূপী শিবের পূজা প্রবর্তিত হয়ে গিয়েছে । গিরিজা শঙ্কর রায় এ প্রসঙ্গে লিখেছেন “উত্তরবঙ্গে রাজবংশী ক্ষত্রিয় সমাজের মুখ্যতম দেবতা হলেন শিব । এই অঞ্চলের শৈব ধর্মই পরবর্তীকালে বঙ্গদেশের অন্যত্র পরিব্যপ্ত হয়”। পরবর্তীতে বিভিন্ন শতকজুড়েও এই শৈব ধর্মের ব্যাপক বিস্তারের উদাহরণ এই জেলায় ছড়িয়ে আছে । ময়নাগুড়ি আর এক উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রভূমি । লোকপ্রবাদ অনু্যায়ী জলপাইগুড়িকে তিন ঈশ্বরের দেশ বলা হয়, জল্পেশ্বর, জটীলেশ্বর ও বটেশ্বর । এই তিন ‘ঈশ্বর’ শিবের তিন নাম । এবং এই তিন শিবের মন্দিরই রয়েছে ময়নাগুড়িতে । এর অন্যতম ‘জল্পেশ’এর মন্দির, এর পেছনে রয়েছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাসাশ্রয়ী মিথ ।জল্পেশ নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ, নৃতাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা অনতিক্রম্য । এখানে মুখ্য মেলাটি হয় ফাল্গুন মাসে, শিব রাত্রির সময় । এই মেলার প্রাচীনত্বকে জানতে হলে এই মন্দির ঘিরে, এর প্রতিষ্ঠা ঘিরে যে সব কাহিনি রয়েছে সেগুলো অনুধাবন করা দরকার । অশোক মিত্র সম্পাদিত ‘পশ্চিমবঙ্গের পূজা পার্বণ ও মেলা’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে ‘কামাখ্যা মহাপীঠে শ্রী শ্রী উমানন্দ ভৈরব, বৈদ্যনাথ ধামের শ্রীশ্রী বৈদ্যনাথ ইত্যাদি যেমন আনাদিলিঙ্গের প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছে, জলপাইগুড়ির জল্পেশ-ও তদ্রুপ । স্থানটি ভারতের একান্নপীঠের একটি বিধায়” । কালিকা পুরাণে সাতাত্তর অধ্যায়ে এই মহাপীঠের কিঞ্চিৎ উল্লেখ দেখা যায় ঃ “জামদগ্ন্য ভায়াতভীতাঃ ক্ষত্রিয় পূর্বমেভ থে । ম্লেচ্ছছদ্মানুপাদায় জল্পীং শরাবাংগতা”। শিবশতনাম স্তোত্রেও উল্লেখ আছে ঃ –“অহং কোচ বধূপুরে জল্পেশ্বর ইতি স্থিতঃ”। ময়নাগুড়ির থেকে দক্ষিণে রাজ্য সড়কের দক্ষিণ দিকে মেখলিগঞ্জগামী সড়কের তিন কিলোমিটার গেলেই দেখা যাবে শুভ্র মন্দিরটিকে, সিংহদ্বার ও দুই বিরাট হস্তি মূর্তির উপর বৃষারোহী শিবমূর্তিতে এর প্রবেশ পথ সাজানো । গ্রামের নাম গড়তলি । এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা কাল নিয়ে ভিন্ন মত আছে গবেষকদের মধ্যে । তবে এর প্রাচীনত্ব সম্পর্কে সবাই একমত । এই শিব লিঙ্গটি নিছক পাথরের নয়, এটি ‘স্বম্ভূ ও অনাদি” , , লিঙ্গ গৌরীপট্টের ২ফুট নিচে, গর্ভ গৃহ মন্দির প্রকোষ্ঠ থেকে ১০ফুট নিচে । ১৪৯৭,১৫৪৮,১৫৯৬,১৬৬৩,১৭৩৭,১৮৯৭ ও ১৯৫০-এ এই অঞ্চলের ভয়ানক ভূমিকম্পের ক্রমাগত আক্রমণে ধ্বস্ত বিধ্বস্ত হয়েছে মন্দিরটি । এর ফলে বিভিন্ন সময়ে মন্দিরটি সংস্কার ও পূনর্নির্মাণ করা হয়েছে । আধিকাংশ গবেষকের অনুমান কোচবিহার রাজা প্রাণনারায়ণ (১৬৩২-১৬৫০) এই মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেন । ১৮৯৭ সালে মন্দিরটির উপরের অংশের ৫২ ফুট ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যায় যা পরবর্তীতে সংস্কার করা হয় । ভুটান অধিকারের সময় এই মন্দিরের পূজা দেখভালের জন্য ভুটানরাজ নরেশ তেওয়ারী নামে এক ব্রাহ্মণকে ‘বড় দেঊরী’ নিযুক্ত করেন । ১৮৯১তে ব্রিটিশ সরকার জল্পেশ মন্দিরের সমস্ত দেবোত্তর সম্পত্তি খাস করে নেয় । পরবর্তীতে ‘টেম্পল কমিটি’ এর পরিচালনার ভার পায় । দিনে তিনবার এর নিত্য পূজার বন্দোবস্ত হয় । তবে শিবরাত্রি উপলক্ষে পক্ষকাল ব্যাপী এর মেলা প্রাচীন কাল থেকেই হয়ে আসছে । এই মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে জটদা নদী, এই নদীর নানা নাম পুরোনো দস্তাবেজে দেখা যায় । জটোদবভা, জর্টদা, জটোদা, জড়দা নানা নামে পরিচিত এই নদী । পূণ্যার্থীরা এই জটদা নদীতে স্নান করে শিব লিঙ্গের পূজা করেন বা জল ঢালেন । এই উপলক্ষে বহু দূর থেকে আজো মানুষের ঢল নামে । অতীতে মেলাই ছিলো মিলনের স্থল শুধু নয় বাণিজ্যিক বিপণনের কেন্দ্র । একসময় তাই এই জল্পেশ মেলা ঘিরেই ঘটতো বিশাল বাণিজ্য, যাতে যুক্ত থাকত নেপাল ভুটান সহ আসাম বিহার এলাকার বিপণন সামগ্রী নিয়ে হাজির হওয়া ব্যাপারিরা । অতীতের সেই স্মৃতিচারণে দেখা যায় যে , এখানে দূরদূরন্ত থেকে আসা ব্যাপারীরা এই এক পক্ষকাল থাকতেন তাই না দূর দূরান্ত থেকে পূণ্যার্থীরাও ৩/৪ দিন এখানে রাত্রিবাসের আয়োজন নিয়েই হাজির হতেন । তখন যাতায়াতের মাধ্যম ছিলো গরুর গাড়ি বা মোষের গাড়ি । সেসময় গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়ি ছিলো যৌথ পরিবারের বন্ধনে বাঁধা, তাদের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই থাকত মোষের বা গরুর গাড়ি । আজ যেখানে সাইকেল বা মোটর সাইকেল সেই স্থান পূর্ণ করেছে, কিন্তু পরিবার ভেঙ্গে গেছে । বিশিষ্ট ব্যবহারজীবী ও প্রাবন্ধীক হরিপদ রায়ের স্মৃতি কথা থেকে জানতে পারা যায় সেই সময়ের কথা । সে সময় জোতদার ও আধিয়ারের সম্পর্কটা ছিল অনেক কাছাকাছি, গ্রাম ধরে জোতদারের সঙ্গে অন্যান্য মানুষেরাও চলতেন জল্পেশের মেলা দেখতে । ২০/২৫টা গরুর গাড়ি মিছিলের মতো চলতো, গাড়িতে বাধা ঘুঙুরের টুং টাং শব্দ, গরুর গাড়ি্র লাইন । দু/তিন দিনের ব্যাপার, তাই সঙ্গে থাকতো চাল ডাল চিঁড়া মুড়ি সহ বাসন কোসন, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে এ এক অপূর্ব মনোহর দৃশ্য, গাড়িগুলোর বাঁশের ছই সাজানো হতো নানা শিল্পের কাজে । মাকলা বাঁশের ধারা দিয়ে এই মাচা তৈরি করা হোতো, এতে থাকতো হাতি ঘোড়া প্রভৃতি নানা শিল্পরূপ । জল্পেশ মেলার কাছাকাছি তাঁবু টানানো হোত, চলতো রান্না বান্না, আর মেলা দেখা । সঙ্গে আনা মাদুর, ত্রিপল, কলার পাতার বোঝা ইত্যাদি এখানে কাজে লাগত । তখন কেউ কেউ জটদা নদীতে স্নান করে ভেজা কাপড়ে মন্দিরে যেতো হেঁটেই । মন্দিরে পূজা অর্চনার পর তাদের মেলা দর্শন । বিকিকিনির পাশাপাশি বিনোদন, সেদিনের মতো আজো মুখ্য বিষয় । শুধু সময়ের সাথে সাথে পাল্টেছে বিনোদনের চরিত্র । সেসময় সারা রাত ধরে চলত পালাটিয়া গান, কুষান, বিষহরা ছারাও ভাওয়াইয়া গানের আসর । অংশ নিতেন পল্লী বাংলার মানুষজন, কলাকুশলি, শিল্পীরা সারা বছর মুখিয়ে থাকতেন এখানে তাদের শিল্প প্রদর্শনের জন্য । সেই সময়ের নামকরা পালা গানের গিদাল দের মধ্যে ছিলেন টোকরাই রায়, ভান্দা রায়, খোক্তারিয়া রায়, ডকেয়া রায় প্রমুখ । কুষানের শিল্পীদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন গিরজা শংকর রায়, ঝুমুর যাত্রায় বছির মিঞা । বছর বিশেক আগে গ্রামবাংলাকে তোলপাড় করেছিলো গুণেশ্বর অধিকারীর পালা ‘ময়নার চক্ষুর জল’, এই