সত্যজিৎ রজক-এর কবিতা

Spread This

সত্যজিৎ রজক

পরিচিতি
————
জন্ম -১৯৯৬  সালে ৫ জুন । আমি পুরুলিয়া জেলার ভাগাবাঁধ গ্রামের বাসিন্দা(পশ্চিমবঙ্গ, ভারত )। বর্তমানে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-এ পড়াশোনার সাথে সাথে একটু আধটু লেখালেখি করি এবং ‘ প্ল্যাটফর্ম’ পত্রিকা সঙ্গে যুক্ত আছি । পত্রিকার সঙ্গে থেকে কাজ করতে ভালো লাগে তাই। এছাড়াও অনেক ছোট ছোট  ছাপানো পত্রিকা এবং ওয়েবম্যাগাজিন এ লেখা লেখি করি।

ছায়া শরীর 


একটা দীর্ঘ জলের ছায়ার ভেতর তুমি ঢুকে পড়ো। জলের ছোট ছোট ঢেউয়ের সঙ্গে তুমিও মাঝে মাঝে কেঁপে উঠবে। তোমার শরীরের ভেতর মাছেরা জলপোকারা অবলীলায় খেলা করবে, তুমি টের পাবে না।
তারাও বুঝে উঠতে পারবে না যে এটা  মানুষ শরীর! ছায়ার ভেতর অনুভূতির কোনো রং হয় না,
কোনো চেনা শব্দ হয় না। ছায়া  হলো একটা মৃত যন্ত্রনা মতো।
মাছরাঙ্গা পাখি রঙের একটা ভয় কখনো কখনো জেগে উঠবে স্নায়ু কোটরে। একটা বিশাল আশ্বস্ত ছায়া
বিলীন হয়ে যেতে চাইবে আকাশে।
মনে হবে তোমার শরীর কখন যেন পাখির ঠোঁটে আকাশ হয়ে যাচ্ছে! আকাশের  মতো এত বড় একটা
দায়িত্বের কথা ভেবে তোমার ভয় হবে!

আধ্যাত্মিক বিবর্তনের ধরণ আজকাল পাল্টে ফেলেছে এই ভ্রষ্ট পৃথিবী। বিস্ময়সূচক চিহ্নের মতো ভারী
দোটানার মধ্যে এরকম পড়তে হয় কখনও কখনও!
এই সমস্ত ঢেউয়ে ভেতর আকাশের ভেতর তোমার শরীর  ছায়া হয়ে , মায়া হয়ে  কিভাবে খেলে যাচ্ছে তার একটা নমুনা
নামান্তর রেখে যাবে প্রবল আশঙ্কার প্রেক্ষাপট  জুড়ে  !
ক্রমশ তুমি ছায়াজলের ভেতর গভীর মৃন্ময় ভূমির  খানিক অবকাশ পেলে, এই পৃথিবীর গূঢ় প্রবাদের মানে ভালো বোঝা যায়!
আর তোমার ছায়া শরীর ঢেউয়ের সঙ্গে কাঁপতে কাঁপতে এক সময় সেই প্রবাদের প্রকরণ জুড়ে আজন্মর  প্রভু স্বীকার
লাভ করবে একসময়! 

স্রোতের সমাধি গুচ্ছ 

একটা নক্ষত্র পতনের রাতে বুকের অগাধ গভীরে নেমে আসে অন্ধকার। কোনো জ্যোৎস্না ছিল না, ছিল না জোনাকির
আলো। কামনার উত্তাপ ক্রমশ কমে এলো  রৈখিক বেদনায়।
শরীর গলে যাচ্ছে মায়া জলে। উদর, নাভিমূল থেকে সারা শরীর। মায়া জল ছায়া হয়ে ভেসে যায়। হিসহিস
করে নৈঃশব্দ নেমে আসে। হাড় পাঁজরের শব্দ গিলে খেতে চাই বিরতি বালুচর!
সাবেগী অধিকার নিয়ে সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া জাহাজের মতো সমাধি হয়ে উঠে একটা নির্বিকার চর্বিহীন সমাচার!
আর কিভাবে যেন  বুকের মধ্যে এঁকে দিয়ে যায় নিশ্চল নম্রতার  ঠান্ডা প্রস্তাব!
আমি ভুলে গেছি অবাধ খামখেয়ালীপনা, ছায়া আলাপ। সুদূর অচেনা সংলাপে নেচে ওঠে  প্রাগৈতিহাসিক খুবসুরত সখীগণ। পথে ভুল হলে বিস্মৃত বেদনায় অভুক্ত পৃথিবীর সঠিক চিহ্নে  কেঁপে ওঠে নদীগর্ভের  সংযম সাধন।

এবার একটা বিরতি চিহ্ন দিয়ে ফেলি  বিমুগ্ধ স্রোতের  শেফালি কাননে। প্রাচীন গুহা চিত্রের চরিত্র নির্মাণের সুবিধায়
বেছে ফেলি প্রভূত সন্ধান,
লুকিয়ে থাকা জীবাশ্ম রঙের পাখিরা উড়ে গেছে অনাবিল খোশমেজাজে। একটা অবাধ ঘুমের ভেতর ভেঙে
ফেলি নিজেকে, কিছু প্রকার বিহিত করতে করতে নীল নিদানে সেজে ফেলি সারাক্ষণ।
আর নিহত গাছের শয্যার পাশে প্রহর গুনতে গুনতে  জামায়েত হয়ে উঠবে বিলুপ্ত সংঘর্ষের আদিম প্রবৃত্তি, বিমর্ষ বিষাদ
ধ্বনি এতক্ষণ গুনে ফেলেছি নিখাদ মর্মে ।