দেবাশিস খেটো-র কবিতা

Spread This
Debashish kheto

দেবাশিস খেটো

ক্ষত

ঘন্টাকে মন্দির ভাবছি আর ব্যাকগ্রাউন্ডে কাকের ডাক
ফেউ আসা শুরু হয়ে গেছে, সেটাই বাস্তব, বাঘ নয়
ঠাঁই আছে বা নেই তবু চিৎকার আছে
অ্যাসিড ক্ষার ক্ষারকের মতো রাসায়নিক বিক্রিয়ক
কবর বা চিতাভস্মের প্রকৃত সত্যের মুখে…
এবার পুনর্জন্মের ছেঁড়া কাঁথা রইল
মিত্র বা মিত্রের মতো শত্রু সবাই এক পাত্র করে পান করে যান কমরেড
বেশ মেজাজ পাবেন


আমি নির্দেশ দিলাম আর আমার নাটকের দল ঘুরে দাঁড়ানোর ভঙ্গীতে
শূন্যে কয়েক রাউন্ড শূন্য নিক্ষেপ করল-
তবু রাগ পড়ল না
সব ঘেন্না কনফেস করেও ধ্বস অব্যাহত
মেরুধ্বস ভার্চুয়াল অথবা প্রাকৃতিক
রচিত আবেগঘন গভীর মুহূর্তে ঠোঁট স্পর্শ করতেই
আবার শূন্যে শূন্য রাউন্ড শূন্য নিক্ষেপিত হল
রাগের মাথায় বেশ কিছু কচুগাছ কেটে কুচি কুচি করলাম


একটাও কাচ নেই আমার কাছে
শুধু মাটি আর জল সর্বস্ব চাষীর মত
হিমপড়া অক্টোবরে ঘাসের অন্ধকারে
ফুস্ফুসে জমে থাকা অনেক পুরনো কাশির শব্দ
রক্ত উঠে আসা ভোর
কষ্টহীন জলজীবন বলে কিছু হয় নাকি!
বালিশ ভ্রমের অসুস্থ আবহে
ক্যাঁচর শব্দে আর গোবর গন্ধে
গোরুর গাড়িতে শুয়ে আছি ভান করে


অন্ধকার থেকে আলোর প্রান্ত, বা উল্টোটা –
এখানে লুণ্ঠিত শব্দেরা রোজ ঝামেলা বাধায়
ওরকম উলঙ্গ হতে পারার মায়া !
তবু সে মৃত্যুই
এই ছড়িয়ে পড়ার কোন ফাঁকি নেই
জালের মাঝখানে ঝুলে থাকা মাকড়সানবাবীয়ানা
অনেকটা বিষ চাই
অনেকটা নেশার কামড়
অনন্তকাল পাত্র রাখা আছে যত্নে
প্রতিদিন ভরে যাওয়া চাই…


একটা কাজের মুহূর্ত আটঘাট বাঁধা
গাছের নিচে ভিক্ষার ঝুলি পাতা
এরকম নির্জন অকাজে এর বেশি ভাবা যায় না –
আর লোডশেডিং
নারীবিদ্বেষী পুরুষের পুরুষাঙ্গের দিব্যি
সঙ্গমের দীনতায়
অনেক উৎসাহ জেগে ওঠে নিরুৎসাহ হয়ে
ডুবে যায়…