রাজীব ঘোষাল-এর কবিতা

Spread This

রাজীব ঘোষাল

১। ডানার ওমে

বুকের ভেতর বেদনা বাজার ঝমঝম ধ্বনি
কে আর শুনতে পায়!

তলোয়ারের খাপ থেকে বের হয়ে আসা
উদগ্র ভালোবাসা
সটান বসিয়ে দিয়ে প্রেমিকের বুকে

তরঙ্গে মধু নিক্ষেপ করে
দূরের ধূমায়িত জোড়া-পাহাড় …
মাখায় সঘন প্রেম।
ক্লান্ত চিবুক গুঁজে দেয় হাঁসিনীর মতো
ডানার ওমে …

২। চরাচর

সে এক অন্য পৃথিবীর কথা
কচু পাতায় টলটল করতে থাকা
শিশির জলে, দু’টি প্রজাপতির স্নান

লোহা লক্কড়ের গাছপালা পেরিয়ে
সে এক ভিন্ন প্রযত্নবিধি …

যেখানে কেউ কাউকে মানুষ বলে গঞ্জনা দেয় না
কাকাতুয়া,ইঁদুর,শেয়াল,উইপোকাদের
খোদাই শিল্প
হাঁ করে দেখতে থাকে চরাচর …

৩। লোপাট

কয়েক লক্ষ বছর পরে জানা গেল
পৃথিবী নামের এক মধুক্ষরা গ্রহে মানুষেরা ছিল।
ছিল চাঁদ নামের উপগ্রহ।
চাঁদের মাটি সর্বরোগহর চাউর হবার পর
সেখান থেকে লোপাট হতে লাগল
লক্ষ লক্ষ ঝুড়ি মাটি।

আরও জানা গেল অনেকেই প্রেমিকাকে
চাঁদপানা মুখের দোহাই দিয়ে মান ভাঙাতো
বাচ্চাদের ভোলাতে মা-বাবারা চাঁদকে টি-দিতে
ডাক পাড়তো…

সত্যি হল গিয়ে জোছনা দেবার জন্য
চাঁদটাই পুরো লোপাট হয়ে গেছে …

৪। পানসি

আয়না-আঁটা রসাতলে ভেসে ওঠা পানসি
বেদনার সুখ হয়ে বিব্রত করে কেবল…

ওদিকে আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘে মেঘে
লাফ দিচ্ছে বিরহ

মরা নক্ষত্র গাঁজিয়ে বানানো সুরায়
চুর হয়ে আলং ঝালং নেচে চলেছে
আগামী সভ্যতার দুই বাহক…

একটি নাম না-জানা পাখির দু’চোখ বেয়ে
যেন নেমে আসছে অমৃতের ধারা