শুভময় সরকার-এক বিপন্ন পৃথিবীর গল্প ও তিনটি চরিত্র

Spread This
Shubhomoy sarkar

শুভময় সরকার

এক বিপন্ন পৃথিবীর গল্প ও তিনটি চরিত্র 

অদ্ভুত বালিকার দিনযাপন 
দূর থেকে আরো দূরে, বৃত্তের কক্ষপথ বদলে একদিন সত্যি সত্যিই হারিয়ে যায় আকাশ। আসলে এ ধরনের আকাশে সূর্যের আয়ু খুব জোর দু’সপ্তাহ, আর তারপর চা-বালিকার দৌরাত্ম্যে গোল্লা ভেঙে পড়ে থাকে নীল পাহাড়। বিষণ্ণ ক্যানভাসে কাঁদে বালিকার বক। নীল পাহাড়ে বিষণ্ণতার ডানা মেলে অভিমানী হয় অভিযাত্রী হয় আমাদেরই সঙ্গে। এখনও সবুজের সাথেই সখ্য। সখ্য গড়ে ওঠে কি সহজেই! ওই বালিকার পরিচয় ঘটেনি কোনো ধূসর রঙের বেড়াল-সভ্যতার সঙ্গে। আসলে শুদ্ধতায় বিশ্বাসী কিছু বেড়াল পরিচয় দিলেও, নগ্ন বেড়ালেরা যে যার আস্তানায় এখনও ঝিমিয়ে নিচ্ছে। শেষ রাতের মদির নীল স্বপ্নে এই মুহূর্তে ওই সব ধূর্ত বেড়ালেরা ভেবে নিচ্ছে পরবর্তী পরিকল্পনা। নেপোলিয়ান থেকে হিটলার, নাদির শাহ থেকে প্রভাকরণ প্রত্যেকেই সাংঘাতিক সংঘাতে বিশ্বাসী হয়েছে। বিশ্বাস করেছে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় সংঘাত। কিন্তু কার সঙ্গে সংঘাত ? ধূর্ত হলেও বেড়ালগুলো ভেবে পায় না। ওই বালিকার সঙ্গে? যে বিষগ্ন ক্যানভাসে বক দেখে ? নাকি ওই সবুজের সাথে যেখানে সূর্যাস্তের রঙে স্নান সারে ওই বালিকা ? পৃথিবীর যাবতীয় ষড়যন্ত্রকে নির্বীজ করে দিয়ে সেই বালিকার অবগাহন অসম্পূর্ণ নয়। নিজস্ব সিদ্ধান্তে অবিচল বেড়ালগুলো নখগুলোকে মেঝেতে আঁচড়ে নেয়। বালিকা হাসে। সে জানে হিটলারকেও হার মানতে হয়েছিলো অবশেষে। বালিকা এও জানে, সবুজের সাথে অন্তত ওই ধূসর বেড়ালগুলোর লড়াই সাধ্যের অতীত! আধুনিক সাবান-সভ্যতার সান্ধ্যকালীন অধিবেশনে বোকা বাক্সের অসহ্য সংলাপ মাঝে-মাঝেই বোকা বানায় ওই বালিকাকে। মেলানো ভীষণ কঠিন। দাদা-দিদিরা যখন খুকি ভেবে বড়ত্ব জাহির করে আর সস্নেহে সাবধান করে ঐ বেড়াল সভ্যতার ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে, বালিকা হাসে। মনে মনে বলে, “আমি বা ভালোবাসি। বালিকা ছবি আঁকে। কখনও সবুজের কখনও বা মানুষের আঁকি-বুকি। ছবিতো শুধু ছবি নয় এক একটা গল্প। অনেক গল্প জানা আছে তার। ছোট বয়েস থেকেই ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমীর কাহিনী পড়ে এই মুহূর্তে মিলিয়ে নেয় সহস্রাব্দের প্রাথমিক পরিবর্তন। শেষ রাতের স্বপ্নে নেমে আসে দত্যি দানো তাড়া করে। বালিকা ছুটছে। জোরে আরো জোরে -পা চলছেনা, দূরত্ব কমে আসছে। অসহায়ত্বে জেগে ওঠে অদ্ভুত বালিকা।

