ধীমান চক্রবর্তী-র কবিতা

Spread This

ধীমান চক্রবর্তী

ব্যক্তিগত-১২২
 
ছোট ছোট বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত মুখ। এক
‘মহিলা বিকেল’ ছিঁড়ে, উড়োজাহাজ গান গাওয়া
চাঁদ নামালো। অরুণ, বরুণ ও কিরণমালা নামালো।
সুতো দিয়ে জোড়া বিদ্যালয়, চকখড়ি মেখে আঁশবঁটি 
হয়। অনন্ত হয়।
নিঃশ্বাস না নিতে নিতে, হেডদিদিমনি ও আরশির
মুখ নীলচে হয়ে এলো, প্লাস্টিকে মুড়ে সরানো হচ্ছে
মৃতদেহগুলি। ‘সোমবার’- তার ব্লু-প্রিন্ট নামায়।
জুয়াবোর্ড এবং ড্রেসিংরুম নামায়।
স্কেচবুকে আঁকা স্বপ্নগুলো টেবলের উল্টোদিকে 
বসে। চুপচাপ। অল্প মাথা তুলে। আঁকতে গেলেই
এঁকে ফেলছে অন্ধকার,- তার আহ্লাদী সমুদ্র।
 
 
ব্যক্তিগত-১২৩
 
কোনো কোনো রাতে মাথার মধ্যে গুনগুন শুনিয়ে
পায়চারি করেন আমার মা। নাটমন্দিরে প্রাচীন আলো।
ফোঁটা ফোঁটা জল মাখে নিজের মুখে।
চশমায় প্রতিফলিত হয় না কিছুই। চুম্বক
আস্তে ধীরে ফুলদানিতে টেনে আনে হেমন্ত।
পরপর ওষুধ খেয়েও সমস্তরাত জেগে থাকি।
রাস্তাগুলো অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত।
আমার, তোমার, এই মহাবিশ্বের দ্বিতীয় পৃথিবী,-
কখনো তা দেখতে পায়।
বয়ামে রাখা গোল্ডফিস মাছটি
কখনো সখনো হয়তো দেখতে পায়,- কীভাবে
জল থেকে আলাদা করা হয় অন্ধকার। মৃত্যুর 
 উজ্জ্বল মুখ।