জয়শীলা গুহ বাগচী-র কবিতা

Spread This

জয়শীলা গুহ বাগচী

৮ই জুলাই
 
আমার কি কিছু লেখার আছে? কিছু গল্পের লাইনে উড়ন্ত ম্যাজিশিয়ান দেখার আছে? সূক্ষ্ম হাতের কাজের ভেতর অতিমারির মোটা দাগের রাত। গ্লাভসের গন্ধ ছেয়ে যায় ঢিমে তালের মাংসে। আমি ফুসফুস থেকে হরপ্পা বরাবর একটি রাস্তা খুঁজে ফেলি । খুঁজে নিই কিছু অনাবিষ্কৃত । মানুষ থেকে মানুষে যাবার সুড়ঙ্গ পথ। এইসব পথে যেসব লিপি আছে, যেসব গান আছে… তার মধ্যে কোথাও ওষুধ আছে জানি। আমাদের নিরাময় বারান্দা, নিরাময় আকাশকে জীবন্ত তুলির মতো দেখায়। সেইজন্য শিলালিপির শেষে ফাঁকা স্থানে চোখ রাখি। কী লেখা হবে… কী হবে… কী… কী নয়… এইসব জানার আছে , আমার কি কিছু জানার আছে? এত বেশি বৃষ্টি হতে থাকে । এত বেশি কবিতা দেখা যায়… পড়া না পড়া কবিতার সিঙ্গল ফ্রেম, কবিতার নিঃসঙ্গ বই… ওখানে ক্যাওসেরও একটা প্রেজেনটেশন আছে। মৃত্যুকে মিউজিয়ামের চেয়ে বড় দেখায়। অতিমারি দালির ছবি যেন। এইসব দৃশ্য জুড়ে একটা চেতনা প্রবাহ, একটা আঙ্গুলের শক্ত হয়ে ওঠা , বিস্বাদ মাংস মনে হতে পারে। আমি বরং বলি , এত দূরে যাব না কবিতা… তার চেয়ে এমব্রয়ডারির ফ্রেমে বানিয়ে তুলবো কিছু প্রোটিন আর স্বপ্নের ক্যান্ডি। ইমেজারিতে আজকাল ভিটামিন সি ও জিঙ্কের ট্যাবলেট। লিপস্টিক মুছে জ্যান্ত ঠোঁট রাখছি খবরাখবরে। সিপ দিচ্ছি মুখোশের ধোঁয়ায় ।                                                        
 
 
 
১৩ই জুলাই
 
 
কোথাও শুনতে পাচ্ছি শাওন গহন থেকে মেঘ নামছে দ্রুত… এই পর্যন্ত ভাবার পর আমি নামক চেতনাটি কপালে মঞ্জীর বেঁধে নেয়। যখনই একটা করে শব্দ গড়িয়ে পড়ে কবিতার গায়ে, তখনই ঘনঘোর তথাগতর ভেতর শব্দ ওঠে… ঝুম। তথাগত তাড়াতাড়ি কলম তুলে ধ্যান লেখেন । ধ্যানের ভেতর নির্বাণ লিখতে গিয়েই আর একটি শব্দ খসে পড়ে । কবিতা খুব মনোযোগ দিয়ে তাকে নেড়ে চেড়ে দেখে। তার ভেতর কতটা মেঘ , কতটা হাওয়া বাতাস, কতটা তথাগত, কতটা লোভ আছে তা দেখা যায় কিনা খোঁজে । কে যে কী খোঁজে পথে বিপথে … সেসব অন্ধবিশ্বাস কতই বা জিজ্ঞেস করা যায়? তার চেয়ে আমি যদি অস্ত্বিত্ব ঘিরে ঘিরে একটি মাধবফুল রাখি তাতে কারই বা কী? অথবা ধরা যাক রাধার দ্বৈত ভাবের ভেতর একটি অদৃশ্য ব্ল্যাকহোল রাখা হল। এসব প্যারাগ্রাফ তোমার ধূসরে যদি মাধুরী না জোটায় তবে তোমার সমভাবকে আমি গড় করি। কিন্তু কী জানো? আমি কিছুতেই তোমার সম হবো না। বরং তোমার পাপড়ি হবো, তোমার বিধি নিষেধ হবো, তোমার আচন্ডাল রাগের মধ্যে ছোট্ট স্মাইলিও হতে পারি। এসব কথা রেডবুককে বলো না কখনোও। তুমি তো শেষ পর্যন্ত আমাকে “কিছু না” বলে গাল দেবে। আমি সেদিন বিকেলে পদাবলি খোঁপায় বেঁধে পোস্টম্যানকে বলবো আধুনিক চিঠি এনে দিতে। কত কী শেখার আছে বলো? যেদিন আমার গা থেকে একটা আস্ত ঘড়ি জন্মেছিল সেদিন তোমরা কী সুরে যে বাঁশি বাজালে … । আমি আমার বাস্তব ছেড়ে মাধবের ডাইমেনশনে পা রাখলাম। আহা সে কী কবিতা গো… । সে শুধু অন্তরের শব্দ লেখে । ক্রিয়াপদ জুড়ে কত ব্রহ্মান্ড, কত বিশ্বাস অবিশ্বাসের গল্প লেখে। কত যে গাগরির বারি … কত যে গালিব … পেছল পথ … কত মঞ্জীর… কত তনহাই… কৃষ্ণ গহ্বরের মায়া…