অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতা

Spread This

অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়

ব্যাচেলার বয়

এক।।

ঘুমটিঘর…তুমি এখনো আমারই……

একটা চাঁদ আর জ্যোৎস্নার মাঝখানে যতটুকু ফারাক থাকা দরকার সেটুকু নিয়েই ছায়াও সত্যি বলছে। গান বলছে। আর গানের সমস্ত সত্যি নিয়ে পাড়ার মোড়ে এবার বেরিয়ে এলো প্রতিমা। ঠিক প্রতিমাই যখন বেরিয়ে এলো তখন ওরা সবাই সরে গেছে অনেকটা পশ্চিমের দিকে… তোমার পুকুরপাড়ে।

এবার পুরো ঘটনাটা উজাড় করে বলতে থাকব আমরা গলির এমাথা থেকে সে মাথায়… এবার সোমনাথ কী করবে?

কিম্বা সোমবার গুলো আবার আসবে কীভাবে?

এইসব আড়াআড়ি’র জন্যই কিছুটা ব্রেক নিলো মিড়। যখন থামতে থামতে আবার শুরু হচ্ছে ওর বসে থাকা। পিছন ফিরতে ফিরতে জলেও অন্ধকারগুলি নেমে এলো চুলের শব্দ শোনার জন্য। আর শমীক সোনা গলাতে গলাতে চায়ের দোকানেই বসে ভাবছে এই চন্দননগরে আমার শ্রীমতি এই এলো বলে। ঘর সত্যি হল বলে। আর সেই যে গলানো সোনার স্বপ্ন কেউ কেউ দেখছে সেটাওতো সত্যিই হল টাকায় টাকায় চুমুক সামলাতে

দাদা আরেক কাপ দিন। এবার চিনি ছাড়া।

একটা সিগারেট শুধু পুকুরটাকেই দেখতে পাচ্ছে তখনো। আর ওরা যে যার মতো সত্যি হয়ে চলে গেল খাতার সীমানা ছাড়িয়ে।
পৃষ্ঠা ওল্টালেও বন্ধ দরজাটা সুইচ-অফ করে কিপ্যাডের পাশেই লিখে রাখছে

ওলটানো গ্লাসের সোজা করে রাখার কসরতগুলি

যেভাবে ভরে ভরে ওঠা বন্ধ কানের জন্য না পাওয়া চশমার জন্য

আসলে ভুলে যাওয়ার জন্যই এতসব মিথ্যে হয়ে যাওয়া। আর কেউ কেউ পাড়ায় ফিরে এলে সত্যি হয়ে ওঠা।
ব্রেকের পর…পারদের মাত্রা শেখানো

ছবিটার শিরোনাম দিতে পারলাম না।

কাল বিকেলে আবার দেখা হলে একটু জানিও আমাদের পাড়াটা আবার সত্যিই তোমার নিজের হল কিনা?

দুই।।

নয়াহাটের ঝোলাবাবু……

রোদের ঠিকানায় যাচ্ছে শহর। আর অসুখ থাকবে চেনা আঁচলে। সেই রেলগেটটা পেরোলেই একজন সব্জিওয়ালা রোজ সন্ধ্যায় বসে থাকে চশমা পড়া মানুষটার জন্য। আর লাইন পেরোতে পেরোতে তিনিও তাকান জ্বলে থাকা আলোটার দিকে। পাল্লা থেকে পাল্লা আরো ভারি হতে উঠলো। সাথে তাকিয়ে থাকা হিসেব নিকেশ আর আমার শহরের একলা শরীর।

লেনদেন শেষ হলে একটা সিগারেট আবার। টানতে টানতে সেই খাটা পায়খানার আখ্যান। জ্বল জ্বল করে উঠছে চোখ। সামান্য হাসিও। আরেকটু পাশাপাশি হেঁটে এবার পানের বোটাটাকে ডানদিকে ঘুরিয়ে দিতে হবে। ঠিক তখনই ঝোলা থেকে বেরোবে রাত্তির। সব্জিওয়ালাই বাকিটা জানে আর বলে দেয়। ওই নানা রং এর ঝোলাওয়ালা লোকটাতো। আরে ওনার নাম বিজয়দা। ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন। এখন রিটায়ার। আর আমার খদ্দের সেই নয়াহাট থেকে। কবিতা লেখেন কিনা জানি না। তবে কথা কম বলেন। আর হাঁটেন খুব। ইদানীং একটা ছেলেরে দেখি ওনার সঙ্গে মাঝে মাঝে। ওইটারেও কেমন যেন লাগে। খালি আমারে দেখে আর বিজয়দার সাথে চইলা যায়। কোথায় যায় কইতে পারুম না। আপনি বিজয়দারে এখন বাড়িতেই পাইবেন। এইতো সবজি লইয়া গেল গিয়া।
আমার বউ মাঝে মাঝে কিন্তু কয় আমারে…বিজয়দা কিন্তু ভাল গান জানে। আর ছেলেটারে কীসব লেখার কথাও কইছিলো…হ্যাঁ মনে পড়ছে। খাটা পায়খানা নিয়া নাকি কী একটা লিখসে। ছেলেটারে পরে শুনাইবো।

