শুভঙ্কর দাশ-এর অনুবাদ

Spread This
Subhankar Das

শুভঙ্কর দাশ

ব্ল্যাক স্প্যারোর জন মার্টিনের প্ররোচনায় এবং মাসিক আর্থিক সাহায্যে বুকাওস্কি ১৯৭০-এ তাঁর পোস্ট অফিসের চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি লেখায় মন দেন। তখনই যাতে বাজারি অ্যাডাল্ট ম্যাগাজিনগুলোতে লেখা দিয়ে টাকা পাওয়া যায় তাই তখন লেখায় শুরু হয়েছিল যৌনতা আর ভায়োলেন্সের ছড়াছড়ি। তিনি জেনেশুনেই এসব করেছিলেন। অথচ তাঁর লেখা ওই ধরণের লেখার মতো ক্লিশে হয়ে যায়নি। ভাস্কর, কবি, লেখক এবং এক সময়ের জীবনসঙ্গিনী লিন্ডা কিং একটা কবিতায় লিখেছিলেন, বুকাওস্কি আসলে গল্প লেখেন না, জীবন লেখেন। জীবনের এই ইতিহাস লেখার প্রবণতা তার লেখাকে অলগ করেছে।

বুকাওস্কি কখনো গল্প লিখেছেন কখনো কবিতা লিখেছেন। এসব ছাড়াও যখন প্রবন্ধে হাত দিয়েছেন তা বেশির ভাগ সময়ই সাহিত্যের বিষয়ে বিতর্ক মূলক রচনা বা সওয়াল নিয়ে। নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছেন আমেরিকান কবিতার ইমেজিস্ট, কনফেশানাল, অবজেক্টিভিস্ট, ব্ল্যাক মাউন্টেন, ডিপ ইমেজ স্কুলগুলোর থেকে আলাদা এক অবস্থানে।

তিনি বলেছিলেন – ‘ভগবান আমার সহায় হয়েছেন। তারা আমাকে ঠিক জায়গায় রেখেছেন। আমাকে এ জীবনটা বাঁচতে সাহায্য করেছেন। আমার পক্ষে এটা খুবই কঠিন ছিল, স্লটার হাউস বা ফ্যাক্টরি থেকে বেরিয়ে বাড়িতে এসে সেই কবিতা লেখা যা আদৌ আমি বলতে চাই না। আর অনেক লোকেই সেইসব লেখা লেখে যা আসলে তারা মন থেকে লিখতে চায় না। আমিও করি তা মাঝেমধ্যে। কিন্তু এই কঠিন জীবন জন্ম দিয়েছিল ওই কঠিন লাইনগুলোর। কঠিন জীবন বলতে আমি বলতে চাইছি সেই সব লাইনের কথা যার গায়ে গয়নাগাটি জড়ানো নেই’। তিনি আসলে বিশ্বাস করতেন চার্লস পেগুর সেই কথাগুলো, ‘একটা শব্দ সমস্ত লেখকের কাছে সমান নয়। একজন যেটা ছিঁড়ে বার করছে তার নাড়িভুঁড়ি থেকে তা আরেকজন বার করছে তার কোটের পকেট থেকে’।

বুকাওস্কির লেখা শুধু যে আত্মজীবনীমূলক, হইচইপূর্ণ এমনও নয় ষাট দশকের কাউন্টার কালচারের নথিও বটে। গ্রেগরি করসোকে নিয়ে আগে ওভাবে ভালোবেসে কেউ লেখেনি। যেভাবে তিনি জ্যাক মিসেলিনকে এক মজার ডিউক বানিয়ে লিখেছিলেন ‘নোটস অফ এ ডার্টি ওল্ড ম্যান’-এ।

