সুস্নাত চৌধুরী-র গদ্য

Spread This

সুস্নাত চৌধুরী

চন্নামেত্ত, ছোঁচানোর জল
পুরন্দর ভাট

মাগনায় কী খিল্লি রে বাপ! গদ্য-ফদ্য ছেঁড়া এত ইজি নাকি! আমি শালা কবি, দুনিয়ার শেষ কবি। আমাকে দিয়েও হারামিগুলো গদ্য চুষে নিল। পেদো এডিটরটা মার্চ-এপ্রিলে নবারুণকেও চিঠি মেরেছিল। ডিটিডিসি। ফোনও মেরেছে। তারপর তো ও মরে গেল। বাঙালি শ্রদ্ধা পেলে কোট-আনকোট ‘চলে গেল’ বলে। ‘মরে গেল’ বলার ধক নেই। আমাদের আপনা রিলেশন ছিল। ডিএস-এরও ছিল। মদনের তো ছিলই। তবে আমি ওই মৃত্যু উপত্যকা না কী যেন, ওটা দেড় পাতা পড়েছিলুম বলে, তলে-তলে সবচেয়ে বেশি ছিল শালা আমারই। যাকগে, সেসব কথা লিখব না। হজম হবে না তোদের ব্যাটাচ্ছেলেদের। ওকে তোরা ছুঁতে যাসনি, মুতে ফেলবি।
তোদের তো চাই ভেটকি। ভেটকি নিয়েও আমি কপচালে তোরা রেললাইনে বসে হাগবি। ছোঁচানোর জল পাবি না। লেটারপ্রেসের সময় থেকে ওই মালকে দেখছি। বিষ মাল! ফ্যাতাড়ু হয়েও মনুর পয়দা করা ওই একপিসকে দেখে মাইরি ঝাঁট জ্বলে গেছে। ঠিক ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স গ্রো করেছে বলব না। কিন্তু, হালকার ওপর লাইট করে চাপ খেয়েছি বিলক্ষণ! কথায়-কথায় চ্যালেঞ্জ ফিল করেছি। মানে, একটা ক্লাস ডিফারেন্স না-হোক, কাস্ট ডিফারেন্স তো ফ্যাতাড়ুদের সঙ্গে থাকবে না কি! আবার এটাও স্বীকার না-করলে পাবলিক কলরব করবে – ও-ও কিন্তু কক্ষণও চায়নি তোদের মতো পকেটে খিস্তির মেকি লাইসেন্স নিয়ে ফ্যাতাড়ুর তকমা লাগানো জালি সোয়েটার পরে ঘুরতে। ও যা করেছে, ওর মতো করে। ফুল স্বতঃস্ফূর্তভাবে! তাতেই ও আমাদের কাছাকাছি অ্যাচিভ করতে পেরেছে। দাঁড়া, দু-লাইন লিখেছি ওকে নিয়ে, পড়াই –
ভজা আর গজা দু-ভাই,
যাচ্ছে না কেউ দুবাই।
থার্ড ইয়ারে ফেল মেরেছে,
ভেটকি পড়ছে রুবাই!
এটা ঠিক, রুবাই-টা কান্তিচন্দ্র না নরেন দেব, কে যেন অনুবাদ-ফনুবাদ মেরেছে। ও মাল বাংলায় পড়ছিল ফর সিওর। আমি হলে বাল পড়তাম! অনুবাদ মানেই তো শালা ভেতো মাল। হয় জল মারা, নয় ট্যাবলেট মেশানো। মাননীয় বন্ধুগণ, বন্ধুবরেষু, বলতে বাধ্য হচ্ছি, এই, এইখানেই ফ্যাতাড়ু আর ক্যালকেশিয়ানরা টোটাল আলাদা। পিওর না-হলে আমাদের দাঁড়ায় না, ভাই! তবে, তোরা আর এখন অনুবাদেও এসব রুবাই-টুবাই পড়িস না। লি ম্যা-এ চোখ বোলাস, স্রেফ নিজের লেখাটা খুঁজতে। ঠিকঠাক ছেপেছে কি না দেখিস। তাও তো বানান ভুল ধরতে পারিস না! তোদের গায়ে থুতু দিতেও শালা লাং-এ চাপ লাগে।
তো, তোরা কী করবি, না, ওর নামে বিশেষ সংখ্যা! কত ফর্মা? ধ্যুর! বেসিক্যালি, কলেজ স্কোয়ারের ভেতরেই বিদ্যেসাগরকে হঠিয়ে ভেটকির মূর্তি বসাতে চাইছিস তো! হবে না। পারবি না। কর্পোরেশনের হারামখোরগুলো দেবে না। কইমাছের মতো মুণ্ডটা আরেক বার গুঁড়িয়ে, তাতে ভেটকির মুড়ো লাগিয়ে গণেশ পুজো করাও তোদের কুলোবে না। দশটা-পাঁচটার চাকরি করে আর লিটল ম্যাগাজিনের শৌখিনতা মাড়িয়ে ওসব খচড়ামির দম তোদের নেই। বইমেলার মাঠে চু কিত কিত খেলা এত সোজা নয়, বাবু-উ-উ-উ! মাথায় যখন কাকে হেগে দেবে-না, ডাবল-ডিমাই ম্যাপলিথো পাবি না, বউ-এর ন্যাকড়া দিয়ে মুছতে হবে।
মহাকাশ হতে গু-খেগো শকুন হাগিতেছে তব গায়,
বাঙালি শুধুই খচ্চর নয়, তদুপরি অসহায়।
হেব্বি অসহায় লাগে। আসলে ইদানীং মালটাও ঠিক টসটসে হচ্ছে না। বাংলার বোতলটা, মানে, বট্লটা আর্জেন্টিনার জার্সির মতো করে না-দিলেই নয়! নীল-সাদা ডোরা-ডোরা, মারব চাবুক, চড়ব ঘোড়া… নাহ্, আবার কবিতা এসে যাচ্ছে। তার চেয়ে চিংড়ির চাটটাই আজ ভালো ছিল… লঙ্কা-ফঙ্কা মেরে, টো-টা-ল! তবে ও ব্যাটা চিংড়ির চাট লাইক করত না। ঢ্যামনা! হবে না কেন, নামে ভেটকি, চিংড়ির প্রতি ওর একটা ক্লাস অ্যাগনি তো থাকবেই! সত্যি, আজ ওর কথা বড়ো মনে হচ্ছিল। আহা, কী মিষ্টি ছেলে! বড়ো ভালো মন ছিল! পকেটে বিটনুন নিয়ে ঘুরত। তবে এটা ঠিক, ও শালা আমার লেখাকে নম্বরই দিত না। আউটকাস্ট করে দিয়েছিল। স্রেফ শক্তি, সুনীল, অমিতাভ কি ভাস্কর নিয়েই কাটিয়ে দিল। আউট হয়েই একবার তো লিখে ফেলেছিলুম। শেষমেষ, ক্যাওস-ট্যাওস হবে ভেবে, ডিএস বারণ করল, তাই ছাপিনি। আজ পড়ুন, পুরন্দর ভাটের অপ্রকাশিত কবিতা –
পড়েছ শক্তি,
গিলেছ সুনীল,
ভুলেছ পুরন্দর!
ভেটকির কথা
বাণী ধরিয়াছ,
হবেই ভগন্দর।
নাহ্, আজ আর মুখ-খিস্তি নয়। তোরা তো সবাই বিশেষ সংখ্যা-টংখ্যায় কাউকে ক্রিটিসাইজ করতে চাস না। ভয় পাস নাকি কে জানে! পুজো-টুজো করিস। সেটা আমি পারব না, বাঁড়া। এমনিই গদ্য লেখার হ্যাবিট নেই, তার উপর বানিয়ে লেখা তো পোষাবেই না। আরে বলছি তো, ভেটকি কোনো মহাপুরুষ ছিল না। আমি বলছি, শুনে নে। সঙ্গে এটাও শুনে রাখ, ও তোদের সব্বার থেকে সাড়ে চোদ্দো গুণ এগিয়ে ছিল। অ্যাটলিস্ট, হারামি-আঁতেল ছিল না। ধান্দাবাজ ছিল না। হাউস টু আকাদেমি ছক করে বেড়ায়নি। আর হ্যাঁ, আমার না-হোক, অন্যদের… কবিতাগুলো কিন্তু ভেতর থেকেই গড়গড় বলতে পারত… তোদের মতো চোতা মারাতে হত না!
অতএব, সময় দিচ্ছি, আরও চার-ছ-লাইন পড়… তারপর পাতি ফুটে যা…
স্মৃতিধর তুমি, বীরপুঙ্গব,
খেয়েছ খালাসিটোলায়।
কবিতার ক্লাস নিজে চালিয়েছ,
নুন রাখিয়াছ ঝোলায়।
বারান্দা থেকে ছন্দের সিঁড়ি
উঠে গ্যাছ পায়-পায়।
ক্লাস ফুরায়েছে হিন্দু কালেজে,
মুতিতেছ অসহায়!
অ্যালবার্ট হল অ্যাল হয়ে আজ
টেবিল ভরেছে ওঁচায়,
কবি ও কবিতা প্যান্টে হেগেছে,
মিনারেল জলে ছোঁচায়।
বেয়াকুব ট্রামলাইনের ধারে
দুই দেহ প’ড়ে ঠায়…
সিদ্ধার্থ ও জীবনানন্দ
দেখছে না কেউ, হায়!

