আনিস আহমেদ-এর কবিতা

Spread This

আনিস আহমেদ

৫টি কবিতা / আনিস আহমেদ

দীর্ঘ হৈ চৈ- এর ভিতর
মাতোয়ারা হাতে বেরোয়
নেশার মতন শিশু ও সরল বেরিয়ে যাওয়া…

যেন অকম্পন জলে
পিপাসার ধারণা এসে ছাঁয়া ফেলছে মুখের—-
বেদনার জটিল দাগগুলো
বেখেয়াল পড়ে যাচ্ছে তার স্নানের ভিতর

আর গান পুনরায় তুলে আনছে তাকে…

এই দৃশ্যে
পাখির ঠোঁটের চেয়েও
লম্বা হয়ে উঠছে পাখির গানের গলা…

জলীয় ফোস্কা থেকে
অন্যমনস্কতাগুলো তুলে ধরি
এই সম্পূর্ণ নদীর যাতায়াতে
অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে রইল শিশু নৌকোগুলো
যখন,
একটা গোটা নদীর ধারণায়
বালির গায়ে চিকচিক্ শব্দ ফুঁটিয়ে তুলে রোদ
দূরে একা হয়ে পড়ছে…

জল ভেঙে,
জমানো সাঁতার ভেঙে,
এই হাত পা ছোড়াছুড়ি আমার
তবু, কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না

জল যদি চোখের-ই হয়, তাতে
কাজলও তো গড়িয়ে আসবে কিছু

আনন্দের মৃত্যু সংবাদে
দুঃখের চোখে জল এসে গেল
এই দৃশ্য যতবার রিপিট হয়
চোখের রিভারপুল ততবার কেঁপে কেঁপে ওঠে…
সংবাদের পাশে এসে বসে সংবেদন, তবু
হাসিকে ইতি দেওয়া এই দৃশ্যে
একটা ব্লাডি হাত
কোনো কাঁধ-ই আর মানছে না

বিকেল, দীর্ঘ করে তুলছে তার ঐ হাত

আর সে ঐ হাত দিয়েই
পাখির ঠোঁট থেতলে
সন্ধে বরাবর নিভিয়ে দিচ্ছে গান…

পাগলের চাহিদাবৃত্তির নিচে –
একটা হাত এগিয়ে থাকে সামনে…

ওই হাতের তালুর থেকে
রেখাগুলো ক্ষয়ে যেতে যেতে
এত-ই মসৃন
তার ভবিষ্যত শুধু-ই পিছলে পড়ছে…

দৃশ্যটি এমন
যেন, অর্ধেক রুটির থেকে
বিশৃঙ্খল কামড়ের দাগ থেকে
মাছি, উড়ে গিয়ে বসছে –
পাগলের প্রলাপ থেকে সামান্য দূরে…

বাদামি ঘামের দাগ ধ’রে
বিশ্রাম থেকে এই হেঁটে ফেরার পথে
শেষ হয় না পা…
শুধু অন্যমনস্কতা-ই ফুরিয়ে আসে

যখন দিনানুপাতিক রাত নামছে
আর,
পেশিবহুল খিদের নিচে
স্পষ্ট হচ্ছে শ্রমের দাগগুলো…