বুকাওস্কির প্রিয় রং ছিল হলুদ। তবু তিনি ভালোবাসতেন জানালার খড়খড়ি বন্ধ করে দুপুর অবধি ঘুমোতে। সন্ধ্যে থেকে ভোর রাত অবধি চলত তাঁর লেখালিখি, রেডিয়োতে ক্ল্যাসিকাল চ্যানেলে বাখ, বেটোভেন, শুবার্ট শোনা আর বিয়ার খাওয়া।তিনি খুব ভালোবাসতেন ভারতীয় বিড়ি। জীবনের শেষ ২০-২৫টা বছর রাজস্থান থেকে যাওয়া ‘শের’ বিড়ি খেয়েছেন তিনি। যদিও তা তাঁকে ভারতে আসতে উদ্বুদ্ধ করেনি। লোকে বলে তিনি নাকি বিট জেনারেশনের। আর এই বিট জেনারেশনের অনেকেই শান্তির খোঁজে ভারতে এসেছেন বার বার, এ কথা তো আমরা জানি। জানাজানিই এ কথা। এমনকি গিন্সবার্গ বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন ভারত থেকে ফেরার পর এবং কবি বব রোজেনথাল আরও জানিয়েছিলেন যে, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে দাহ করা হয় এবং সেই ছাই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল পৃথিবীর নানা জায়গায়। এ ধরণের বিশ্বাস বুকাওস্কির ছিল না। তিনি ঈশ্বর বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি এভাবে ভেবেছেন – ‘বিশ্বাস জিনিসটা খারাপ না যাদের আছে, স্রেফ আমার ঘাড়ে তুলতে আসবেন না। কলের মিস্ত্রিকে ওই ভগবানের থেকেও বেশি বিশ্বাস করি আমি। ওই মিস্ত্রিগুলো দারুন ভালো কাজ করে। ন্যাড়গুলো যাতে ঠিকঠাক বয়ে যায় তার ব্যবস্থা করে’।

এরকম একটা মানুষ তাই আধিভৌতিক, আধিদৈবিক কোনও টানেই ভারতে আসতে চাননি। বরং আস্থা রেখেছেন মদে। তার কাছে মদ ছিল পৃথিবীর সেরা আবিষ্কার। কারণ আমাদের সমাজে অনেককেই যারা ভুল সময়ে, ভুল জায়গায় আটকে গেছেন তাদের এই মদ সুইসাইডের দিকে যেতে দেয়নি বরং আটকে রেখেছে। মদই সেই একমাত্র গান, নাচ যা তাঁদের জন্য পড়ে আছে এখনও। শেষ বাজার চালু সস্তা মিরাকেল।

বুকাওস্কি যে মদ খেতে ভালোবাসতেন, তা বলাই বাহুল্য। তিনি নিজেই বলেছেন সে কথা। এমনকি তাঁর সমস্ত লেখালিখি মদের নেশায় বুঁদ হয়ে সে কথাও তিনি বলেছেন। এক ধরণের বাওয়াল-বাজ পেঁচো মাতালের ইমেজ তিনি তৈরি করেছিলেন নিজে, নাকি তাঁর পাঠকদের এই ফেটিশ ভালো লাগতো বলেই এটা করতেন তিনি। কবিতা পাঠের আসরে বিয়ারের বোতল নিয়ে কবিতা পাঠ করতেন আর পাঠ চলাকালীন বিয়ার পান করতেন। যেন কবিতা পাঠের থেকে এইসব বেশি জরুরি। শ্রোতারা হই হই করে সেটাকে সমর্থন করতেন। পাঠকের এই উসকানি তাঁর ভালোই লাগতো বলতে হবে। কারণ কবিকে তাদেরই একজন বলে কল্পনা করতে সুবিধে হতো তখন। অথচ জীবনের শেষ দিকে যখন তিনি লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হন, তখন মদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাতে তাঁর লেখালিখির উপর কোনো চাপ পড়েনি। মদ না খেয়েই তিনি শেষ করেছেন তাঁর শেষ উপন্যাস ‘পাল্প’, লিখেছেন অজস্র কবিতা। যা তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। এখনও হয়ে চলেছে।

