সম্পাদকীয়

Spread This

এই অনিশ্চিত সময়ে নিজেদের কিছুটা ঝাঁকিয়ে দেখতে ইচ্ছে করলো। যেখানে হাজার হাজার জানলাগুলো এই বন্ধ দিনে এই চলমান ভাষার গল্প শোনায়। নিজস্ব হরিণখানার গল্প। আসলে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে প্রতিটা সাধারণ মানুষ নিজেদের চিমটি কেটে দেখছে, বেঁচে আছে কি না! এই মৃত্যুভয় আসলে সার্কাসের খেলা! অনেকটা মৃতপ্রায় হয়ে বেঁচে থাকা। যেমন মরা অঞ্চল জুড়ে ছত্রাক জন্মায়। এতে রাষ্ট্রের সুবিধা। কারণ রাষ্ট্র অনেকটা ব্যাঙের ছাতার ভেতর থাকতে ভালোবাসে। আর আমরাই সেই ছাতা। কিন্তু স্যাঁতস্যাঁতে। গন্ধ। সুন্দর মোড়কে।

ওহে নাগরিক, তুমি কি ভুলে গেছো, মৃত আত্মার সঙ্গে সহবাসে সদ্যোজাত ঘুমের কোনো চিৎকার থাকে না… থাকে শুধুমাত্র সরীসৃপদের আত্মমৈথুন!

মানুষের চামড়া লাগানো শরীরটা আর একটু না হয় বুক ঘষে চলুক। পায়ে পায়ে পোয়াতি রক্ত লেগে থাক, আমাদের উচ্চারণে। না রাষ্ট্র আমাদের মাদারির গান শোনাতে পারে। এখনও ধর্মীয় পোকামাকড় দিয়ে আমাদের যোনির পথ থেকে যে, কাঁচা আলোর শব্দ নির্মাণ হয় তাকে আমরাই ধর্মীয় নাম দিই। ওহে মানুষের বাচ্চা? তোর ধর্ম কী কী!

রাষ্ট্র এটাই দেখতে চায়। আমরা এটাই দেখি। তাই রোজ কোটি কোটি গাছের হত্যা হয়। রোজ প্রান্তিক মানুষেরা শুধুমাত্র রাজনৈতিক পুতুলে পরিণত হয়। রোজ আমাদের শিরায় উপশিরায় এক অনিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রের জন্মদিন পালন।

ক্রমাগত এই বন্ধ জীবন আমাদের এই নিয়ন্ত্রিত বর্ণমালায় নিয়ে যাচ্ছে। যেখানে হয়তো সুদূর পথ জুড়ে শুয়ে থাকবে, আমাদের আরও একটা অসময়ের চিত্রনাট্য। আমরা কেবল আমাদের শরীর ও খোলস দেখে যাবো। আমি আমার কথা শুনবো কান পেতে। মাটিতে শুয়ে। সেই রেডিও স্টেশন। সেই… নিভৃত উৎসব!

তাই এই সময়ের ভাষা নিয়েই “চলভাষ”। নিজেদের কিছুটা ঝাঁকিয়ে নিয়ে আস্তিন গোটানোর খেলা মাত্র…