সন্দীপ কুমার-এর কবিতা

Spread This

সন্দীপ কুমার

ব্যস্ততা ও অলসতার টানাপোড়েন: পাঁচ দফা

আমাদের কোনো ব্যস্ততা নেই, ব্যস্ততা বরষার। সব গাছকেই প্রাণ দেয় সে… সারা মাটি ভেজায়… আনন্দ ও সুখ দেয় মাছ ও ব্যাঙেদের। তাছাড়া পালক ভিজে গেলে পাখির শিস হয় আরও চিকণ। আরও কত না জানি কাজ তার! অজস্র অজয়, নিখিল, বিমল, অমল এরা ঘুম থেকে উঠে… ঘুমোতে যাবার আগেও বরষা দ্যাখে… খিচুড়ি খায়, কিছুটা অম্বল হয়… কিছু বিরক্তি প্রকাশ করে বরষার দাপটে। এছাড়া আর কোনো কাজ নেই। বরষা সম্বল করেই তো টিকে গ্যাছে পৃথিবীর ভবিষ্যত। আমরা আর কোনো কাজ জানি না। অঝোর বরষায় তবু মেজাজ খিঁচে যায় আমাদের। আমাদের ব্যস্ততা: জামাকাপড়ে কাদামাটি ছিটে গেলে ধুয়ে কেচে তাড়াতাড়ি শুকোতে দেবার।


নিজেরই দীর্ঘ ছায়া দেখি অনেকক্ষণ। ঠাকুমা বলতেন, ছায়া দেখলে নাকি অসুখ করে। ছায়া, আমি ও অসুখ… তিনজনেই খুব ঘেঁষাঘেষি আমরা এক শরীরে বসবাস করি। তবু ছায়ার সঙ্গে আমার যুদ্ধ… অসুখের সঙ্গে লড়াই… আমার সঙ্গে আমি প্রতিনিয়ত ঝগড়া বাধাই। কাজ নেই তাই, নিজেরই ছায়া টেনে টেনে বাড়াই আরও বাড়াই। ছায়া, আরও এক ছায়া ধরে ফ্যালে। ছায়ায় ছায়ায় প্রেম হলে ছায়াছবির মতো মনে হয়। ছায়াশরীরের তেমন কাজ নেই। পিঁপড়েরা তবু কিছুটা ব্যস্ত… ওদের শরীরের ছায়া এত দীর্ঘ নয়। আমার ছায়া দেখে আমি নিজেই ত্রস্ত।


মা দুর্গার দশটা হাত। অসুরকে বধ করার পর, জীবনের বাকি দিনগুলো মা কিন্তু বেকার। আমার দুটো হাত। দুটো হাত দিয়ে মায়ের দশটা হাত বানাই, অসুরের দুটো হাত বানাই। তারপর চুপ করে বসে দেখি দুজনের যুদ্ধ… না জানি কী ভীষণ ব্যস্ত ওরা! আমার দুটো হাত : ভারী অলস, ভীষণ পাজি। যুদ্ধে ওরা নিমরাজি। মা দুর্গা ও অসুরের রণকৌশল খুব শৌখিন কারসাজি।


ছাগল হাঁটছে, পিঁপড়ে হাঁটছে, পৃথিবী হাঁটছে; অতি মন্থর। এদের তিনজনের মধ্যে হেঁটে কে আগে পৌঁছবে চাঁদে? অপেক্ষারত চাঁদ, দুয়ারে বসে থাকা চাঁদ, ততক্ষণে বুঝি বুড়ো হয়ে যাবে।
চাঁদও হাঁটছে… সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে কখন সে ছাগলের দুধ খাবে? পিঁপড়ের মুখে মুখ দিয়ে গুড় চাখবে। তারপর পৃথিবীর সব বিষ পান করে নেবে। আমি জানি, চাঁদ খুব ব্যস্ত।


ওই দ্যাখো, রবীন্দ্রনাথ নামের ভূতটা শান্তিনিকেতন থেকে ছুটে পালাচ্ছে। সর্বস্ব খুইয়ে ভূতটা নিদারুণ ভয় পেয়েছে। আমাদের কাজ, এই ভূতটাকে অনবরত ভয় দ্যাখানো। বেচারা ভূত ছুটতে ছুটতে এসে পড়েছে আরেক হানাবাড়ি ; জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি। ভূতটাকে কেবলই উত্যক্ত করা আমাদের কাজ। ভূতটা পালাবে কোথায়? হাঃ হাঃ ঘোর কলির বাজ ভেঙে পড়েছে ভূতটার মাথায়।