বুকাওস্কি জন্মেছিলেন আন্দেরনাখ, জার্মানিতে। তিন বছর বয়সে বাবা মা’র সাথে আমেরিকা চলে আসেন। বড় হয়ে ওঠেন লস অ্যাঞ্জেলিসে যেখানে তিনি জীবনের পঞ্চাশ বছর কাটিয়েছেন। জীবনে বহু রকমের কাজ করেছেন। পোস্ট অফিসের ক্লার্ক থেকে মুটেগিরি অবধি। কিন্তু কোনোটাতেই বেশিদিন টিকতে পারেন নি। তাই অনেক সময়ে অনাহারে কাটাতে হয়েছে। একটা ক্যান্ডিবার আর শুধু হাফ বোতল সস্তা ওয়াইন দিয়ে তিন-চারদিন কাটিয়ে দিয়েছেন মাঝে মধ্যেই। তবু শেষ অবধি স্কিড রোয়ে যেতে হয়নি তাকে। স্কিড রো হলো আমেরিকান বাস্তু হারাদের ঠিকানা। ফুটপাতে প্লাস্টিক ইত্যাদির ভিতর মাথা গোঁজার শেষ অবস্থান।

তিনি ছিলেন মূলত লিটল ম্যাগাজিনের লেখক। আমেরিকায় লেখক হিসেবে কেউ পাত্তা দিত না। ইয়োরোপ কিন্তু তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেছিল। কার্ল ওয়েসনার তাঁর লেখার প্রেমে পড়ে জার্মান ভাষায় তাঁর লেখার অনুবাদ করেন প্রথম। সেই সব বই এডিশানের পর এডিশান হু হু করে বিক্রি হয়েছিল। এবং পরে ধীরে ধীরে আমেরিকার লিটল ম্যাগাজিনগুলো তাঁর পাশে দাঁড়ায়।

কবিতা ১০

অশান্ত জলস্রোত

এ মেয়েটা থাকে সমুদ্রের উপর

আর দেখতে সিনেমার

উঠতি তারার মতো

তবু তার প্রতি আমার কোনো

যৌন আকর্ষণ নেই।

ওর একটা পিয়ানো আছে আর কতগুলো ড্রাম

আর যখন আমি নেশায় বুঁদ

ওর পিয়ানো বাজাতে ভালো লাগে আমার আর

ড্রাম আর চেঁচিয়ে বলতে ইচ্ছে করে

শব্দ যা আমার মাথায় আসছে।

ও সমানে শুয়ে বেড়ায় নানান পুরুষের সাথে

আর তা নিয়ে আমায় গল্প শোনায়,

‘এখন আমি লিটল জনের সাথে চালাচ্ছি

ওর একটা ছোট্ট মোটা বাঁড়া আছে!’

ও পুরুষদের তোলে

ভেনিসের চওড়া রাস্তায়।

ওর প্রচুর পড়াশোনা আছে আর আছে

একটা সুগঠিত সুন্দর শরীর।

আর ওর সোনালি চুলেরা নেমে এসেছে

পিঠ ছাপিয়ে ওর দারুণ নিতম্ব বরাবর

আর কখনো কখনো ওকে আমি চুমু খাই।

আমাদের সেই একটানা লম্বা ম্যারাথন চুমুগুলো

বেশির ভাগটাই ঘটে রান্নাঘরে।

তারপর আমি পিয়ানো বাজাই আর

চলে আসি ওখান থেকে।

শুধুমাত্র ওই লোকগুলো নয়

আসলে ওই হাসিটা।

ও যখন হাসতে শুরু করে

আপনি শুনতে পাবেন ওর ভিতরটা।

বেচারা লিটল জন ওর ছোট্ট

মোটা বাঁড়া ওকে

বাঁচাতে পারবে না।  

 

কবিতা ১১

২য় উপন্যাস

ওরা চলে আসত আর

জিজ্ঞাসা করত,

‘তোমার ২য় উপন্যাসটা

শেষ হয়েছে আদৌ’?

