প্রীতম বসাক-এর কবিতা

Spread This

প্রীতম বসাক

হে সামান্য জীবন
 
১.
 
আগেও বলেছি আমার ভূমিকা বিদূষকের। আমার ভূমিকা আম কুড়োতে কুড়োতে প্রজাপতির দিকে তাকিয়ে থাকা অবাকের।শিল্প আর যাদের জন্য হোক আমার জন্য ভাত রেঁধে দেয় যে মাহুত আমি তার দরগায় চাদর বিছিয়ে দেওয়া নশ্বর। মুঠোর ভেতর থেকে আমলকী ছড়িয়ে দিতে দিতে যে মানুষ পাগল দিয়ে নিজেকে গুণ করে আমি তার দোহার। আমি তার সহজ। ওই যে বাবা-পাখি চলে যাচ্ছে শূন্য ঠেলতে ঠেলতে আমি সেই অসীম ফুলের মধুর । যে কৃষক তার মেধাময় চুম্বন রাখে মাটিতে আমি তার অশ্রু আমি তার লিঙ্গে লেগে থাকা বিভূতিভূষণ। তুমি যে শ্রম মুখে তুলে নাও আমি তার ঘামের মেশিন। 
 
২.
 
কেমন গাছ পেলে বেজে ওঠে জলের হেমন্ত ! কার্তিকে ঝরে যায় ফসলের পয়োধর। আমি জেগে উঠে দেখি পেটের দাগে মাটি লাগাচ্ছে পাখিরা। আর আলোয় ফেটে যাচ্ছে করুণ বটফল। বলি জন্মে কি মেধা থাকে ? শব্দ হয় রোজা ভাঙার ! কিন্তু আমার নমাজ গুলিয়ে যায়। প্রার্থনা বাক্যের পাশে এসে দাঁড়ায় মধুর বিভ্রম । সকালের নরম হতে চেয়ে পাখি শিখি ! অথচ জলের কাছে গিয়ে আমার আর সৌজন্যে ফেরার কথা মনে থাকে না। 
 
 
৩.
 
গাছে গাছে মুর্খ টাঙিয়ে রাখি। একটি সম্বোধন বাক্যের জন্য হেঁটে যাই। দেখি জল থেকে ঝরে যায় জলের সহজ ! আঙুরের বনে আমি ফেলে এসেছি আমার শৃগাল। একটা জন্মসমগ্রের সামনে বসে আছে বহুমুখী বিষাদ। আমি তার নাম দিয়েছি ছাই। পিছল উপমাগুলোকে ওই ভস্ম মাখিয়ে চেষ্টা করেছিলাম মাছ কাটার। সেই সব হলুদপোড়া গল্প দিয়ে তৈরি আমার জামার মর্যাদা। কে নেবে হাত তোল? 
 
 
৪.
 
আমি কি পাখিলগ্নে জন্মেছিলাম ! কেননা মাঝরাতে আমার হাতদুটো মহাকাশ হয়ে আসে। টাটিয়ে উঠে জীবনবৃত্তান্ত। ওই যে আমাকে নিয়ে ভূমিকা লিখছেন তৃতীয় সন্তানের জননী। জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে রুটি। অথচ আমি কিছুই লিখিনি তার পরমায়ু! শুধু মাই চিবোতে চিবোতে আমার মধ্যে পাখি এসে বসেছিল কত অন্ধকার আগে সেই স্মৃতি হাঁ করে আছে। তার ভেতর কে যেন লিখে রাখছে হাড়ের বিপর্যয়।        
 
 
৫.
 
তবু জীবনের কাছে ঋণের দরখাস্ত জমা দিই। একটা সাইকেল মেরামতের দোকান করবো। লিক সারাবো বিরহী মানুষের। লুব্রিকেন্ট ঢেলে দিবো গাছের গোড়ালিতে । সুযোগ পেলে ধারের টাকায় ঘুম কিনবো। অনাথ দূরত্ব পর্যন্ত লিফট দিবো স্নেহময়কে। সহজ কিস্তিতে শোধ করে দিবো আমাদের সামান্য জীবন। হে জীবন!