কৌশিক চক্রবর্তী-র কবিতা

Spread This

কৌশিক চক্রবর্তী

পারাপার 
 
 
যাওয়ার চেনাচেনা নরম পথ ফেরার সময়ে আর চিনতে পারি না। রোদ্দুরে তখন আর মাখন নেই। 
কেবল কেরোসিনের মৌন দুঃখ মেখে থাকে সেইসব অগোছালো রাস্তায় …
 
জানলাগুলোয় ঝুপ করে লেগে যায় এলানো সন্ধে। অভিমান দাঁড়িয়ে ছায়া ছায়া বারান্দায়
আর ছাদের আড়ালে চুপকথা চুল খুলে দিলে 
মনকেমনের খাম থেকে একে একে নেমে আসে কয়েকটা বিষণ্ণ জন্মদিন
 
লজেন্স রঙের চিঠি নিয়ে কারা যেন বেরিয়ে পড়েছিল সকাল থেকেই –
অমলতাসের বারান্দায় আজও তাদের গাড়ি এসে পৌঁছয়নি।
 
এই শহরের সবকটা বুড়ো সেতু ভাঙা পড়ছে –
 
চাইলেও, এপারের অসুখ 
আর ওপারের কান্না চেপে রাখার
ছুঁয়ে দেওয়া বারণ
 
 
 
 
অপার
 
কত করে ডাকলাম – সাড়া নেই
 
হয়ত শুনতে পাচ্ছ না
 
হয়ত – চুপ করে শুনতে চাইছ গোলাপি রুমালের গল্প
 
এই যে হারিয়ে যেতে চাওয়ার নেপথ্যে একটা গান হয়ে গাছতলায় অপেক্ষা করছে একজন
এই যে উল্টোদিকের ফুটপাথে বৃষ্টি নামল আচমকা –
ওরা সবাই ডাকছে – সেইখানে –
সিঁড়ি ভাঙার আবহাওয়ায় যেখানে সন্ধে হওয়াগুলো মিশে যায় 
পুরোনো গানের সাদাকালোয়
 
আজ মাঝরাতে ফোনের এপার থেকে ওইপারে
কথা শুনতে পাচ্ছি না কেউ –
 
কেবল হিস্‌হিস্‌ শব্দে টের পাচ্ছি
গোপন বুকপকেট থেকে উঁকি দেওয়া
অনেক কথা জমানো – আমাদের চেনা দীর্ঘশ্বাসগুলো …