‘না’।

‘হলোটা কী? হলোটা কী

যে তুমি ওটা

শেষ করতে পারছ না’?

‘অর্শ আর

অনিদ্রা’।

‘হয়ত ওটা হারিয়ে ফেলেছ

তুমি’?

‘কী হারিয়ে ফেলেছি’?

‘তুমি জানো সেটা’।

এবার ওরা এলে

আমি ওদের বলব,

‘হ্যাঁ। শেষ করে ফেলেছি

সেপ্টেম্বরে বেরোচ্ছে’।

‘তুমি শেষ করে ফেললে’?

‘একদম’।

যাইহোক, শোনো, আমাকে

যেতে হবে’।

এমনকি এখানে উঠোনে থাকা

বেড়ালও আমার দরজায়

ঢুঁ মারে না আর।

কী শান্তি।  

 
কবিতা ১২

আদিম আর্তনাদ

সে ভালো কবিতা লিখত কিন্তু তাকেও ঝামেলা পোহাতে হতো

ওদের নিয়ে আর সে আমাকে লিখল এটা জানতে চেয়ে কীভাবে

ওদের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারে আর আমি জানালাম কীভাবে

আর সে কয়েকজনকে ফোটাতে পারল।

কিন্তু, তবু, তার বাড়ি ভাড়া জোগাড় হলো না আর কেউই

তার কবিতার বই ছাপতে চাইছিল না আর সে আমাকে জিজ্ঞাসা করল,

‘আমি কী করব? কেউই আমার কবিতার বই

ছাপতে চাইছে না’?

আর আমি তাকে বললাম, ‘কিছুই কোরো না। তোমার জন্য ওদের খিদে

ঠিকঠাক তৈরি হলে ওরা তোমায় ঠিক খুঁজে নেবে’।

সময় কাটতে লাগল, আর সে অদৃশ্য হয়ে গেল।

তারপর একদিন সে শহরে এলো আর মাতাল হতে চাইল

আমার সঙ্গে। তাকে আমায় না বলতে হলো কারণ তখন আমি

একটি মেয়ের সাথে প্রাণঘাতী লড়াইয়ে জড়িয়ে

আর মেয়েটি মনে হচ্ছিল জিতে যাবে।

সে আবার অদৃশ্য হয়ে গেল। আমি তাকে ভুলে গেলাম। মাসের পর মাস কেটে গেল।

তারপর আমি একটা লম্বা চিঠি পেলাম।

সে আদিম আর্তনাদ পেরোতে পেরেছে। এখন

সে ঠিকঠাক আছে।

চিঠির খামটার ভেতরে ছিল একটা কমিক বই। ওই কমিক বইটার

সে সম্পাদক। সেটা

ছিল যৌনতা উদ্রেককারী। বড় বড় পাছা আর লিঙ্গ।

আমি চিঠির উত্তরে লিখলাম,

দারুণ, আমি তোমার জন্য একটা

কমিক স্ট্রিপ বানিয়ে দেবো।

খুব ভালো, সে উত্তর দিলো, আমাকে

পাঠিয়ে দাও।

একটা স্ট্রিপের জন্য ২৩ ডলার নেবো, আমি

লিখে জানালাম।

সে কোনো উত্তর দিলো না, সে আবার

অদৃশ্য হয়ে গেল।

সে আমায় বলেছিল ওর দাম ৬ হাজার ডলার।

ওই আদিম আর্তনাদ

সত্যিই কাজে দেয়।

 

