অমিতাভ প্রহরাজ-এর কবিতা

Spread This
Amitava Praharaj

অমিতাভ প্রহরাজ

এক ব্যক্তিগত গড়নের বাচ্চা বাচ্চা লেখা
 
 
এখন রাত্রি, টগর নেমেছে বাইরে… বৃষ্টির ভাগফল পড়েই চলেছে….
 
প্রয়োজন এক ভেগ শব্দ… তোর নিজেকে প্রয়োজন খালি… হ্যাঁ.. এক ওপারের প্রয়োজন হয়, নাহলে অপারের বোধ আসেনা…
 
আজ এই রাত্তিরে বড়ো মহা উপলব্ধি হলো এক… হয়তো তুই বেঁচে গেলি তার জন্য… দুঃখ পেরিয়ে যাওয়ার অনুভূতি এক অসীম…
 
প্রকৃত আমি চিরকালই একা ছিলাম… কেউই ছিলোনা… ভাবতাম আছে… ভাবতাম.. ভাবতাম ভাবতাম… কিন্তু কে ছিলো?? যখন লিখতে বসতাম রাত্তিরে, গ্রিলে তালা দেওয়া… তালা খুলে নামতাম উঠোনে… কে থাকতো… আমি ভাবতাম খালি… বস্তুত একটা ভাবনা ও একটা সাইকেল ছাড়া আমার কেউ ছিলোনা… ওসব মায়া হয়ে যায়… মায়াবতী রূপ নামে… আমি কথা বলি, গুনগুন করি… চাঁদ ঝুঁকে আসে…
 
আমি চাঁদ পেরিয়ে চলে যাই… নক্ষত্রের কথা লেখার কথা ছিলো আমার..  কথা ছিলো আলোর কথা খোঁজার… আর আমি কিনা দ্বৈত অদ্বৈত দ্বন্দ্বে মাটিপোঁতা হয়ে যাচ্ছিলুম…
 
আজকে ভেজাজোছনের দিন… তোকে জ্বালানোর পালা শেষ… অল্প বিষাদ হচ্ছে বটে… কিন্তু অতিক্রমণের গন্ধ গাঢ় হয়ে আসছে… তুইও চাস না, আমি জানি…
 
এমন ধাক্কা পরম্পরার শেষে হৃদযক্ষ্মার কথা মনে পড়ে… মনে পড়ে অতুল্য ভূগোলে আমি কেমন নির্নিমেষ ক্ষুদ্র কুঞ্চনের মতো কাঁপি..
 
কিছু নেই… কেউ ছিলোনা আমার… কোনোদিনও… ও এক অভ্যেস, ও এক প্রণীত মায়া… স্নেহ ভেঙে পড়ে… আকুলের দরিয়া দোদুল… স্নেহ নেমে যায়…
 
তুই আছিস সেখানে? কে জানে কে জন…
 
 
নিষ্ঠুরতার একটি বাচ্চা বাচ্চা লেখা-
_____________________________
 
তুমি যে নিষ্ঠুরতা করলে গ্রহতারাচাঁদ, তাকে বোঝাতে গেলে আঙুল থেঁতলে দিতে হয়। ধরো প্যাস্টেলে একটা বাচ্চা নদী আঁকছে, বাঘ আঁকছে, তুমি তার হাত থেকে প্যাস্টেল কেড়ে ছুঁড়ে দিলে। আঙুলটা নিলে, মুড়তেই মট করে ভেঙে গেল। শানবাঁধানো ঘাটে রাখলে, আর একটা বড় পাথর দিয়ে ঠুকলে। অল্প অল্প থেঁতো হচ্ছে। মাংস ছেতরে গেল, রক্ত কলকল, তারপর কচি, কী কচি জুঁইফুল রঙের হাড়। তুমি আনমন, পুকুরে মাছরাঙা দেখতে দেখতে, শাপলাতালুকের গন্ধ নিতে নিতে,  হুমলুপুচুম হবিষ্যির কথা ভাবতে ভাবতে, দ্রিমিকি চাঁদের জল বুকভরে নিতে নিতে, অন্যমনস্ক কাপড় কাচার মতো পাথর থুপিয়েই চলেছো ও আঙুলে। কী জুঁইফুল হাড়, তাতে আছড়ে পড়লো থপাস বড়ো নুড়ি, ছিটকে ছেতরে গেল, হাড়ের ভেতর ডিপ পার্পল রঙের মজ্জা থাকে তুমি জানতেও পারলেনা। তুমি দেখছো কী অদ্ভুত জোনাকি পদ্মপাতায়, তুমি বুঝছো নিজের নাভির পাশে পদ্মকাঁটা।
 
আঙুল শেষ হয়ে গেল.. উঠে আসার আগে তুমি একটা গাছ লাগালে তার ওপর। গাছ হলো। পাতা হলো। ফুল হলো। উসুম কুসুম ফুল। হাওয়া দিচ্ছে ওই দেখো হুহু করে গাছ ডাকছে তোমাকে, ফুল ডাকছে, পাতা ডাকছে