***

[লেখক নই, সম্পাদকও নই; এ-লেখার আমি ছিঁচকে বাহক মাত্র! ২০১৫ সালে ‘বোধশব্দ’ পত্রিকার ভেটকি সংখ্যার সিউডোগ্রাফিয়া অংশে লেখাটি প্রকাশিত হয়। তার আগে ছিল সিদ্ধার্থ দাস আকা ভেটকিকে নিয়ে ঋত্বিককুমার ঘটক, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, উমবের্তো একো, কমলকুমার মজুমদার, শিবরাম চক্রবর্তী ও অচ্যুত মণ্ডলের লেখা। সব শেষে নবারুণ ভট্টাচার্যের ফ্যাতাড়ু চরিত্র পুরন্দর ভাট। পুরন্দরের ‘নকল’ লেখাটির ইন্ট্রোয় বলা হচ্ছে – ‘খচে ছিলেন। কুরিয়র না, মেল না। সম্পাদকের বাড়ি বয়ে এসে নিজেই লেখা দিয়ে গেলেন। প্রপার টাইমে। প্রপার বানানে। খিস্তি-ফিস্তি মারলেন। সঙ্গে তুইতোকারি। উড়িয়ে দিলেন। উড়ে ফিরলেন।’ – সুস্নাত চৌধুরী]