সাচ্চাই য্যায়সা হামাম 
কোনো এক অজানা বছরের ১৫ই আগস্ট জন্ম। জন্মাবধি পৃথিবীকে দেখা এক দায়িত্ব কর্তব্যের পীঠস্থান হিসেবে। কখনও পাহাড়ের সবুজের ভেতর কাঠ-পাথরের তল্লাসী, কখনও বা জীবন সুরক্ষার কবচ-কুণ্ডলীতে অবগাহন। মানুষের অবান্তর প্রশ্ন এবং পরোপকারের অত্যুৎসাহে শেষ অবধি দার্শনিক হয়ে যাওয়া! ভালোবাসা সম্পর্কে ধারণাগুলো সব বদলে গেছে। সমাজতন্ত্রের আন্তর্জাতিক শেয়ারের দাম আচমকা নেমে যাওয়ায় চশমার ফাক দিয়ে পৃথিবীটাকে কেমন ঝাপসা দেখায় আজকাল। অফিসের পোড় খাওয়া ট্রেড ইউনিয়ন লিডার কাকে যেন ‘গর্ভস্রাব’ বলে ডাকে! নব্য লেখক মাঝে মাঝেই বলে ওঠে ‘বুঝলে না তো দাদা – যৌনতাই জীবন। মাঝে মধ্যে জীবনের হিসেব মেলাতে নেহাৎই মন্দ লাগে না। জমার খাতাটা কি একেবারেই শূন্য? সেদিন অফিস থেকে ফেরবার পথে হঠাৎ করে মনে হওয়া মাত্রই, মার-মার-কাট-কাট একটা ছবি দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল ব্যাপারগুলোকে আপাতভাবে যতটা খারাপ ভাবা যায় – আদতে কিন্তু ততটা নয়। আইলা রে মস্ত মস্ত … কিছুক্ষণের জন্য অন্তত ভন্ডামোর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই ছবিগুলোতে আর যাই থাকুক – সময়টা বেশ ভালোই কাটানো যায়। প্রতিদিন অফিস যাবার পথে যে তরুণ যুবকটি পাশে বসে কথার খই ফোটায় খারাপ লাগে না আর ঐ বালিকাটি -সত্যিই ভীষণ ভালো আর আন্তরিক। মাঝে মাঝে মিশে যেতেও ইচ্ছে করে, তবে ঐ যে ব্যাপারটা বারবার বাধা দেয় – বয়েস বেড়ে যাচ্ছে। কথাচ্ছলে যুবক মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন তোলে বেঁচে থাকা সংক্রান্ত। নিজের কাছেও কি প্রশ্ন নেই? আগুন তপ্ত পাহাড়ি রাতে শরীর সর্বস্ব সময়টাকে যেন ফিরে পাওয়া। কোন সমবয়সী হাওয়া কখনও প্রশ্ন তোলেনি জীবনের স্রোত কোনদিকে বইবে। মাঝে মাঝে মাথার ভেতরকার পোকাগুলো সব কিলবিল করে ওঠে। রঙিন শিশুর প্রশ্নে বিব্রত মাতাজীর সপ্রতিভ উত্তর –
‘সাচ্চাই য্যায়সা হামাম। ‘
আপাতত এই নিয়েই বেঁচে থেকে নিজের সুন্দর অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তোলা। পৃথিবীর যাবতীয় ‘সাচ্চাই’ এখন রঙিন সাবান যেখানে পুষ্টিকর শিশুরা আশ্রয়ের খোঁজে জড়িয়ে ধরে এক স্তনবতীকে। পেলব বুকে মাথা খুঁজে হামামের সত্যতা খুঁজে ফেরা। আর সাবান সুন্দরীদের আন্তর্জাতিক বিকিকিনি এখন ‘ইউনিভার্সাল টুথ’। ন্যারেশানে যার কোনও পরিবর্তন নেই। ইংরেজি গ্রামারের মতানুযায়ী সাবান সুন্দরীর আন্তর্জাতিকতা এখন এক চিরন্তন সত্য তথা ইউনিভার্সাল টুথ। মাস মিডিয়ার দৌলতে এখন এই বিপন্ন পৃথিবীতে একমাত্র আশার আলো–ঐ স্তনবতী সাবান সুন্দরীর দল।
