তদোগেন গিরতে-র গদ্য

Spread This

তদোগেন গিরতে

ঘুমাও সুরঙ্গমা

ঘুমিয়ে পোড়ো না, অজানা নাম্বার থেকে ফোন আসবে- ভাইয়ের অ্যাক্সিডেন্ট, কাম সুন। এগনি কলামে মাসিমণি ডুকরে উঠবে- ফিরে আয় বাবা। অথচ আমার কোনও ভাই নেই, মাসিমণি নেই, পালিয়ে যাইনি কোনোখানে।
সে রাত্রে দেখলাম ফ্লাডলাইট। বাস্কেট বল কোর্টে বাবা আর মা, কালো টি, হাফ প্যান্ট। মা শাড়ি ছাড়া কিছুই পরেনি কখনো, হাসপাতালেও, সুতি, নরম। মা’কে বলি, বাহ, দিব্যি লাগছে, ওয়ার্কিং আউট? সায়াটিকা? বাবা তো আমার যখন ১৪ বছর তখনই গিয়েছে, নিজহাতে মুখাগ্নি উদ্ধারণপুরে। বলি, ব্যাপার কি? এতদিন পরে? কোথায় গেছিলে? –ভালোবাসা, বুঝলি তো বাবু, প্রেমে পড়ে গেলাম আর রাঙা এক পথ, হাজারিবাগের শালবন চিরে কোথায় যে নিয়ে গেল!
ঘুমিয়ে পোড়ো না, কোথায় যে কে আত্মীয় হয়ে রক্তের ভেতরে বসে থাকে, পালাতে দেয় না।
###
ঘুমিয়ে পোড়ো না, তাহলেই তোমার ফিকে গোলাপি দেয়াল, গাঢ় তুঁতে নীল হয়ে যাবে। ল্যাম্পশেডে ঘিয়েরঙা চামড়া ঝুলিয়ে রাখবে কেউ। জানলা বন্ধ করে দেবে।
কতদিন মানুষ শার্সি কাচ হয়ে থাকে, একধারে ঘর, অন্যধারে আকাশ, আকাশ কি ততটাই, যা গাছেদের ফাঁকে, ঢ্যাঙা লম্বা বাড়িদের ফাঁকে-মানুষের, গাছেদের ক্ষয়-ক্ষতি হয়ে ঝুলে থাকে- শার্সি সেই ঘর যার নিজস্ব গভীরতা নেই- উইন্ড চাইম আছে, ঝড়ের রাত্রে, বেজে ওঠে, ফ্যানের বাতাসে…
###
ঘুমিয়ে পোড়ো না, তাহলেই ছাইগাছ আকাশে চারিয়ে দেবে মাথা, মাথার বিন্দি খুলে আকাশে পরিয়ে দেবে টিপ, আলো এসে অন্ধা করে দেবে, ফুলনে ফলন, বিহড়ে আগুন, ছাগল ঝলসে যাবে, সাধের তেঁতুল পাতা, তেঁতুল পাতার নয় ভাই, নব্বই বোন, ভরাট সংসার, বাথরুমে গুঁইসাপ, সম্বন্ধী কুমির।
###
সীমা কি বিশ্বাস? গোত্র কাশ্যপ? নিজেকে পেরিয়ে গেলে তবেই ফুলন—কাঁটাতার পেরিয়ে সে বসে থাকে, দেখে তেঁতুল পাতায় সম্পৃক্ত ছাগল। তেঁতুল পাতায় থাকে নয় ভাই, নব্বই বোন, ভরাট সংসার, বাথরুমে গুঁইসাপ—সম্বন্ধী চেঁচিয়ে ওঠে- কুমির কুমির! কুমির জলকে যায়, বেলা নামে পাটে—মাতাদেবী মুখটি খোলে না। পানপাতা মুখে বসে ফাজিল ভ্রমর, তারপর উড়ে যায়, সাইকেল-বালকের দেশে।
ঘুমিয়ে পোড়ো না, তাহলেই ছাইগাছ আকাশে চারিয়ে দেবে মাথা, মাথার বিন্দি খুলে আকাশে পরিয়ে দেবে টিপ, আলো এসে অন্ধ করে দেবে, ফুলনে ফলন, বিহড়ে আগুন, ছাগল ঝলসে যাবে, সাধের তেঁতুল পাতা, তেঁতুল পাতার নয় ভাই, নব্বই বোন, ভরাট সংসার, বাথরুমে গুঁইসাপ, সম্বন্ধী কুমির।