হিয়া মুখোপাধ্যায়-এর কবিতা

Spread This

হিয়া মুখোপাধ্যায়

স্বাধীনতা 

একবার দু’বার রোদে হোঁচট খেতে পারো।

একবার দু’বার লালচে আর ঘিনঘিনে আঙুলগুলো
ছুঁয়ে ফেলতে পারে তোমায়। 

কিন্তু তাই বলে, 
নদীর বুকের কাছে উবু হয়ে
কার প্রতিবিম্ব খুঁজছো তুমি হেনরি?

একবার দু’বার এই চরাচর ব্যাপ্ত পাহাড়
হ্যান্ডগ্রেনেডের মত
ফেটে পড়লেও পড়তে পারে।

মনে রেখো, 
কারফিউ এর আঁচে তালু পুড়লেও
যন্ত্রণা কিন্তু সামান্যই।

চাবি থেকে হাত সরিয়ে নাও হেনরি। 
সন্ধে নেমে আসছে।

হাওয়ায় প্যামফ্লেট উড়ছে। 

রেডিওয় শোনা যাচ্ছে 
আজ স্বাধীনতা দিবস। 

শহর 

নিচু হয়ে আসা এই শহরে
ফসফরাস দেওয়া মদের খোঁজে
আমরা এসেছিলাম। 

ভেপার ল্যাম্পগুলো তখন দপদপ করছে।
নিষিদ্ধ পল্লীতে টানটান উত্তেজনা নিয়ে
ঢুকে পড়ছে একটা কালো মার্সিডিজ। 

আমরা রুকস্যাকে ভরে এনেছিলাম
শুকনো রুটি
আর অনন্ত হেমন্তকালের টুকরো। 

তখন শহর জুড়ে সব্বাই চুপ।
টেলিভিশন সেটগুলো 
সেই আশির দশকের মত
গমগম করছে।

তোমরা কেউ 
আমাদের পায়ের শব্দ পাও নি।

একা ব্রথেল মালিকের হুইলচেয়ার 
আজো এক আধবার 
আবছা মনে করতে পারে, 

নিচু হয়ে আসা এই শহরে
শুধু তোমাদের জন্য 
মুঠোভর্তি নির্বাণ নিয়ে 
সে রাতে
সন্তদের মত 
আমরা এসেছিলাম। 

বন্দুক

র‍্যাট ট্যাট ট্যাট র‍্যাট ট্যাট

লালচে আলোয় ভরে যাচ্ছে মাঠ। গোপন ও পারস্পরিক সন্দেহে হাঁসফাঁস করতে করতে তখন জঙ্গল পেরোচ্ছেন দুজন মানুষ৷ 

র‍্যাট ট্যাট ট্যাট র‍্যাট ট্যাট

পাহাড়ের চূড়া কার্পাস তুলোর মত বরফে ঢেকে গ্যাছে৷ সেনাছাউনি থেকে বেওয়ারিশ মৃতদেহ টানতে টানতে খাদের দিকে মিলিয়ে যাচ্ছে একটা ছায়া।

র‍্যাট ট্যাট ট্যাট র‍্যাট ট্যাট

কফিন থেকে বেরিয়ে আসছে বাদামী হয়ে আসা হাত। গরাদের ফাঁক দিয়ে ঝলসে উঠছে বাইশ বছরের পুরনো এক জোড়া চোখ। 

র‍্যাট ট্যাট ট্যাট র‍্যাট ট্যাট

বোর্ডিং স্কুলের ঘন্টা বাজলো। ‘সব ভয়ের গল্পেই একটা বিছানা থাকে’-ভাবতে ভাবতে, ঘুমঘুম পাকদণ্ডী বেয়ে বছর ষোলোর একটা মেয়ে তখন শিস দিতে দিতে মিলিয়ে যাচ্ছে ধোঁয়ায়। 

ডাইনী

ডাইনীদের জন্য বাঁধানো বেদীর মুখে
দৈবাৎ এই এসে পড়া। 
চারপাশে তখন লার্চ গাছের মত শান্তি। 

ক্রিসমাস ক্রিসমাস খেলতে খেলতে
দেবশিশুর মত দুইজন
নৌকা বাইছে। 

ওদের পায়ের পাতায় কোনো 
আলপিনের দাগ নেই, 
তা তুমি জানো। 

গত শতাব্দীতে
ডাইনীরাই এই শহরের পত্তন করেছিল।

তখন হাওয়ায় কত কত দারুচিনি 
আর কতরকমের ঘুম। 

‘রোজমেরি, তুমি!
রোজমেরি, তুমি!’-
তোমাকে দ্যাখা মাত্র ডুকরে উঠলেন 
যে লোলচর্মা বৃদ্ধা,
তিনি ঠিক কে? 

ডাইনীদের জন্য বাঁধানো বেদীতে তখন
আলো দ্রুত ফুরোচ্ছে
আর তোমার মনে পড়ে যাচ্ছে ঘুম। 
তোমার মনে পড়ে যাচ্ছে দারুচিনি।

তোমার দস্তানা খুলে কেউই এখন 
আলপিনের দাগ মিলিয়ে নেওয়ার 
সাহস দেখাবেনা।