রেললাইনে আবার রোদ্দুর এসে পড়েছে। সকালের ট্রেনটাও চলে গেল কিছু জানার আগে। অসুখের আঁচল তখনো নিদ্রামগ্ন। এইতো ঠিকানা পানপাড়া। এখানেই থাকেন কাঠুরিয়া আন্তর্জাতিক।

যে বাউলের ঝোলা থেকে আপাতত আমার হাতে এলো ভালবাসার লোকাল কমিটি।

তিন।।

টকিজ থেকে তোমাকে চাই……

সেবা আর সদন নিয়ে মুখোমুখি আমার যেদিকে সেখানে রাখা আছে কিনে আনা জলের বোতল আর জানালার দুইপার।
প্রশ্ন এলো, এত হৃদয়বাণ হঠাৎ কিহেতু ? কিবা হেতু তুমি আজ এতো আস্তে ধীরে নেমে যাচ্ছ গ্লাসকে খালি করে?

মনে করে দেখ হাট বসেছে শুক্রবারে। বিস্তর জমিন আজো ডাকছে ক্রেতাদের। হয়তো আরেকটু বাদেই শ্যামলও আসবে পোড়া খাওয়ার জন্য বেগুন কিনতে। আর সেই অছিলায় শুধু তোমার চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝে উঠতে পারি কাল রাতে যা যা হয়েছিল বা হবার কথা ছিল সেখানে আপাতত আর প্রেক্ষাপটের কোন কৈফিয়ত নেই। নেই বিজয়দার চশমা পৌঁছে দেবার বাহানাও।

কবি কেন সপ্তাহের হয় না।
আর বউ কেন রোজকার।
এসব প্রশ্নের যারা কারিগর তাদেরকে আমি দেখি নি কোনোদিন।

একটা গান চালানো যাক মোবাইলে। আর ওটাকে রাখা যাক ওয়াশিং মেশিনের ঢাকনাটার ওপর।
আজকাল কী সহজে তুমি গ্লাস আর জল এগিয়ে দাও।
কী সুন্দর করে বলে দিতে পার তফাতটা।
তবু আমিতো আমিই থেকে গেলাম এই নামের সাথে। মিশে থাকার সাথে কোন বাহানা ছাড়া।

পাড়ার কুকুর পরিবারের প্রেমালাপ শুরু হল। শুরু হল লড়াই শরীরের জন্য। একটু ঘুমের জন্য।

আমি কবে রিটায়ার করবো বিজয়দা। কবে আমার এই রকম চেহারা আসবে ফিরে দেখার।
জানি তুমি সেদিন এসব ভাবো নি। তুমি জানো না যখন তোমার বাড়ির সামনে দিয়ে চলে যাই
এপাড়ার সব মানুষজন ঘুমিয়ে থাকে বিছানায়। সবাই লিখে রাখতে চায় তারিখ কবে এবার শীত আসবে একটাই কম্বলে।

চার ।।

লাল রং এর উত্তাপ……

জলের নোনতা খুলছে বা ভাঙছে যাই বলি না কেন দূরে কেউ তার উৎসাহ রেখেছে এখনো।
এবার প্যাসেজ থেকে ক্রমশ ব্যালকনি হয়ে ওঠা আলো আমাকেই দেখতে পাচ্ছে।
আর খানিকটা মনের অভ্যাস। রঙের দিকে যদি তাকাই আর কিইবা থাকে লাল ছাড়া।
লালের প্রভূত এইসব নড়ে ওঠার আশা
দূরে কোথাও না সদ্য বৃষ্টি বসিয়ে চোখের হাত ধরলো।

অবশ্যই অচেনা রাস্তা আর ঘামের পাহারায় সেই পায়রাটাই রোয়ানো ইচ্ছে টাঙিয়ে।
আর শিশিরের আজকাল ঘুমোবার কোনও চেয়ে থাকা নেই। সব দখল করেছে বোবা কুয়াশারা।
যে ছাপা কাগজটা এখনো আঁচড়ের পাশে পড়ে আছে তার চুপসে যাওয়া শব্দে আমি দেখতে পাচ্ছি
পাঠানো ঝিনুক থেকে বেছে রাখা মন খারাপ। আর ঝাউবনের লুকোনো নৌকোকে।

ঘুড়ি উড়লেও

কেউ আমার ক্যানভাসে ঝাঁপিয়ে পড়ে নি কাল রাতে ।
কেউ দুপুর জানাবে বলে আর সন্ধ্যায় তাকালো না পশ্চিমের ছাড়ানো খোসায়।
যখন জামাটার বোতাম হারিয়েছে জিভের এইপার থেকে নেমে যাওয়া
সূঁচ আর তালুর বিরতি নিয়ে।

নোনা শিস্‌ খেলে পাখিটা আবার উড়ে গেল গল্পের দিকে।
ওরা তখনো ঘুমিয়েই আছে ব্রীজের কোলে মাথা রেখে।

আমার গ্লাসের শেষ লালটাকেই চিনতে চিনতে।