কবিতা ১৩

আমার ভাগ্যবান বন্ধু

আমার ভাগ্যবান বন্ধু

সে লেখে দৈত্যদের নিয়ে

সে থাকে মহাসাগরের ধারে আর

সে লেখে দৈত্যদের নিয়ে।

নিজের বাড়ি ছেড়ে সে খুব কমই নড়াচড়া করে

সে তার দৈত্যদের নিয়ে থাকে

আর তার মাছের একোরিয়াম নিয়ে।

সে তার হ্যাশ গুঁড়ো করে প্লাস দিয়ে

আমরা কফি টেবিলে পা তুলে

কথা বলি দৈত্য আর মেয়েমানুষ নিয়ে।

ওর নারীরা জানালায় টোকা মারে রাত ৩টের সময়।

ও ওদের লাগিয়ে ওদের ফেরত পাঠিয়ে দেয়

দৈত্যগুলো রয়ে যায়।

ওই দৈত্যগুলোর থেকে যাওয়ার ক্ষমতা আছে।

‘তুমি এই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ লেখক

যে দৈত্য নিয়ে লেখে’, আমি বলি তাকে।

‘তুমিও কিছু কম যাও না,’

সে উত্তর দেয়।

বাইরের গাছগুলোর লম্বা লম্বা আঁকাবাঁকা হাত

 সূর্যের আলোকে সরিয়ে রাখে।

মহাসাগরের গর্জন শোনাই যায় না প্রায়।

আমি যখন ফিরে আসছি

ওর তিন চারটে দৈত্য উঠে পড়ে আমার গাড়িতে

গাড়ি চালাতে চালাতে

আমি শুনি ওরা নিজেদের ভেতর কথা বলছে।

আমি ওদের নামিয়ে দি পিকো আর লাব্রিয়াতে

তারপর কিছুটা এগিয়ে এসে থামি

এক কাপ কফি আর ট্যাকোর জন্য। 

 
কবিতা ১৪
কবিতা পাঠের পর

‘…আমি লোকজনকে দেখেছি তাদের

টাইপরাইটারের সামনে এমন আটকে আছে

যে তাদের নাড়িভুঁড়ি হড় হড় করে বেরিয়ে আসবে

পোঁদ দিয়ে, যদি তারা হাগতে চেষ্টা করে’।

‘আহ হা হা হা হাহাহাহা’!

‘…ওভাবে লেখার জন্য দাঁত মুখ খিঁচিয়ে কাজ করাটা

লজ্জার ব্যাপার’।

‘আহ হা হা হা হাহাহাহা’।

‘উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে প্রতিভার সম্পর্ক

খুব কমই। ভাগ্যই আসলে সেরা আর

প্রতিভা ভাগ্যের পিছন পিছন

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলে’।

‘আহ হাহা’।

সে উঠে দাঁড়িয়ে একজন ১৮ বছরের

কুমারীর সাথে বেরিয়ে গেল, ওদের ভেতর

সব থেকে সুন্দরী সহসম্পাদক।

আমি আমার নোটবই বন্ধ করে

উঠে দাঁড়িয়ে ওদের পিছু পিছু

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে লাগলাম।     

 

কবিতা ১৫

জানালার শার্সি আঁচড়াচ্ছে

তুমি সব সময় দাবি করো

একটা নতুন আমাকে।

তুমি সোফায় বসে বসে

অভিযোগ করে যাচ্ছ।

তোমার কণ্ঠস্বর আঁচড়াচ্ছে

জানালার শার্সি।

আমার মনে হয় আমরা একে অপরের প্রতি

যাই করে থাকি না কেন (আর আমরা

কেউই খুব একটা নিরপেক্ষ নই)

আসলে তোমার কণ্ঠস্বরই

সেই চূড়ান্ত অন্যায়।

আমাদের সমস্ত ধোঁকাগুলো

তোমার আর আমার

তাদেরও ওই কণ্ঠস্বর

প্রাপ্য নয়।

বা

ওই হাহাকারে ফুলে ওঠা

কালো মুখটা

যা এতটাই নিশ্চিত যে

পরের পুরুষটা এমন করবে না

যা আমি করেছি

বা তুমিও তার সাথে সেরকম করবে না

যা তুমি করেছ।

তুমি আঁচড়াচ্ছ গিয়ে

জানালার শার্সি।

কিছুই আসলে পালটে যাবে না

আমি সে কথাই বলতে চাইছি

তোমায়।