শান্তনু রায়-এর কবিতা

Spread This

শান্তনু রায়

যেখানে সে থাকলেও না থাকতে পারে
 
০১। গন্ধরাজ 
এ পাড়ায় আর কেউ পিট্টু খেলে না। পপুলার হাউস-এর ছাতে অ্যান্টেনার জঙ্গল সাফ হয়ে গেছে। আমাকে চড়ুইগুলো চিনতো। পাড়া ছেড়েছি ১৫ বছর। মানুষ কাউকে মনে পড়ে না। আজ এতদিন পর আচমকাই মনে এল গন্ধরাজ গাছটার কথা। গ্যারেজঘরে ভর দিয়ে বেড়ে উঠেছিল। অনেক বিকেল। আমরা ওকে ফেলে রেখে চলে এলাম। প্রোমোটার লোক দিয়ে কুপিয়ে  কুপিয়ে……..। ১৫ বছর পর ও আমার সঙ্গে কথা বললো।
 
০২। গ্লোসাইন
 
ঐ মাংসের মেঘ
যেখানে সম্ভাব্য কোথাও আছে মন
আমি কি খুঁজছি 
যাদের শরীর ভেঙে চলে ফেরে রাত
ঘুমন্তের ওপর টুপটাপ রক্তফোঁটারা 
ভোর নীল চিৎকার 
শহর তরলসঙ্গীত
এই শহর আমার মাংস নিয়েছে
আর আমি নিয়েছি তার সব স্টিল
স্টিল আর কংক্রিটের নীলহাড়নকশা
এখানে সম্ভাব্য কোথাও আছে মন
আমি কি খুঁজছি
বাতিল মানুষদের ওজনদরে বিক্রির দোকান
রঙচটা চিলেকোঠার চোখের জল জমে ফুটপাতে
 
০৩। সাদা
 
গড়িয়ে যায় দুপুরগুলো রঙবেরঙ ধুলো ঝরে আমাদের ঘরে
তোমার চুমুর স্বাদ মনে পড়লে আমি একটা সিগারেট ধরাই
আমি একটা চিঠি বা বয়ান যার কপালে লেখা
To whom it may concern সেরকম কেউ নেই এ শহরে
কিন্তু এইসব বেঁটে লম্বা ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাট আমাকে ভাবায়
ঘুমের পাশে জেগে থাকে মেঘ ও বিকার
নিজের শরীরে গাঢ় হয়ে থাকতে থাকতে একা
ইচ্ছে করে তোমার খালি ফ্ল্যাটে হেঁটে চলে বেড়াই
তোমাকে অন্ধকারে ফিরিয়ে নিতে এসেছি
আমরা থাকবো নির্বিকার ফুটপাত শ্যাওলা ধরা
কার্নিশে  সাবওয়ের দেয়ালে দেয়ালে 
ঠান্ডা আগুন আর অক্ষরে চেয়ে থাকবো ঠায়
যখন বৃষ্টি ঠিকরে ওঠে পাড়ার গলিতে
আর বৃষ্টিফোঁটারা সময় পাড়ি দেয়
সে কষ্টে ছিল তাই সাদা