শুভঙ্কর দাশ-এর কবিতা

Spread This
Subhankar Das

শুভঙ্কর দাশ

একা একা বকবক


যারা ভালোবাসতে ভয় পায়
আমি তাদের সাথে নেই।
এত সকালে যখন চারদিকে
লোকজন ঘুমিয়ে কাদা
অথচ পাখিরা ঠিক উঠে পড়েছে
ডাকছে চিৎকার করছে।
ওরাই আমাকে বলছে
কিস্যু এসে যায় না
কেউ তোমার সাথে গলা মেলালো কিনা।
একা একা বকবক করে যাওয়া
একা একা চিৎকার করে যাওয়া
এই বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।
যেটুকু পারি আমি সেই ভালো।

 


শিবাজল ট্যাবলেট


একজন শুনলাম লেখা ছেড়ে দিয়েছে।
তা দিতেই পারে
লিখতেই হবে এমন তো কথা নেই।
তবে কিনা এও শুনলাম
মাল টানলেই শব্দের দেও ভর করে
ঘাড়ের উপর উঠে নাচে।
এ ব্যারাম কীভাবে সারবে?
মাল ছেড়ে দেওয়া তো চলে না।
অনেকদিন ভেবেছে ছেড়ে দেবে
আর এক ফোঁটাও খাবে না
লিখবে না একটা শব্দও শালা।
তবুও সাঁঝকালে এ নিশির ডাক
এড়ানো যায় নি।
যেভাবে এই দেওকেও ঠেকানো যাচ্ছে না
ঘাড়ের উপর এই টুইস্ট
মেনে নিতে হচ্ছে, অসহায়
সমানে।
বললাম এই না এড়াতে পারাও
একটা বিষয় হতে পারে।
এমন মুখটা করল যেন এখনই
খ্যাঁক করে কামড়ে দেবে।
আচ্ছা মানুষ কামড়ালে
কটা ইঞ্জেকশন দিতে হয়?
নাকি শিবাজল ট্যাবলেটেই হয়ে যাবে?

অন্য কথা

ছাদের টবে কত কী যে
আশ্চর্য ঘটনা ঘটে যায়
যে গাছের বীজ আমি লাগাই নি
তাও মাথা তোলে, ফুল ফোটে
যে ফুলের নামও জানি না আমি।
ভাবি বাবার কাছে কি এসবের
খবর ছিল না?
তিনি তো বলতেন যে বীজ পুঁতবে
সে গাছই হবে।
অথচ কত বীজ পুঁতেও দেখেছি
সব পচে যেতে পারে চুপচাপ,
যতই ভাবি না কেন মাথা তুলবে সে একদিন।
অথচ হাওয়ারা এসে ফিসফিস করে
অন্য কথা বলে।

চুপ কথা


একটা মেঘাক্রান্ত আকাশতলায় বসে
এই স্থির ফ্ল্যাট বাড়িটাও কি ভাবছে
আমার মতো
আর দেখছে রোদের লুকোচুরি?
রোদের ভালোবাসা যা আলো করে দিচ্ছে
অন্তর বাহির।
মাঝে মাঝে তাদের চুপকথা
শোনা যায় হয়তবা।
বা শোনা যায় না হয়ত।
কান পেতে থাকলে পাশের বাড়ির বৌদির আক্ষেপ
বিলাপ কানে আসছে শুধু।
যেখানে রোদ হয়ত সেভাবে ঢোকে না আর।