কালিঘাট ব্রীজের ওপর শুনতে কি পাও
লম্পটের পদধ্বনি?
কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও
হে শহর ধূসর শহর 
‘আমার জন্ম শহরতলীর এক পতিতালয়ে ছোট বয়েস থেকেই আত্মকথন এভাবেই শুরু করতে ভালোবাসে রমণী। আগাপাশতলা পৌরুষস্পর্শে শরীরে এখন টান ধরেছে। তবুও খালিবাড়ির গ্যারেজের ঘর থেকে মাঝারি মাপের হোটেলে যাবার জন্য খদ্দেরের অভাব হয় না। কদিন আগেই বর্ষণমুখর এক সন্ধ্যায় এক খদ্দেরে বাড়িতে কয়েক ঘন্টার যৌনতার মাঝেই হারিয়ে গিয়েছিলো রমণী। প্রতিটি সকাল বা সন্ধ্যে এখনও মাঝে-মাঝে হঠাৎ করেই ফিরিয়ে দেয় শিহরণ জাগানো সময়। ফুর্তি হয় খদ্দেরের! টাকা গোনার পরিধি বেড়ে যায়। রমণী হাসে। জীবনের নষ্ট হয়ে যাওয়া সময়গুলো পার হয়ে এসেও এখনও লোক ঠকানো খেলাটা চালানো যায়। ‘জয় হোক যৌনতার’। খড়ির গন্ডী পার হয়ে লাল সীমানায় ঢুকে পড়া দু’চারটে লোক মাঝে মধ্যে চলে আসে। নাকের ডগায় চশমা, কঁপা হাতে মাংসল পৃথিবীতে প্রবেশের সময় কষিয়ে চড় মারতে ইচ্ছে হয় রমণীর। কিন্তু পারে না। রয়েছে মস্তান, রাজনৈতিক দাদা, মাসী। খুব ভোরবেলায় শিরশিরে মন কেমন করা হাওয়ায় হঠাৎই দূর থেকে ভেসে আসে ঢাকের আওয়াজ। এই সময়টাত এক অদ্ভুত আনন্দ হয়। পাশ ফিরে ঘুমিয়ে থাকা নিত্যনতুন পুরুষগুলোকে খুব অসহায় মনে হয়। ছোট বয়সে ঐ ঢাকের আওয়াজকে সত্যি সত্যিই অসুর নিধনের বাজনা মনে হয়। গত বছরও সপ্তমীর ভোরে পেছনের জানালাটা খোলা ছিল। ভেসে আসছিল প্রভাতী বাজনা। চোখ ছেপে জল আসছিল। পাশে শুয়ে থাকা খদ্দেরটাকে জড়িয়ে ধরেছিল। ঘণ্টা কয়েক আগেও যাকে অসুর ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারেনি রমণী। খদ্দের তো অবাক। নিজের আকর্ষণীয় পৌরুষের দিকে একবার গর্বিত ভঙ্গিতে তাকিয়ে নতুন করে আবার। নিবিড় থেকে নিবিড়তর আলিঙ্গনে ডুবে যায় রমণী। ঢাকের আওয়াজটা আস্তে আস্তে দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক কাচের পাত্র, যার ভেতর একটা নীল মাছ ডুবে যাচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে নীচে অনেক নীচে! নীচে নামতে নামতে মাছটা ভেসে উঠতে চেষ্টা করে। আবার ডুবে যায়। বড় মাছগুলোর ভেতর প্রতিযোগিতা – কে আগে ছিড়ে খাবে ঐ ছোট্ট অসহায় নীল মাছটাকে। এতদিন পাশাপাশি বাস করা ঐ সব আপাত নিরীহ বড় মাছগুলোকে ভীষণ হিংস্র মনে হচ্ছে নীল মাছের। চার পাশের পরিচিত নীল জলটা ধূসর হয়ে যাচ্ছে। ঘুম, অনন্ত এক ঘুমে ঢেকে যাচ্ছে নীল মাছের শরীর। আরো ঘুম-গভীর এক ঘুম।

