অনিমিখ পাত্র-র অনুবাদ

Spread This

অনিমিখ পাত্র

সান কিয়ান-এর কবিতা
মূল চাইনিজ থেকে ইংরাজি ভাষান্তর : ইন শিয়াওজুয়ায়েন 
বাংলা অনুবাদ : অনিমিখ পাত্র
 
 
কবি পরিচিতি : সান কিয়ান এর জন্ম ১৯৫০-এর দশকে চিনের শাংশি প্রদেশে। তিনি একজন হুই ইসলামিক কবি এবং ফ্রিলান্স লেখক। তিন দশকেরও অধিক সময় ধরে তিনি তিনটি ধারাকে মিলিয়েমিশিয়ে কাব্যরচনায় ব্রতী আছেন: নব্য-ক্লাসিক, ইসলামিক ও শৈল্পিক কবিতা। তাঁর কাব্যসংকলনের মধ্যে আছে The New Rubáiyát, The Muslim Poems, The Book of Realms  ইত্যাদি। বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। 
এই ‘নতুন রুবাইয়াৎ’ একটি দীর্ঘ লেখা। পুরো লেখাটিকেই সুর করে গাওয়ার চল রয়েছে। সেখান থেকে এই কয়েকটি অংশ অনুবাদের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। মূল লেখার অন্ত্যমিল ও গীতিবৈশিষ্ট্যকে যথাসম্ভব রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। 
 
চাইনিজ অনুবাদক ইন শিয়াওজুয়ায়েন নিজে একজন গুরুত্বপূর্ণ বহুভাষিক কবি, অনুবাদক এবং পর্বতাভিযাত্রী। তিনি চিনের সমসাময়িক কবিতায় ‘এনসাইক্লোপিডিক স্কুল অফ পোয়েট্রি’র প্রতিষ্ঠা করেছেন। 
 
*ইতালি থেকে প্রকাশিত The Dreaming Machine সাহিত্যজার্নালের অনুমতিসাপেক্ষে, কবি-সম্পাদক পিনা পিক্কোলো এবং কবি-অনুবাদক ইন শিয়াওজুয়ায়েন-এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই অনুবাদটি নির্মিত হল। 
 
 
 
 
 
নতুন রুবাইয়াৎ
 
১।
নির্জন পথিকের এই চতুষ্পদীগুলি
পড়ন্ত বেলার কোনো সাম্রাজ্যে অভিষেকের জন্য মোটে নয়
যেন এক নীল-সাদা পোর্সেলিন ভাসে ওই দ্যুতি আর প্রতিবিম্বগুলি
শীতের দিগন্তকে শান্তভাবে করছে খুব উজ্জ্বলতাময়
 
২।
ছোটো শব্দ ধরতে গিয়ে তুমি এক অসম্ভবকে ধরো
ধরো শক্ত করে আর তুমি পাও পোড়া দাগ ও নির্দেশাবলী 
গোলোকধাঁধার মতো চৌমাথার মোড়ে
তুমি তো ছড়াও শব্দ যাতে সুরভিত হয় তোমার নিজেরই বনস্থলী 
 
৩।
যেন বাড়ি মেরে ঠেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এক দঙ্গল পাথর
উহাদের মধ্যে খুব চিহ্ন ছেড়ে রেখে গেছে অভিঘাত সমুদ্র ঢেউয়ের
নরম শব্দেরা সেইখানে পেয়ে গেছে নিজ নিজ প্রতীকের রূপ
ধ্বংসাবশেষ যেন আবার জড়িয়ে ধরছে একটি সূর্যালোক বহু অতীতের 
 
৪।
জ্যোতিষ্কমণ্ডলী ঝিকিমিকি করতে করতে বিস্মৃতির অতলে হারায়
দুঃখের ব-দ্বীপ ধরে চুঁইয়ে চুঁইয়ে নামে
পুরনো গল্পের সরু সুতোটি আটকে আছে যেন ঠিক মনের ওপরে
হাল্কা বিমর্ষতা দিয়ে তাকে ঢেকে রেখে আগামীতে নিয়ে যাওয়া হয় 
 
 
 
৫।
পর্দাগুলি গোধূলির তুষারকণার, তার নীচে
শীতঘুম দিচ্ছে এক ক্লান্ত শহর
একটি বিবর্ণ আত্মা ভেতরে ভেতরে ঘোরে, ঠেকাতে পারে না
নিজের গভীরে এক স্ফটিকের জ্যোতি, গলে গিয়ে হয় খণ্ডহর 
 
 
৬।
বলা নেই কওয়া নেই আমন্ত্রণহীন আসে হঠাৎই তুষার
সুনীল সিন্দুক এক নরম হাতের মধ্যে দোলে
অকলঙ্ক শিশুদের হাত
নির্মলতার মধ্যে স্বর্গীয় সঙ্গীতদল সুরধুনী তোলে
 
 
৭।
স্বর্গের ব্যাপারগুলো
এক অতিসাধারণ আয়না থেকে ভাসে
কখনও বা তাজা ও মধুর
কখনও বা চটা ওঠা এবং ফ্যাকাশে 
 
 
 
 
৮।
‘শিখাকে সে বশ করে গোলাপ বানায়’
আর জলকে করে তোলে সুগন্ধিত ড্যাফোডিল এবং জুঁইয়ের
একপ্রকার অমরত্বের ইস্ট যেন বা সে 
অস্থায়ী মুহূর্ত যাকে আলো আর তাপ ঠিক ভরে দিতে অপারগ কানায় কানায়
সান কিয়ান
ইন শিয়াওজুয়ায়েন