শিবসাগর দেবনাথ-এর কবিতা

Spread This

শিবসাগর দেবনাথ

1.পর্যটক

জানলার স্থবিরতা নেই;  তার মুখে বসে থাকা মানুষ স্থবির
শুধু চোখ দৌড়বিদ, কিছুটা গ্রিক পর্যটক, টীকা লিখে রাখে―

নির্জন শ্মশান যাত্রার দিনে
তোমাকে ঈর্ষা করি গাছ
খসে গেছ, তবু
তোমারই স্পর্শ লোভে মাথা তোলে লতাফুল

বিস্ময়, তুমি সমুদ্র মাছের কিয়দক্ষণ উড়ে চলা
বিস্ময়, তুমি মায়ের পেটের মতন রুটির বর্তুলতা

2.  আষাঢ়ে-কল্প

অঝোরে আষাঢ়, ভিজে উঠছে টিনের চৌরিঘর
পাখিদের ঘর তবু গলে, ভেসে যায়
পাশাপাশি দুটো কাগজের ক্যানু, যদি ঠোকাঠুকি হয়?
শোনো বেদজ্ঞান নেই, মানুষের চরাচর পড়ে এ’টুকু জেনেছি― 
অসময়ে কাছে এলে ভেঙে যায় সব

দ্যাখো সারাদিন বৃষ্টি অবিরাম
কত কী শব্দ হতে পারে! 
শুধু মাটির কাছে চুপ 
যেন যমুনার তটে লুকিয়েছে শ্যাম, গোয়ালিনি রাই: নীরব মিথুন
মাঝামাঝি ভিজে যায় উঠোনের তার, কিছুটা বড়াই 

3. বিজ্ঞান

“যাবতীয় মেঘ ঢেকে যাবে আকাশের দ্বারা,
দ্যাখো পাম্পকলে বালু, গাছেদের শিরা যাবে কতটা পাতালে?
এই ভবিতব্য মতে তার অতীতে বৃষ্টি হবে খুব”

―যদি এইসব বলি, আমারই বাতুলতা ভেবে 
দূরে সরে যাবে আরো কয় ক্রোশ, শুনবে না
যে’ভাবে সাঁতার গিয়েছে থেমে অজানা জলটির কাছে

বরং আমাকেও কাপালিক ভাবো কিম্বা জ্যোতিষ
এসেছি ভিনগাঁও থেকে, হিমালয়বাসী…
তবু শোনো!
ঠিক যেই বিশ্বাসে এতকাল হাত দেখিয়েছ

4. আজান

গুঁজে পরা গেঞ্জির মতো পুরাতন ভোরবেলা
এইযে বালির ঢিপি, 
রোগা পায়ে জাম্প দেবে পাঁচের ছেলেটি 
ব্যথা পাবে, তবু কার সুরে ঢুলে যাবে অশ্রু-পলক?

দূরের আল্লাঘর, তুমি আজানের পিতা এইবার সম্মতি দাও!

5. ১২ই জুন, ‘২০

সম্যক চেয়েছি তোমায়,  কিঞ্চিৎ পেয়েছি আদৌ?

দেখো, আমাদের শীর্ণকায় পায়ে কীরকম মাংস আলগা হয়
তবু রয়ে যায় শক্তির ন্যূনতম বীজ
মা, যেন তোমার সোহাগ― কখনও যাবে না

একদিন স্কুলব্যাগ কাঁধে
বহুকষ্টে গণিত শিখেছি, 
পুরোনো বারুদের মতো তারও তেজ ধুয়ে
কিছু কিছু আছে, রয়ে যায়
মনে রেখো, তোমারও আধোয়া শু-য়ে 
সেরকমই ফুটে আছে নুড়ি, কবেকার পাতা
তখন কথক ছিলে, পালাগান অনায়াস আরো
কেন আজ মুচলেকা চেয়ে কেঁপে কেঁপে ওঠে নীরবতা?

6. বেদ

কোনো ভালোবাসা নয়, 
যাবতীয় জুড়ে রাখে ঈষদুষ্ণ গদ
―পেট ব্যথায় কুঁকড়ে যাওয়া ছেলে, 
মৃত্যুকে ভয় পেয়ে লিখে রাখবে ভাবে―
একদিন যেরকম ভয়ে, মোল্লার বেটি পুঁথি তুলে নেয়

ইদানীং ভাবি―
পাখি ও পোকাদের জাতি আমাদেরও বহুকাল আগে
পৃথিবীতে এসে, জেনে গেছে তৎসম জ্ঞান: 
সমস্ত ঋতু আহরিত পুষ্টির জোর
মধুমাস এল ঐ!
রমণীয় নাচো, খড় নিয়ে ওড়ো কুটিরের দিকে
ওহে শ্যামপোকা, পরস্পর সূক্ষ্মকোণ রচে
                                 কেঁপে উঠো পাতার উপর… 
———————————————————————————
  || উৎসর্গ: সুগন্ধি বনফুল তেল, আমাদের ছোটবেলা ম ম করে ||