‘সকলেই কবিনয়-কেউ কেউ কবি’ 

প্রতি রোববারের মতো আজও ঘুম ভাঙে বেশ বেলাতেই। লেপের ভেতর থেকে হাতটা বের করে খাটের পাশের জানলাটা খুলে দেয় অনিন্দ্য। হাতটা আবার টেনে নেয় লেপের ভেতর। কুৎসিত এই শীতকালটা যে কবে শেষ হবে’ -বিড় বিড় করে। মাথার পাশে রাখা ঘড়িতে সময় দ্যাখে – সাড়ে নটা। কাল কবি সম্মেলনে থেকে বেরিয়ে বীরেনের দোকানে দুপেগ রাম চড়িয়েছিলো। ঘুমটা বেশ হয়েছে। ভুটান “আপসু’ মুখে বাসি মদের গন্ধ। জানলা দিয়ে হাওয়া আসছে, রোদ বেশ ঝলমলে। জীবনানন্দের কবিতায় বিপন্নতাবোধ নিয়ে কাল সে আলোচনা করেছে, কবিতা পাঠও। করেছে। এক একটা সময় অনিন্দ্যর মনে হয় শুধু জীবনানন্দ কেন, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই এক ধরণের বিষণ্ণতা ও বিপন্নতাবোধে ভোগে। সে নিজেও ভোগে।
তথাকথিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠা তার নিজের নেহাৎ মন্দ নয়। তবুও একধরনের অসহায়ত্ব তাকে প্রতিনিয়ত কুড়ে কুড়ে খায়। খুব কাছের এক বান্ধবীকে কথাটা একদিন বলাতে আঙুলের ফাক থেকে আধপোড়া সিগারেটটা টেনে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বলেছিল ‘সুখী মানুষদের অনেক রকম দুঃখবিলাস হয়। অনিন্দ্যও জানে এটা সত্যিই এক দুঃখবিলাস, তবুও দুঃখটাতো বাস্তবই। সিগারেটের ধোঁয়ার রিঙ ছাড়ার জন্য এক সময় বায়না ধরতো রিয়া। ক্যাম্পাসের অভিমানী চারমিনারের হলদেটে ছেড়া প্যাকেটগুলো আরো বিবর্ণ হয়ে গেছে সম্ভবত এতদিনে। মনে আছে বৃষ্টির পর আচমকা ঝলমলে রোদে কার্শিয়াং পাহাড়ের টিভি টাওয়ারটাকে দূর থেকে দেখে রিয়া প্রায় চিৎকার করে বলেছিল প্যারিস এত কাছে চলে এলো কবে? রিয়া এখন অনেক দূরের ঘটনা। আর অনিন্দ্য মিত্র! কে যেন বলেছিলো – ‘বেশ তো একসিকিউটিভ মার্কা চেহারা বানিয়েছ ? তবে ঐ সব দুখী দুখী ভাবনাগুলোর ভেতর একধরনের আনন্দ রয়েছে। অনিন্দ্যর ঘরের দেওয়ালে একটা পোস্টার, চার্লির। দুখী দুখীমুখ, হাতে সেই বিখ্যাত ছড়ি, মাথায় টুপি, নিচে ক্যাপশন – ‘থু দ্য ক্রেডেলস অব দ্য সিভিল ওয়ার’। অনিন্দ্যের দেখা শ্রেষ্ঠ অসহায়ত্বের ছবি। প্রতিদিন সকালবেলাতেই এক একটা গান পেয়ে বসে অনিন্দ্যকে। আজ গুনগুনিয়ে উঠে আসছে ‘মন খারাপ করা বিকেল মানেই মেঘ করেছে…’! গানটা বড় প্রিয়। এখানেও কোথায় যেন এক বিষণ্ণতারই কথা। জানলার দিকে চোখ তুলে তাকায় অনিন্দ্য। লাল রঙের একটা ঘুড়ি উড়ছে। গোত্তা খাচ্ছে। আকাশের নীল ব্যাকগ্রাউন্ডে ঘুড়িটা অনেক রকম খেলায় ব্যস্ত। অনিন্দ্য লক্ষ্য করে ঘুড়িটার রঙ ঠিক লাল নয়। একটু ফিকে। হয়তো বা লালই। টকটকে লাল। দূর থেকে ফিকে লাগছে। আচমকাই অনিন্দ্য ঘুড়ির ভেতরও এক অসহায়ত্ত্ব খুঁজে পায়, খেয়াল করে গোত্তা খেতে খেতে ঘুড়িটা নীচে নেমে যাচ্ছে। অনেক নিচে আরো নিচে। যে ওড়াচ্ছে তার হাত ভালো, তবে ঘুড়িটা বোধহয় এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সুতোয় টান পড়েছে। ঘুড়িটাকে ওপরে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। অনিন্দ্য আর পারে না। লেপ থেকে হাত বের করে দড়াম করে জানলাটা বন্ধ করে দ্যায়। ভীষণ শীত করে অনিন্দ্যর। পা কেঁপে কেঁপে ওঠে। লেপের ভেতর থেকে চোখ আধবোজা অবস্থাতেই হাত বাড়ায় খাটের পাশের টেবিলের ওপর। কবিতা লেখার খাতাটা ওখানেই থাকে। খুঁজে পায় না। পেনটাও নেই। আজ হলটা কী? বিছানাতেই আধবসা হয় ঘরের অন্যদিকে তাকায়। দূর থেকে সোফার ওপর কবিতায় খাতা আর পেনটা দেখে। ঘরের তাপমাত্রা অত্যন্ত নিচে – খাট থেকে সোফার দূরত্ব কমপক্ষে পাঁচ ফুট। আরো এক অদ্ভুত অসহায়ত্বে চোখ বোজে অনিন্দ্য। ঘুম, আরো এক গভীর ঘুমের প্রতীক্ষা। আসলে ঘুম মানে এক অনন্ত আশ্রয়। আশ্রয়হীনতা থেকে আশ্রয় সন্ধানের তাগিদে চোখ বোজে অনিন্দ্য।