পালাটিও মেলাগুলোর আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকতো । এর পর ক্রমশ পাল্টাতে থাকল বিনোদনের মাধ্যম ও চাহিদা । সেই সময় তাঁবু খাটিয়ে আয়োজন করা হলো সিনেমার দেখানোর । সে সময় এই অঞ্চলে সিনেমা হল প্রায় ছিলোই না । দোমহনিতে একটা সিনেমা হল ছিলো, পঞ্চাশের দশকে সেটাই জল্পেশ মেলা চলাকালীন মেলায় আনা হোতো, তাঁবু খাটিয়ে তৈরি হতো অস্থায়ী সিনেমা হল । জেনারেটারে চলত সেই সিনেমা, সেলুলয়েডের রিল পালটে পালটে চলতো সিনেমা চালানোর কাজ । পুরোনো মেলার আর এক আকর্ষণ ছিলো বিড়ি কোম্পানির বিজ্ঞাপন । বাচ্চা ছেলেদের মেয়ে সাজিয়ে পায়ে ঘুঙ্গুর বেঁধে চলত হাস্যরসাত্মক গান ও নাচ । বিড়ি কোম্পানির দোকানের সামনে বা মেলায় ঘুরে ঘুরে এই নাচ বিজ্ঞাপন চলতো । অতীতের মেলায় বিকিকিনির প্রধান আয়োজন থাকতো ঘর গেরস্থালির জিনিসপত্র, আর মণিহারি দোকান । আর পাহাড় থেকে আসা বাণিজ্য করতে আসা মানুষেরা আনতেন গরম বস্ত্র , মসলাপাতি প্রভৃতি । তবে জল্পেশ মেলার ঘোড়ার বিকিকিনি ছিলো বিখ্যাত । হাজার হাজার ঘোড়া মেলায় উঠতো, আরবি ঘোড়া‌ ভুটিয়া ঘোড়া প্রভৃতি । ঘোড়ার দৌড়ের আয়োজন থাকতো । আজ এই ছবিটা পাল্টেছে । সরকার এই মেলা আয়োজনের দায়িত্ব নেওয়ার পর পূণ্যার্থীদের চলাচলের ব্যবস্থা সহ অন্যান্য সুবিধার দিকটি দেখা হচ্ছে । মেলার মাঠে বিশাল মঞ্চ করে সারা রাত ধরে আয়োজন হচ্ছে উত্তর বাংলার নানা প্রান্তের ভাওয়াইয়া শিল্পীর অনুষ্ঠান, পালা নাটক । এর পাশাপাশি বিভিন্ন জনহিতকর প্রচার ও সরকারী কর্মসূচী ও প্রকল্পের প্রচার চালানো হয় সরকারী উদ্যোগে । সংবাদ মাধ্যমে দৈনন্দিন মেলার খবর মানুষকে প্রভাবিত করছে । এখন মেলা উপলক্ষে সরকারী আয়োজনে গাড়ির ব্যবস্থা করা হয় । তাছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ও রাজ্য থেকে অনেক গাড়ি আসে এখানে । তার রাখার আয়োজন হয় মেলার কাছেই ।তবে হারিয়েছে অনেক কিছুই । এই আয়োজন মূলত শিবরাত্রির সময় আয়োজিত পক্ষকাল ব্যাপী মেলায় জন্য । কিন্তু সাম্পতিক অতীত থেকে শ্রাবণের প্রতি সোম বার শিবলিঙ্গে জল ঢালার জন্য পূণ্যার্থী আগমনের ঢল নামছে । এই অঞ্চলে শিবের মন্দির বা পূজার সঙ্গে শুভ্র সাদা রঙের সম্পর্ক ছিলো, আজ তা গেরুয়া হয়ে যায় এই শ্রাবণে । অনেকের এই অভিমত যে আশির দশকের শুরুরদিকে ‘জয় বাবা তারকনাথ’ এর সাফল্যের পর এই বাঁকে করে জল নিয়ে শিব লিঙ্গে ঢালার একটা হুজুগে জোয়ার এসেছে । সারা রাত দূর দূরান্ত থেকে পূণ্যার্থীরা বাঁকে করে জল নিয়ে আসেন । মুখে ধ্বনি থাকে “বোলে ব্যোম” । ক্রমশ এই ভীড় বাড়ছে । পূণ্যার্থীরা তিস্তা নদীতে স্নান করে এই পথ হেঁটে যান । অনেকে সেই পুরোনো জটদা নদীতেই স্নান করেন । তার পরদিন ফিরে যান । পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল, ভুটান থেকে হাজার হাজার মানুষ আসেন এই সোমবারগুলোতে । আসাম সহ বাংলার নান জায়গা থেকেও আসেন । দেওঘরের বাবাধামে যেমন এই সময় পূণ্যার্থীদের ঢল নামে , তেমনি এখানেও । তিস্তা নদীর থেকে ময়নাগুড়ি পর্যন্ত পথের দুদিকে প্লাস্টিকের ঘট সহ ধুতরা, বেল, ফুল প্রভৃতির পসরা নিয়ে ব্যাপারীরা বসেন এই দিন গুলোতে । জল্পেশ ঘিরে জেগে ওঠে তিস্তা বাংলার এই প্রাচীন জনপদ ।