হিয়া মুখোপাধ্যায়-এর কবিতা

Spread This

হিয়া মুখোপাধ্যায়

লা পিজ দেলা বাস্তিল 
 
 
আবার এসেছে সেই বেয়াদব রোদ চামড়ার গাঁথুনিতে চড়চড় করে ফুটে উঠছে ক্রিসেন্থেমামের মত আমাদের পা হড়কে যাচ্ছে আমাদের স্নায়ুগুলো খলবল করে উঠছে আবার এসেছে সেই মাথাখারাপ মাথাখারাপ রোদ চল শালা আজ এস্পার নয় ওস্পার আজ মাথার মধ্যে টুকরো টুকরো নৈরাজ্য নিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়বো সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ জুড়ে ছড়িয়ে দেবো নাশকতার রঙীন মোজেইক র‍্যাঁবোর দিব্যি শালা আজ গোটা কলকাতাই নীট গিলে নেবো মাঝেরহাট থেকে রাজাবাজার দমদম জংশন থেকে যাদবপুর আজ গোটা শহর ছেয়ে আসবে অতিকায় প্রাগৈতিহাসিক সব বাওবাব জানলায় জানলায় ছেয়ে আসবে অনতিক্রম্য আমাজনিয়ান ফার্ন ওগো তেলতেলে ভালোমানুষ ওগো সুষমিত নাগরিক সমাজ তোমাদের নকশাদার গ্রীলগুলো কত যুগ যাবৎ জং ধরে আছে তোমরা ঘুমোও আজ কোনো অবস্থাতেই ঘরের বাইরে এসো না আজ ভ্যান গখের কাকেরা ফ্রেম থেকে সটান মুক্তি পেয়ে প্রতিশোধের তাড়নায় উড়ে বেড়াচ্ছে এই ডিশ অ্যান্টেনাময় শহরের আকাশে আকাশে ইটারনিটিজ গেট-এর রিক্ত প্রৌঢ়টি আজ কাঁধে রাইফেল তুলে নিয়েছেন আর প্রতিটি পথচারীর কলার ঝাঁকিয়ে প্রশ্ন করছেন বল বল সুন্দরকে ক্যানো খুন করেছিলি তোরা আজ এই খুনে রোদে শহরের সব পিচ গলে মুহূর্তেই একাকার আজ আর কোনো অ্যাকাডেমি মিটিং মিছিল সাহিত্যসভা নয় আজ আর কোত্থাও কোনো ডেডলাইন নেই কার্নিশে কার্নিশে আজ একবুক আক্রোশ নিয়ে বেজে উঠছে আরণ্যক সেই জেম্বে শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় মুহূর্তেই বদলে গ্যাছে ধু ধু সাভানায় আর গন্ডারের পিঠে চেপে আজ আমরা বেরিয়েছি ঔপনিবেশিক এক তাড়নায় আজ এই প্ররোচনামূলক রোদে বারুদের গন্ধ আর পুনর্দখলের অশ্লীল সংকেত বাইপাসের ধারের সুসজ্জিত হোর্ডিংগুলো অচিরেই বদলে গ্যাছে পিকাসোর ফ্রেমে গড়িয়াহাট মোড়ে উন্মাদের মত পিয়ানোয় ঝড় তুলছেন বিটোফেন সেক্টর ফাইভের সুউচ্চ কর্পোরেশনগুলোর দেওয়ালে দেওয়ালে স্প্রে পেন্ট দিয়ে মুখে রক্ত তুলে সুকান্ত লিখছেন দিনবদলের অমোঘ উচ্চারণ আজ এই উপপ্লবের মত রোদে টেলিভিশন টাওয়ারের চূড়া থেকে সিলভিয়া প্লাথ ছড়িয়ে দিচ্ছেন কবিতার বিস্ফোরক প্যামফ্লেট আর উল্কাপাতের মত শিশুদের নার্সারিতে এসে আছড়ে পড়ছে মায়াকোভস্কির জ্বলন্ত সব অক্ষর মেটিয়াবুরুজ থেকে কানাকানির মত ভেসে আসছেন জ্যানিস জপলিন কলেজ স্কোয়ারে আজ দারুণ ডুয়েল বাংলার গ্লাসে গ্লাস ঠেকিয়ে উল্লাস বলে চেঁচিয়ে উঠছেন হেমিংওয়ে আর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ শালা ছাড়াছাড়ি নেই আজ এই মাশরুম ক্লাউডের মত তেজস্ক্রিয় রোদে সাংস্কৃতিক হুন্ডির হাতবদল হবে আজ থেকে শিল্পের নামে ক্যাবারে নিষিদ্ধ এ শহরে আজ প্রতিটা অসম্ভব আত্মহত্যা থেকে উঠে আসবে অলীক নুয়েভা ট্রোভা হারামজাদা কলকাতার ঘাড়ে চেপে আজ সহবত শেখাবো আমরা আজ এই একবুক তিতকুটে রোদে খাবি খেয়ে মরতে মরতে ও শালি শিখুক বেঁচে থাকা ঠিক কাকে বলে
 
