প্রণব পাল-এর কবিতা

Spread This

প্রণব পাল

১.আইড্রপ
 
পুতুল নাচাচ্ছে আইড্রপ। প্যাকেটের ওপর নেমে আসে চোখের জল। নাচের তালে কাঁপা মানচিত্র দোলায় ভূগোলের বায়োগ্রাফি।দুহাত তুলে স্ট্যাচুরা দাঁড়িয়ে পড়ে মাঝ রাস্তায় আর খুব বৃষ্টি হয় ভিতরে।অর্থ একটা দুমুখো সাপের হিসহিস।কেবল দুলতে থাকে আর মাতালের নেশায় ছাল চামড়া সমেত ডমরু বাজায় সাপুড়ের দোনলা বাঁশি। নিশ্বাস তখন ঘরে বাইরে দুদিকেই ডানা খুলছে। অক্ষর থেকে নেমে আসা বিষ ছড়িয়ে যাচ্ছে সবুজ শরীরে।নিসর্গ টলছে মাতালের পায়ে। ক্যালেন্ডারে টাঙানো বারদুয়ারি আলতো নেমে আসে সরীসৃপ মেঝের মসৃণ চামড়ায়।একটা ঢুলু চোখ আমাকে ভেদ করে চলে যায় সূর্যাস্তের দিকে।সূর্য তখন অ্যালার্ম বাজাচ্ছে আগ্নেয় শাড়ির লাল আভান্তে। চৌরাস্তা গুটিয়ে নিচ্ছে তার ছায়া ও চিৎকার।অন্ধকারের মাই টানছে টবের শৈশব,ঘুম পড়ছে গাছের পাতায়। মেতে ওঠা অন্ধ ইস্কুল দরজার পাল্লা খুলে ডাকছে পৃথিবীর যাবতীয় বেহালা ও অক্ষরমালাকে।
                                  —————————————-
 
 ২.ক্রুশকাঠি
 
দুধজলের পাড় বাঁধানো নদী। একটা অক্ষর স্টার্টারে হাত দিল। কালিতে আঁকা ল্যান্ডস্কেপ নেমে পড়ে। আমাকে খুলতে থাকে। ভিতরে কে যেন ফিসফিস বলছে।আয়নায় দেখা জলছবিরা লেপ্টে যায় শূন্য হাওয়ায়।মগজের প্রিন্টআউট বসে আমাকে বাজাতে বাজাতে।কেউ কাউকে চিনতে পারেনা শুধু ঠিকানা ঝুলিয়ে বসে থাকে অন্ধকার বেলা। চলো তবে সিকগাড়ি হাতে খেলে উঠি উলঙ্গ ছেলেটার সাথে।চিচিংফাঁক নয় আলিবাবার জোব্বায় খুঁজি ঠিকঠাক মানুষের মুখ। চতুর্দিকে কালিঝুলি মেখে রং করা পুতুল খেলছে জুয়া।পাতকো জুড়ে ভাঁটিখানার রস। পোশাক বদলের দেশ এখন সার্কাস তাঁবুর খোঁয়াড়। বেশ্যা আর হিজড়ের গাঁটছড়ায় এগিয়ে যাচ্ছে তুফানমেইল। একটা সভ্যতা ঘুমিয়ে আছে আঙুলের কারখানায়। অনর্গল এই এলোপাতাড়ি ছবির চিৎকারে নাচতে থাকে বলপেন। আমাকে বাজি রেখে কারা রোদ ফোটাচ্ছে ক্রুশকাঠির গায়। পাসপোর্ট হারানো হাত খুঁজছে নিজের পরিচয় আর একটা যুগ অস্ত যাচ্ছে হার্মাদের পেটে। গণতন্ত্র জন্মাচ্ছে আলাভোলা ছাতিম গাছের নিচে। গিটারে জন্মদিন বাজতে বাজতে ঘুমিয়ে পড়ছে হাল্লা রাজার শান্ত তল্লাট।