অনিকেশ দাশগুপ্ত-র কবিতা

Spread This

অনিকেশ দাশগুপ্ত

আমাদের সাক্ষাৎকার থেকে

আমাদের এই অদ্ভুত সাক্ষাৎকারগুলি ঘটে চলে
লাল টেবিলটপের মধ্যাহ্নভোজনে, ম্যালের প্রসিদ্ধ সূর্যোদয়ে –
সোনালি ঝাড়বাতি আমাদের মাথার ওপর;
রেক্সিন বাঁধানো কালো অক্ষরে ,মাশরুম বাগানে আর ভূতুড়ে আতাগাছে…
আমরা লাফিয়ে ডিঙোই ভাঙা লোহার ব্রিজ,
পায়ের নিচে টাটকা কুকুরের মৃতদেহ আমাদের নিয়ে যায় রেলপাড়ার
প্রান্তে ডোমবস্তির ভেতর, রক্তের শিরশির আওয়াজ থেকে আলো সৃষ্টি হতে দেখি
সেই প্রবল ধূসরতায় অথবা অপরিকল্পিত খেলাগুলির একটা স্থির পরিণতি…
ক্রমশ ঋজু ওরা মৃত মাংসের দাহ্যগুণে আরো মৃত মাংসের অপেক্ষায়
সহজে আগুন ধরে যায় এমন সমান্তরালভাবে রাখা নরম মৃতদেহ
আগুনের হল্কায় আবার আমাদের সাক্ষাৎ হয়
মৃদু আলোর ক্যাফেটেরিয়া, ঝলসে ওঠা ক্যাফেটেরিয়া
আমাদের শার্সির ওপারে মৌন মাংসের বিষ রেখে গেছে কেউ
আর এই স্ফীত আখ্যানগুলি আমাদের কোন শেষ সাক্ষাৎকারে
দেখে নেবে ভয়ার্ত ভেড়ার চোখে…

স্বপ্নের প্রাক মুহূর্ত

ঘোড়ার বিভিন্ন স্তর বেয়ে
এতদূর নেমে আসা এই অন্ধকার বিছানার নরম বাসায়
গথিক কাঁচের আলো দেয়ালে ফুটিয়ে তোলে
কিংবদন্তী ক্যাভালরির গৌরবগাঁথা
অভ্যস্ত দেয়ালে, আসবাবে – ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি বাড়িটির কাঠামো
ভারী ঘুমের মতো বিছানার অবস্থানগুলি ঘিরে ফেলছে
দরজার গোল হাতলখানি এখন যেকোনো ছায়াপথের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র
আমি নিঃশ্বাস ধরেছি আর বেরিয়ে পড়ছে আকাশকল্প তীব্র স্নেহে
ঘোড়াটি ছুটে যাচ্ছে ঋজু স্তম্ভের অনুমানে
হা -খোলা ধাতুর কিরণে দেখি বিশ্বস্ত প্রতিপালক আমার,
বোহেমিয়ান কাচের পাত্র ভরিয়ে তুলছেন ক্ষীণ শিখায়
আজ রাত্রে পায়ে পায়ে নামে মাংসের ফোয়ারা – পাঁজর ও হাঁটুর ক্কাথ,
আর অ-দৃষ্ট দেয়ালগুলি অভ্যস্ত অবস্থানে ঘরের নরম আদল হয়ে থাকে…


শান্তিশিবিরের প্রার্থনা

নিচু স্বরে ওরা ডাকছে প্রবাদপ্রতিম পূর্বজকে
মোমবাতির আলোয় আরো কিছু ব্যক্তিগত বার্তা ছিল
দড়ির অসংখ্য সর্পিল পাকগুলি এতটাই স্বচ্ছ যে আমরা
অস্ত্রকে একেবারেই উপেক্ষা করবো না আর
দু’মিনিট জলজ কীটগুলিকে আমরা উদ্দেশ্যমূলক করে তুলতে পারি
দীর্ঘ প্রার্থনার উপাচারে আঁশ, ভস্মের পরিপূর্ণ ব্যবহার ছিল…
আমাদের জিহ্বায় বস্তুত সাদা ব্যান্ডেজ ও তার ভেতরে
জমাট লবণ সম্পর্কে
বিচ্ছিন্ন অনুমান ফুটে উঠেছিল এমন প্রার্থনার রাতে…


আরক

টিলার ওপরে দাঁড়িয়ে দেখি অরোরাস্নাত এই শহর;
দৃষ্টিগুলি বৃহৎ হতে হতে অসংখ্য মুখ আঁকড়ে ধরে
স্ট্রীটভর্তি লোক অফিস থেকে ধীর পায়ে বেরিয়ে
বরাদ্দ ঘরে প্রবেশ করেছে…
অথবা বড়জোর ভ্যাপসা ক্যাফেতে একটা দীর্ঘ বিচ্ছিন্ন রাত
শেষ ট্রেনে আরো একবার প্রেরণাগুলি হারিয়ে যায়
লালামাখা মাংসের অসুস্থ জিভে
দ্রাক্ষা পতঙ্গের ফিনফিনে ডানা
ফড়ফড় শব্দে, রাতের আলোছায়ার জরিপে সতর্ক হয়
আর এই আনুষ্ঠানিক অবসর জুড়ে মহান আবছায়া আরক
চুঁয়ে পড়ে এ শহরে …