 
 
নিরুদ্দেশ সম্পর্কে ঘোষণা
 
ইভান ইভান তুমি যেখানেই থাকো ফিরে এসো ইভান ইভান তোমার পরিজনেরা তোমাকে খুঁজছেন সাইবেরিয়ান রাজহাঁস আর স্কাসকার সঙ্গমরত ঘোড়াদের দল তোমাকে খুঁজছে  হল্লা স্ট্রীটের মুহ্যমান রুটি ও কেকের দোকানিরা তোমাকে খুঁজছেন বাইশ বছরের পুরোনো ঠান্ডা হাত তোমাকে খুঁজছে সিফিলিস আক্রান্তদের এই শহরে কবে তুমি আমূল নেমে আসবে আর  রৌদ্রমুখর সেই শাস্কা ঝলসিয়ে আমাদের সকলের অসুস্থ ছায়াগুলো নিরুপম কেটে ফেলবে আমরা অপেক্ষা করছি স্পেস স্টেশনের সোনালি চুলের ব্যথাতুর মহাকাশচারিণী অপেক্ষা করছে রেশন দোকানের লাইনে সেই বরফশীতল ধ্বস্ত আঙুলগুলো অপেক্ষা করছে ইভান ইভান শুধুমাত্র তোমার জন্য তেলতেলে এই সভ্যতার শ্রবণোত্তর কম্পাঙ্কে রেডিও তরঙ্গে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে এই ঘোষণা তুমি যেখানেই থাকো ফিরে এসো  কারণ আন্নুশকা নাম্নী প্রতিটি যুবতী আজ ঋতুসম্ভবা কারণ বিরুদ্ধ ট্রেঞ্চের সৈনিকদের সাথে ক্রিসমাস পালন করেছিলো যে ছটফটে স্নাইপার তার কোর্ট মার্শাল আজ আসন্ন কারণ স্বভাববিরুদ্ধ ভাবে যে গেরিলা যুবতী নিজের রাইফেলের বাঁটে খোদাই করে রেখেছিল মৃত কমরেডদের নাম বাইশ বছর যাবৎ সে কোনো আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দ্যাখেনি  ফিরে এসো কারণ রাত্রি গভীর হলে পরিত্যক্ত ফেয়ার গ্রাউন্ডে  মাথাভর্তি নাশকতা নিয়ে যারা ছুটে যায় এ সভ্যতা আজো তাদের চোখে চোখ রাখতে অস্বীকার করে পেত্রোগ্রাদের সিন্ডারেলার চোখে গত বাইশ বছর ধরে ঘুম নেই ইভান রাশিয়ান পাইনের নিঝুম কোটরে অপেক্ষায় অপেক্ষায় সে আজো পাথর হয়ে আছে শুধু ও  শুধুমাত্র তোমার জন্য ক্যারোসেল ফ্যাক্টরির অন্তরালে আজো অপুষ্টিতে ভোগা এক কিশোরের বাহুমূলের উল্কিতে তুমি জ্বলজ্বল করে উঠছো অ্যালেক্সান্দ্রোভের অন্ধ অর্গান বাদকের প্রতিটা হারমোনিতে আজো তুমি অভ্রান্তভাবে বেজে উঠছো আর তেজস্ক্রিয় আগুনে পুড়তে পুড়তে শেষ হয়ে যাচ্ছে একটা আস্ত উপমহাদেশ আর পুড়তে পুড়তে শেষ হয়ে যাচ্ছে গ্রাম থেকে নগর থেকে পাহাড় জঙ্গল মহাসাগর ইভান ইভান তুমি ফিরে এসো আমাদের যন্ত্রণাগুলো অনুবাদের জন্য ছটফট করছে সবার অলক্ষ্যে বাইশ বছর পুরোনো ঠান্ডা হাতগুলো ছাইচাপা আগুনের নিচে প্রস্তুত হচ্ছে বন্দরে বন্দরে কানাকানির মত চাউর হয়ে যাচ্ছে এক অলীক মার্চিং সং আর সকলের অলক্ষ্যে বিশ্বের শীতলতম প্রদেশে আমাদের চোয়ালগুলো শক্ত হয়ে উঠছে ক্রমে তাই ইভান ভাই আমার তুমি যেখানেই থাকো পত্রপাঠ  ফিরে এসো কারণ সম্ভাব্য প্রতিটা বিস্ফোরণ তোমাকে খুঁজছে