প্রদীপ চক্রবর্তী-র কবিতা

Spread This

প্রদীপ চক্রবর্তী

আজনবি 
 
মেঘশস্য মন্থন হেমধূমে সুরভিত 
লোকায়ত স্বপ্নজ্বরচূর্ণ আলো 
ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যের মধ্যে উৎসতাপ 
অস্তিগ্রাহ্যরূপ এই অতীন্দ্রিয় আর্তি নিয়ে 
কেটে গেছে কতকাল ,
শুধু অতীতের প্রতিভাস জাগরূক এখনো 
বাতাস …
সারারাত বর্ষণের পর 
মহার্ঘ্য শুশ্রূষায় এই অস্ত্রবাহী 
শকটের রক্ত হাতে মেখে 
বসে থাকে সৈনিক ,
শুধু এটুকুই দেখতে পাচ্ছি …
 
 
শুধু  এটুকুই শরীরী কুশীলব ,
সংকেত সম্ভাবনায় মহাকাব্যের ইন্ধন থেকে 
সাধনসঙ্গিনী একটি গলিত শবকে 
জাগিয়ে রাখে অজ্ঞেয় আবর্তে 
অভিঘাত প্রজ্বলিত পরমাণু কেন্দ্রের ভেতর …
 
এ এক অদ্ভুত বর্ষা নামলো শহরে তখন ,
কোনো গান ছিলো না 
অবনত নিরঞ্জন শ্রমে তৈরি একেকটা আপস
 
নীল রঙ মেশানো আকাশের বাড়িঘর 
মুখ জিহ্বা যোনি কিংবা জরায়ু জলের 
ওম ধারণ করলাম 
কুড়োনো কুহু ডাকা ভোর এসে 
পৃথিবীর তীব্রতম শুক্রাণু ধারণ করছে কতো !
 
রক্তাল্পতা মাখা শিশুর অভুক্ত অন্বেষণ বা 
আমৃত্যু আত্মরসে লৌহমল ,
বিজড়িত মনের মাত্রাহীন অসীম ,
 চরাচরের ধুলো ,ক্রমে একা একা সেই যুদ্ধ 
 
কবেকার ভাগবতী তনু খুবই চিরহরিতের 
হাঁসুলি বাঁকে কেন এলো না জীবিকারমণীর 
অন্তর্ধ্বনি 
অঙ্গনে প্রথম গান , জখমের রক্তমুখগুলি 
 
স্বরচিত গতি তার তালে তালে 
ভুক্ত পরিতৃপ্ত নাবিকের হাড়গুলি 
বালিতে ছড়ানো আছে  নোঙরের কাছে 
নিজস্ব তমোক্ষমতায়  স্বপ্নপাড় ভাঙে আর ভাঙে 
মেঘের অম্লান শরীরশস্য থৈ থৈ জলৌকার 
সাতনরি ঘুমের ফাটলে লেগে থাকে ….
 
 
মঞ্জিল 
 
বৃষ্টিক্রিয়া  ওষুধে ওষুধে জড়িয়ে আছে 
আরো নিস্পৃহ বুকের তিল 
নদী তদন্তের পর খুনের ভেতর ঘুমিয়ে পড়েছে 
যামিনীর স্ত্রীমায়া 
 
 
বাতাস লেগে ফিসফিসিয়ে ওঠে ,
কিন্তু  ছেঁড়ে না চাঁদ কুমারী 
জন্তুটাকে আমরা কেউ দেখতে পাই নি 
জলবিভাজিকা পেরিয়ে চলে যাচ্ছি 
 
 
মধ্যপ্রাচ্যের মধুশালা  পৈশাচী প্রাকৃতে লেখা 
গণমনে নেশা হলো  রটনা 
 
 
ঈষৎ বৃষ্টি ,
কুসুমিত বিহি অনুকূল
 টুটত সকল দ্বন্দ্ব 
আজু মনোসিজ 
 
 
চাঁদ কুমারী রাঁধতে রাঁধতেও বৃষ্টি ফোঁটায় 
গুল্মঝোরার জলে খেলা করে অথৈ ট্রাম্পেট 
কাকভোরে চোর যাচ্ছে 
সম্প্রসারিত আমগাছের দেশে 
ছায়া বরাবর সাজানো চাঁদ কুমারী 
তারই মিনিয়েচার এই মাটির দেশটি যেন 
হালকা ফাৎনা …